রাজস্ব আদায় নয়, প্রাণ বাঁচাতেই কড়াকড়ি নয়া মোটর ভেহিক্যাল আইনে: ব্যাখ্যা গড়করির

0
113
kolkata bengali news

মহানগর ওয়েবডেস্ক: নয়া মোটর ভেহিক্যাল আইনের জালে জর্জরিত প্রদেশগুলি। জরিমানার অংক এতটাই বেশি যে কখনও তা আকাশ ছুঁয়ে ফেলছে। এই অবস্থায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দিয়েছেন, কেন্দ্রের নয়া আইন লাগু হবে এ রাজ্যে। খোদ নরেন্দ্র মোদীর রাজ্য গুজরাটেও ৯০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হয়েছে। এহেন পরিস্থিতর মুখে খানিকটা চাপে পড়ে বর্ধিত হারে জরিমানা আদায়ের ব্যাখ্যা দিলেন কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রী নীতীন গড়করি। তিনি বললেন, অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়ের স্বার্থে এই নিয়ম লাগু করেনি কেন্দ্র। বরং জীবন রক্ষার তাগিদে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কোথাও জরিমানার পরিমাণ ২০ হাজার, কোথাও ৫০, কোথাও আবার পরিমাণ পেরিয়ে গিয়েছে ১ লক্ষ! এই নিয়ে টানাপড়েন ও ধন্দের মাঝে গড়করি জানালেন, জরিমানা কমানোর দায় রয়েছে রাজ্য সরকারের ওপর। তাঁকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘যে সমস্ত রাজ্য জরিমানা ধার্য করতে অস্বীকার করছে তাদের বলি, জীবন কি অর্থের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ? প্রাণ বাঁচানোর স্বার্থেই তো এই নিয়ম চালু করা হয়েছে।’ গড়করি আরও বলেন, ‘আমার প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষের জীবন বাঁচানো। সেই কারণেই নতুন আইন লাগু করা হয়েছে। কিন্তু, এই আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ করতে রাজ্য সরকারগুলোর সহায়তা প্রয়োজন। আমি দরকার পড়লে সব মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনা করব। আমার মতে, দল ও রাজ্য নির্বিশেষে এই আইন কার্যকর করলেই মঙ্গল হবে।’

বস্তুত, বুধবার সারাটা দিনই খবরের শিরোনামে রইলেন কেন্দ্রীয় পরিবহণ মন্ত্রী। প্রথমে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণের হয়ে ব্যাট ধরেন তিনি। সীতারমণের দাবি ছিল, নতুন প্রজন্ম ওলা-উবেরে চড়তে পছন্দ বেশি করছে, সেই কারণে গাড়ির বিক্রি কমে যাচ্ছে। এই মন্তব্যের পর বিতর্ক সৃষ্টি হলে মাঠে নামেন গড়করি। বোঝানোর চেষ্টা করেন, ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের। এরপর মোটর ভেহিক্যাল আইনে বর্ধিত জরিমানা প্রসঙ্গেও মুখ খুললেন তিনি। অবশ্য এত ব্যাখ্যা সত্ত্বেও একটা প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, খোদ বিজেপি শাসিত প্রধানমন্ত্রীর রাজ্যই যখন জরিমানার চাপে পড়ে ৯০ শতাংশ ছাড় দেয়, তখন বাকি রাজ্য এই ‘বোঝা’ সামাল দেবেন কী ভাবে?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here