ডেস্ক: বিহারে এনডিএ শরিক তথা শাসকদল জেডিইউ এবং বিজেপির মধ্যে বনিবনার অভাব হচ্ছে। এমন জল্পনা বিগত কয়েকদিন ধরেই ঘুরপাক খাচ্ছে সংবাদ মাধ্যমে। নীতীশ কুমার নিজেও বিহারের জন্য ‘স্পেশাল স্ট্যাটাস’ দাবি করে বিপাকে ফেলছেন মোদী-শাহকে। এরমধ্যে, আগামী লোকসভা নির্বাচনকে লক্ষ্যে নিয়ে ঝোপ বুঝে বড়সড় কোপ মারতে চাইছে নীতীশের দল। রবিবার জেডিইউর বৈঠক শেষে নীতীশের দলের মুখপাত্র অজয় অলোক সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়ে দেন, আগামী লোকসভা নির্বাচনে ৪০টির মধ্যে ২৫টি আসনে লড়বে তাদের দল। অন্যদিকে, বিজেপির জন্য ১৫টি আসন ছেড়ে রাখা হবে বলে জানান তিনি।

জেডিইউর এই বক্তব্যেই সাফ হয়ে গিয়েছে, বিহারের রাশ কোনও ভাবেই বিজেপির হাতে ছাড়তে চাইছে না তারা। যথারীতি এই প্রশ্নও উঠে যাচ্ছে, বিহারের আসন সংখ্যা নিয়েও কি তবে নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে ব্যক্তিগত বোঝাপড়া হয়ে গিয়েছে নীতীশের? কিন্তু বিজেপির তরফ থেকে বিষয়টি নিয়ে এখনও মুখ না খোলার কারণে কিছু রহস্যও ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে।

কারণ, ২০১৪ লোকসভা নির্বাচনে ৪০টি লোকসভা আসনের মধ্যে ২২টি একাই জিতেছিল বিজেপি। অন্যদিকে এনডিএর দুই শরিক রামবিলাস পাসোয়ান এবং উপেন্দ্র কুশওয়াহা পেয়েছিলেন ৬ ও ৩টি আসন। ফলে ৩১টি আসনে দখল নিতে পেরেছিল এনডিএ জোট। সেখানে নীতীশের দল জেডিইউর ভাগ্যে জুটেছিল ২টি আসন। তুলনামূলক ভাবে ভাল ফল করে ৪টি আসন পেয়েছিল লালু প্রসাদের আরজেডি। সেই সময় এনডিএ সরকারের সঙ্গে নীতীশের জোট ছিল না। এখানেই প্রশ্ন উঠছে, ২০১৪ সালে যেই আরজেডি বিহারে মাত্র ২টি আসন লোকসভা আসন পেয়েছিল, সেখানে কোন ভরসায় নীতীশকে ২৫টি আসন ছেড়ে দেবেন বিজেপি ভোট ম্যানেজার অমিত শাহ? একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠছে, জেডিইউ এই সমীকরণ অনুসারেই যদি আসন বণ্টন হয়, তবে রামবিলাস পাসোয়ানের ভূমিকা এবং অবস্থান কী হবে? নিশ্চিতভাবে ২০১৯-এর রঙ্গমঞ্চ ভারতীয় রাজনীতির সবচেয়ে রোমাঞ্চকর খেলা দেখাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here