kolkata bengali news

Highlights

  • শিশু থেকে এক মুহূর্তে বৃদ্ধ
  • রাগের বশে কলমের এক আঁচড়ে বেড়ে গেল একেবারে ১০০ বছর বয়স
  • ৫০০ টাকা করে ঘুস চাওয়ার অভিযোগ

মহানগর ওয়েবডেস্ক: শিশুদের জন্মের প্রমাণপত্র চাই। তাই পরিবারের সদস্যরা দ্বারস্থ হয়েছিলেন গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের। সিএএ-এনআরসি-এনপিআর নিয়ে ভয়। তাই জন্মের পর করানো না গেলেও স্কুলে ভর্তির আগেই কাগজপত্র ঠিক করে নিতে চেয়েছিলেন পরিবারের লোকেরা। কিন্তু ২ ছেলের সরকারি নথিতে যা বয়স এল তা দেখে মাথায় হাত পরিবারের।

এতে হিতে বিপরীত। জন্মের তারিখ ভুল, তাও আবার ইচ্ছে করে! এই কাগজে তো নাগরিকত্ব প্রমাণ করাই যাবে না। বাড়ির ওপর রাগের বশেই শিশুদের বয়স ভুল করেছে। উত্তর প্রদেশের বেরিলি এলাকার শাহজাহানপুরের খুতার থানার অন্তর্গত বেলা গ্রামের পঞ্চায়েত প্রধান ও তাঁর সহযোগীর এই কাজে এলাকা জুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। বয়স বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে শিশুদের। তাও মাস খানেক বা কয়েক বছর নয়। রাগের বশে কলমের এক আঁচড়ে বেড়ে গেল একেবারে ১০০ বছর বয়স।

বারবার অনুরোধ করলেও তাতে কান দেওয়া হয়নি। তাই তথ্যও ঠিক হয়নি। সন্তানদের প্রথম সরকারি নথিই ভুল। এখন সঠিক তথ্য হিসেবে কী ব্যবহার করবেন তা নিয়েই চিন্তিত পরিবার। অবশেষে উপায় না দেখে পরিবারকে আদালতের দ্বারস্থ হতে হলো। সব শুনে আদালত চত্ত্বরে সকলের চোখ কপালে। হাসবে না কাঁদবে কিছুই ভেবে পাচ্ছেন না তাঁরা। তবে তদন্ত চলছে বলে জানানো হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে।

বড় ছেলে শুভর বয়স ৪। জন্ম ২০১৬ সালের ৬ জানুয়ারি। জন্মের প্রমাণ পত্রে বয়স বেড়ে হয়েছে ১০৪। জন্ম তারিখ ৬ জানুয়ারি হলেও, সাল লেখা রয়েছে ১৯১৬। ছোট ছেলের জন্ম বছর ১৩ জুন, ২০১৮। বয়স ২ বছর। অথচ বয়স তারও বেড়েছে ১০০ বছর। নথিতে জন্মের তারিখ একই থাকলেও। সাল রয়েছে ১৯১৬। নথিতে ছোট ভাইয়ের বয়স ২ এর বদলে ১০২!

এরকম ভুল কেন? পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী যোগী বলছেন রামরাজ্য চলছে। জন্মের প্রমাণ পত্র নিতে গেলে সমস্ত প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া হলেও টাকা চাওয়া হচ্ছে। প্রতি শংসাপত্রে ৫০০ টাকা করে দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ। তা দিতে রাজি হয়নি শিশুদের পরিবার। ‘ঘুস’ দিলেই মিলবে জন্মের প্রমাণ। আর তা না হলেই অনাগরিক! বিনা মূল্যের পরিষেবায় এত টাকা দেওয়ার সামর্থ নেই বলে জানানো হয় পরিবারের পক্ষ থেকে। এরপর হাজার অনুরোধ। তাতেও কাজ না হলে উপায় না পেয়ে আইনের দ্বারস্থ শিশুদের পরিবার। ঘিরে ধরেছে সন্তানদের নাগরিক্ত্ব নিয়ে ভয়ও। অবশেষে আদালতেই বিচারের আশায় যেতে হলো মামা পবন কুমারকে। অভিযোগ, ইচ্ছে করেই ভাগ্নাদের বয়স ১০০ বছর করে বাড়িয়েছেন পঞ্চায়েত প্রধান ও সহযোগী।

পুলিশের পক্ষ থেকে স্টেশন হাউস অফিসার তেজপাল সিংহ বলেন, স্থানীয় বাসিন্দা পবনের অভিযোগ শিশুদের জন্মের প্রমাণপত্র হিসেবে গ্রাম প্রধান প্রবীণ মিশ্র ও উন্নয়ন কর্মকর্তা সুশীল চাঁদ অগ্নিহোত্রী ৫০০ টাকা করে দাবি করেছেন। প্রথমে এই ফাঁদ এড়াতে অনলাইনেই নাকি নথির আবেদন জানিয়েছিলেন পবন, থানা সূত্রে এমনই জানা গিয়েছে। তবে সেই টাকার দাবি নাকি এড়ানো সম্ভব হয়নি। আর তা দিতে অস্বীকার করার পরেই পরিবারকে হয়রান করতে এই ভাবে ভুল তথ্য দিয়ে নথি তৈরি করা হয়েছে বলে মনে করছেন পুলিশ আধিকারিকরা। আরও জানানো হয়েছে, আদালতের কাছ থেকে আদেশ নামা পেয়েছে থানা। উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‘সৎ’ বলে দাবি করে যোগী সরকার। তাঁর রাজ্যেই এমন ঘটনা। এখন দেখার ন্যায় বিচার নাকি শাস্তি কী অপেক্ষা করে আছে ১০২ ও ১০৪ বছরের শিশুদের পরিবারের জন্য।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here