news international

মহানগর ওয়েবডেস্ক: আমেরিকায় পৃথিবীর মধ্যে সবথেকে বেশি কোভিড পরীক্ষা হয়েছে এবং সেই কারণেই আক্রান্তের সংখ্যা বেশি দেখাচ্ছে বলে জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চিন, রাশিয়া, ভারত, ব্রাজিল কোনও দেশই এত বেশি পরীক্ষা করেনি যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র করেছে বলে মন্তব্য করেন প্রেসিডেন্ট। হোয়াইট হাউসের গোলটেবিল বৈঠকে একই সঙ্গে তিনি জানান, করোনাভাইরাস অক্রান্তের মৃত্যুহার সারা বিশ্বের মধ্যে আমেরিকায় সব থেকে কম। এখনও পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৩৪ লক্ষ মানুষ কোভিড–১৯ সংক্রমণে আক্রান্ত হয়েছে ও মৃত্যু হয়েছে ১ লক্ষ ৩৭ হাজার রোগীর।

সংক্রামিতের সংখ্যা এত বেশি হওয়ার কারণ হিসেবে ট্রাম্প বলেন, ”আমরা যে কারও থেকে বেশি পরীক্ষা করেছি। যখনই আপনি পরীক্ষা করবেন তখনই সংক্রামিতের সংখ্যা বেড়ে যাবে। আমি আপনাদের বলতে পারি অনেক দেশ রয়েছে, যেখানে কেউ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে বা ডাক্তারের কাছে আসলে তাদের পরীক্ষা করা হচ্ছে। সেই কারণেই তাদের দেশে সংক্রামিতের সংখ্যা কম। অন্যদিকে আমাদের দেশে সংক্রামিতের সংখ্যা এত বেশি।”

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কোভিড–১৯ সংক্রমণে মৃত্যুহার সবথেকে কম জানিয়ে প্রেসিডেন্ট বলেন, ”আমরা দারুণ কাজ করছি। ভ্যাকসিনের ব্যাপারে আমরা অত্যন্ত ভালো কাজ করছি, চিকিৎসার ব্যাপারে দারুণ দারুণ কাজ করছি। আমার মনে হচ্ছে আর কিছুদিনের মধ্যেই আমরা অত্যন্ত ভালো কিছু খবর পেতে চলেছি।”

অতিমারীর সঙ্গে যুদ্ধে আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট জানান, ”আমরা অবশ্যই সেরা। পৃথিবীর যে কোনও দেশের মধ্যে সব থেকে বেশি পরীক্ষা করেছি আমরা। উদাহরণ হিসেবে যদি চিনের কথা ভাবেন, যদি রাশিয়ার কথা ভাবেন, যদি ভারতের কথা ভাবেন, যদি তারা আমাদের মতো করে পরীক্ষা করত তাহলে (সংক্রামিতের) সংখ্যা দেখে আপনারা অবাক হয়ে যেতেন। এই প্রসঙ্গে ব্রাজিলের কথাও বলা দরকার। ব্রাজিল খুব বড় সমস্যার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু তারা কেউই আমাদের মতো এত পরীক্ষা করেনি।”

আমেরিকায় সংক্রমিতের সংখ্যা নিয়ে সমালোচনার উত্তরে তিনি বলেন, ”আমাদের এত বেশি পরীক্ষা হওয়ার কারণেই দেশে সংক্রামিতের সংখ্যা এত বেশি দেখাচ্ছে। আমরা এখনও পর্যন্ত সাড়ে চার কোটি মানুষের পরীক্ষা করেছি। আমরা যদি এর অর্ধেক পরীক্ষা করতাম, সংক্রামিতের সংখ্যাও অর্ধেক হয়ে যেত। আমরা যাদি তারও অর্ধেক পরীক্ষা করতাম তাহলে সংক্রামিতের সংখ্যাও আরও অর্ধেক হয়ে যেত। তখন সবাই বললত, ওহ, আমরা কত ভালোভাবে (অতিমারী) সামলেছি।”

একটি প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প জানান, ”আজ এই অবস্থার জন্য চিন দায়ী। চিনা প্লেগ, চিনা ভাইরাস, যা খুশি আপনি এর নাম দিতে পারেন। এই ভাইরাসের ২০ রকমের নাম রয়েছে। কিন্তু তারা (চিন) যা করল এটা কোনওদিন ভোলা যাবে না।” বাণিজ্য যুদ্ধ এবং তারপর কোভিড–১৯ অতিমারী এই দুই ঘটনার প্রভাবে মার্কিন–চিন সম্পর্ক অত্যন্ত তিক্ত হয়ে পড়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here