মহানগর ওয়েবডেস্ক: মন্ত্রীসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের পর ন’দিন কেটে গেল, কিন্তু মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষে এখনও পর্যন্ত মন্ত্রীদের দফতর বন্টন করা সম্ভব হল না। ২৮ জন মন্ত্রীর মধ্যে ২০ জন ক্যাবিনেট ও বাকি ৮ জন রাষ্ট্রমন্ত্রীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিবরাজ সিং চৌহান তার মন্ত্রীসভা সম্প্রসারিত করেন। সেই সম্প্রসারণের পর মুখ্যমন্ত্রী ও সদ্য কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপি’তে যোগ দেওয়া জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া দু’জনেরই হাসি চওড়া হয়েছিল। কিন্তু ৯ দিনের মাথায় আপাতত দু’পক্ষের স্নায়ুর লড়াইয়ে হাসির আর লেশমাত্র অবশিষ্ট নেই।

দফতর বন্টন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী গত সপ্তাহে তিনবার ক্যাবিনেট মিটিঙ ডেকেও বাতিল করে দিয়েছেন। দফতর বন্টন নিয়ে টালবাহানার অন্যতম কারণই হল সিন্ধিয়া অনুগামী ও মুখ্যমন্ত্রীর অনুগত বিধায়কদের দফতর নিয়ে ঐক্যমত না হওয়া।

২২ জন অনুগামী নিয়ে কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপি’তে যোগ দিয়ে প্রকারন্তরে বিজেপিকে মধ্যপ্রদেশের রাজ্যপাট উপহার দিয়েছিলেন সিন্ধিয়া। তার প্রতিদান মূল্যটা যে একটু চড়ার দিকেই হবে সেটা আগাম বুঝতে পেরেই শিবারাজ সিং চৌহান মন্ত্রীসভা সম্প্রসারণ করেই দিল্লি ছুটেছিলেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সহায়তায় শ্যাম ও কূল দুই রাখার জন্য। ৫ জুলাই রাজধানীতে গিয়ে ৮ জুলাই,  বুধবার রাজ্যে ফিরে এসে শিবারাজ জানিয়েছিলেন বৃহষ্পতিবারই দিল্লি থেকে দফতর বন্টনের তালিকা আসছে। বৃহষ্পতিবার এসেছে নিয়মমাফিক শুধু তালিকাটি এখনও পর্যন্ত এসে পৌঁছয়নি।

মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যে ফিরলেই সক্রিয় হয়ে উঠেছিলেন সিন্ধিয়া। তিনি রাজ্যের বিজেপির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা বিনয় সহস্রাবুদ্ধের সঙ্গে দেখা করেন এবং সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা’র সঙ্গে কথা বলেন। যে ২৮ জন মন্ত্রী সম্প্রসারিত মন্ত্রীসভার জন্য শপথ নিয়েছেন তাদের মধ্যে ১২ জন রয়েছেন সিন্ধিয়া অনুগামী। সূত্রের খবর গুরুত্বপূর্ণ দফতর নিয়েই চৌহান ও সিন্ধিয়ার মধ্যে দর কষাকষি চলায় অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।

বিজেপি বিধায়ক ও প্রাক্তন মন্ত্রী অজয় বিশনয় সংবাদ মাধ্যম দ্য প্রিন্ট’কে বলেন, ”ওরা (সিন্ধিয়া) প্রথমে মন্ত্রকের সংখ্যার বিষয়ে দরাদরি করছিল, এখন দরাদরি করছে মন্ত্রক নিয়ে। নেতা যদি তার নিজস্ব ক্যাবিনেট বেছে নিতে না পারেন তাহলে সেটা বিজেপি কর্মীদের কাছে অত্যন্ত অসম্মানের ব্যাপার হবে। এটা মুখ্যমন্ত্রীর ভাবমূর্তির পক্ষেও অত্যন্ত ক্ষতিকর।”

শুধু যে সিন্ধিয়ার সমস্যাতেই জেরবার হয়ে শিবরাজ সিং চৌহান দফতর বন্টন করতে পারছেন না তা নয়, শিবরাজের অনুগামীদের সঙ্গে সংঘাত তৈরি হয়েছে বিজেপির নব্য প্রজন্মের যাদের মাথার ওপর রয়েছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আশীর্বাদের হাত।

গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে দীর্ণ মধ্যপ্রদেশের বিজেপি’র এমনই নাজেহাল অবস্থা যে ২০ জুলাই বিধানসভার বাদল অধিবেশন শুরু হলে সরকারকে বাজেট প্রস্তাব পেশ করতে হবে। কিন্তু সেই বাজেট প্রস্তাব কে পেশ করবেন এক সপ্তাহ আগেও তা স্থির করে উঠতে পারেননি মুখ্যমন্ত্রী চৌহান কারণ তার মন্ত্রীসভায় এখনও পর্যন্ত কোনও অর্থমন্ত্রী নেই!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here