ডেস্ক: খুশির পরই বিষাদ নেমে এল পশ্চিমঙ্গের পার্শ্বশিক্ষকদের জন্য। কয়েকদিন আগেই ঘটা করে সভার মাধ্যমে প্যারটিচারদের বেতন বাড়ানোর কথা ঘোষণা করেছিলেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু এরপরই স্কুল শিক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হল, আগামী সময়ে যাবতীয় ইনক্রিমেন্ট থেকে বঞ্চিত থাকবেন রাজ্যের প্রায় ৪৮ হাজার পার্শ্বশিক্ষকরা।

রাজ্য সরকারের এই নয় সিদ্ধান্তের পরই রীতিমতো ক্ষোভে ফুসছেন পার্শ্বশিক্ষকেরা। তাদের স্বাভাবিক প্রশ্ন, এভাবে একহাতে প্রাপ্তির ডালি তুলে দিয়ে অন্যহাতে থেকে তা কেড়ে নেওয়ার মানে টা কী! কারণ প্রত্যেক চাকরি ক্ষেত্রেই এক বা দুই বছর অন্তর ইনক্রিমেন্টের রেওয়াজ স্বাভাবিক। কিন্তু একধারে বেতন বাড়িয়ে, অন্যদিকে কেড়ে নেওয়াকে বেতন না বাড়ার সমান করেই দেখছে পার্শ্বশিক্ষকদের সংগঠনগুলি। বেতন বাড়ার পর পার্শ্বশিক্ষকের প্রত্যাশিত ছিল, অন্যান্য চাকরির ন্যায়ে তাদের বেতনও বাড়বে। কিন্তু তাদের এই আশায় কার্যত জল ঢেলে দিয়েছে রাজ্য সরকার।

নিয়ম অনুসারে ইনক্রিমেন্ট হলে ২০১৫-র পর এ বছর তা বাড়ার কথা ছিল। সেই জায়গায় বেতন বাড়ানোর কথা ঘোষণা করে রাজ্য। কিন্তু আচমকা এই ইনক্রিমেন্ট বন্ধের ধাক্কা সজোরে লেগেছে পার্শ্বশিক্ষকদের। উল্লেখ্য, দিনকয়েক আগেই নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে পার্শ্বশিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধির কথা ঘোষণা করেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। প্রাথমিক স্তরের জন্য তা ৫৯৫৪ থেকে বাড়িয়ে ১০,০০০ টাকা, এবং উচ্চমাধ্যমিক স্তরের জন্য তা ৮১৮৬ থেকে বাড়িয়ে ১৩ হাজার টাকা করা হয়। রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তে খুশির বাঁধ ভেঙেছিল এতদিন ধরে বঞ্চিত থাকা পার্শ্বশিক্ষকদের। কিন্তু বেতন বাড়ার ঘোষণায় তারা যতটা খুশি হয়েছিলেন, ইনক্রিমেন্ট বন্ধ হওয়ার ঘোষণায় একটু বেশি বিষণ্ণ হয়ে পড়েছেন। অনেকের মতে, গঙ্গাজলে গঙ্গাপুজো করল রাজ্য সরকার। একদিকে তাদের টাকা বাড়ানো হলেও অন্যদিকে তা আটকে দেওয়া হল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here