ডেস্ক: একদিকে সঙ্ঘর্ষ বিরতির জেরে উত্তপ্ত সীমান্ত,অন্যদিকে আগামী আঠেরো থেকে উনিশে এপ্রিল লন্ডনে কমনওয়েলথ সম্মেলনে দু দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে করমর্দনের সম্ভাবনা ৷ একজন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি,আরেকজন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহিদ খকন আব্বাসি৷ তবে সম্মেলনের ফাঁকে দু জনের মধ্যে কোনও বৈঠক হচ্ছে না বলেই খবর৷

আন্তর্জাতিক মহল যতই চাপ সৃষ্টি করুক, যতই সরব হোক ভারত, তবু সন্ত্রাসবাদীদের মদত ও জম্মু-কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ রেখায় সঙ্ঘর্ষ বিরতি লঙ্ঘন করে গুলি চালানো থেকে যে ইসলামাবাদ পিছু হটবে না, তাদের এই রাষ্ট্রনীতি এখন মোটামুটি প্রতিষ্ঠিত ৷ একই সম্মেলনে দু দেশের রাষ্ট্রপ্রধান হাজির থাকলে তাঁদের মধ্যে করমর্দনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না দু দেশের কূটনীতিকরা ৷ তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে বৈঠকের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে ৷ মাস কয়েক পরে দু দুটো নির্বাচন হতে চলেছে পাকিস্তানে৷ অন্যদিকে, ২০১৯ সালে লোকসভা ভোট হবে ভারতে ৷ ফলে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছেন না কূটনীতিকরা৷

তবে সীমান্ত ইস্যু-সহ জঙ্গি নিয়ে দু দেশের মধ্যে টানাপোড়েনের মধ্যেও কিছু রূপালি রেখা দিতে শুরু করেছে৷ যেমন ইতিমধ্যেই দু পক্ষই দু দেশের বন্দিদের মুক্তি-সহ মানবিক পদক্ষেপ নেওয়া মত বিনিময় ও বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা শুরু করেছে, যা মঙ্গলবার ইসলামাবাদে ভারতীয় হাই কমিশনার অজয় বিসারিয়া ও পাক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার মধ্যে বৈঠকে প্রতিফলিত হয়েছে ৷ সম্প্রতি দু পক্ষই প্রশাসনিক কর্তাদের মাধ্যমে যোগাযোগ গড়ে তোলার চেষ্টা জারি রেখেছে ৷ দু দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার যোগাযোগের পাশাপাশি বিদেশসচিব পর্যায়েও দু দেশের মধ্যে যোগাযোগ তৈরি হয়েছে৷ ভারতে নিযুক্ত পাক হাইকমিশনার সোহেল মাহমুদের সঙ্গে একাধিক মানবাধিকার ইস্যু নিয়ে ভারতীয় কর্তারা যোগাযোগ রেখে চলেছেন৷ পাশাপাশি কূটনীতিকদের হেনস্থার বিষয়টি নিয়েও কথাবার্তা চলছে ৷ তবে ভারতে পক্ষে স্বস্তিদায়ক ঘটনা হল, মার্কিন প্রশাসন জঙ্গিদের নিয়ে পাকিস্তানের ওপর ক্রমাগত চাপ বাড়িয়ে চলেছে ৷ মঙ্গলবারই তারা লস্কর ই তৈবাকে জঙ্গি সংগঠন হিসেবে তকমা দিয়েছে৷ সাত জন জঙ্গির ওপরও নজরদারি চালাচ্ছে তারা৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here