kolkata news

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: টিকটক-সহ একাধিক চিনা অ্যাপ নিষিদ্ধ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। একইসঙ্গে ভারতবর্ষের কোনও কাজের ক্ষেত্রে চিনের কোনও সংস্থা যাতে টেন্ডার না পায় সে ব্যাপারেও উদ্যোগী হয়েছে কেন্দ্র সরকার। এমন পরিস্থিতিতে বাজারে চিনা খেলনার পরিবর্তে দেশীয় খেলনার চাহিদা তুঙ্গে উঠতে শুরু করেছে। বিশেষত, কুটিরশিল্প হিসাবে পরিচিত ছোট ছোট খেলনার কদর রাতারাতি বেড়ে যাওয়ায় এখন খুশির হাওয়া খেলনার কুটিরশিল্পে। বর্ধমানের বৈকুণ্ঠপুর ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের নান্দুড় এলাকায় এখন এক মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর রাতের ঘুম উবে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

নান্দুড় এলাকায় দেবশিশু ওয়েলফেয়ার সোসাইটির উদ্যোগে সমাজের পিছিয়ে পড়া মহিলাদের একত্রিত করে তৈরি করা হচ্ছে নানারকমের খেলনা। কলকাতার একটি খেলনা প্রস্তুতকারী সংস্থা বর্ধমানের এই মহিলাদের দিয়ে তাঁদের চাহিদা মতো খেলনা তৈরি করাচ্ছে। কারখানা কর্তৃপক্ষ এই মহিলাদের কাছে পাঠিয়ে দিচ্ছে খেলনার নানাবিধ অংশ। আর সেই অংশ জুড়ে মহিলারা খেলনা তৈরি করে তা প্যাকেটজাত করে পাঠিয়ে দিচ্ছেন কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে।

দেবশিশু ওয়েলফেয়ার সংস্থার সম্পাদক সবিতাব্রত হাটি জানিয়েছেন,  নান্দুড় সন্নিহিত এলাকার কিছু মহিলা যাঁরা কার্যত সমাজ থেকে নানাকারণে লাঞ্ছিত বা অত্যাচারিত হয়েছেন কিংবা আর্থিক ভাবে পিছিয়ে পড়েছিলেন, সেই সমস্ত মহিলাদের নিয়ে একটি গ্রুপ তৈরি করেছেন। যাঁর নেতৃত্বে রয়েছেন রাসমণি মালিক। একদা যাঁকে ‘ডাইনি’ বলে আখ্যা দিয়ে তাঁর ওপর লাগাতার অত্যাচারও চালানো হয়েছিল। আজ সেই রাসমণি মালিকের হাত ধরেই আত্মনির্ভর হওয়ার রাস্তা দেখছেন নয়নয় করেও ১২ থেকে ১৩জন মহিলা। শুধু তাইই নয়, নতুন করে আরও অনেক মহিলা এগিয়ে আসছেন। তাঁদের প্রশিক্ষণও দিচ্ছেন তিনি। একইসঙ্গে তাঁদের কাজও দিচ্ছেন।

রাসমণি মালিক জানিয়েছেন, খেলনা পিছু ৭৫ পয়সা করে পান তাঁরা। বর্তমানে ভারত-চিন সংঘাতের আবহে বাজারে চিনা খেলনার কদর কমে যাওয়ায় দেশীয় খেলনার চাহিদা বাড়ছে। যা তাঁদের কাছে অত্যন্ত আশার আলো দেখাচ্ছে। তিনি জানিয়েছেন, এই চিনা খেলনার কদর কমার ফলে কারখানা কর্তৃপক্ষ তাঁদের দিয়ে বেশি বেশি খেলনা তৈরি করাচ্ছে। এর ফলে তাঁদের রোজগার ভাল হওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এখন এক একজন মহিলা সারাদিনে ১৫০-রও বেশি খেলনা তৈরি করতে পারছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here