মহানগর ওয়েবডেস্ক:  অগস্তাওয়েস্টল্যান্ড ভিভিআইপি চপার কেলেঙ্কারির মূল অভিযুক্ত দালাল ক্রিশ্চিয়ান মাইকেল জেমস ও রাজীব সাক্সেনা সহ আরও ১৩ জনের বিরুদ্ধে সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট পেশ করল সিবিআই। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার অভিযোগ চার্জশিটে থাকা ব্যক্তিরা সকলেই ব্রিটিশ–ইতালীয় কোম্পানি অগস্তাওয়েস্টল্যান্ড–এর সঙ্গে ৩৬০০ কোটি টাকার লেনেদেনের দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত।

উল্লেখযোগ্য হল এই চার্জশিটে প্রাক্তন প্রতিরক্ষা সচিব এবং কন্ট্রোলার ও অডিটার জেনারেল শশীকান্ত শর্মা এবং প্রাক্তন এয়ার ভাইস মার্শাল জসবির সিং পানেসরের নাম নেই যদিও সরকারের তরফে করা মামলায় তারা বিচারাধীন রয়েছেন। সিবিআই শর্মা, পানেসর ও বিমান বাহিনীর আরও তিনজন অফিসারের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন স্যাংশন–এর আবেদন জানালেও সেই আবেদন এখনও মঞ্জুর হয়নি।

২০১৮ সালের ডিসেম্বরে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী থেকে মাইকেলকে ভারতের হাতে প্রত্যার্পণ করা হয়। ২০১৯ এর লোকসভা নির্বাচনের আগে এই প্রত্যার্পণ ঘিরে যথেষ্ট রাজনৈতিক আলোড়নের সৃষ্টি হয়। এই কেলেঙ্কারির মধ্যে জড়িয়ে থাকা রাজনৈতিক নেতাদের নাম শোনা গেলেও সিবিআই–এর চার্জশিটে কোনও রাজনীতিবিদের নাম নেই বলে জানা গিয়েছে সূত্র মারফৎ।

এনফোর্সমেন্ট ডায়রেক্টরেট (ইডি) এই মামলার আর্থিক নয়ছয় নিয়ে তদন্ত করছিল। গত এপ্রিল মাসে পেশ করা তাদের চার্জশিটে জানিয়েছিল, সুইৎজারল্যান্ড থেকে উদ্ধার করা ‘বাজেট শিট’এ হাতে লেখা  ‘এপি’ র অর্থ আহমেদ প্যাটেল বলে জানিয়েছেন মাইকেল। ইডি আরও জানিয়েছিল মাইকেল অগস্তাওয়েস্টল্যান্ডের প্রধান কোম্পানিকে লেখা একটি চিঠিতে একজন ইতালীয় নারীর সন্তানের কথা বলেছিলেন যিনি ভবিষ্যতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন।

সিবিআইয়ের বক্তব্য অগস্তাওয়েস্টল্যান্ডকে ভিভিআইপি চপারের বরাত পাইয়ে দেওয়ার জন্য কিছু প্রযুক্তিগত গুণমানের প্রয়োজনীয়তার ক্ষেত্রে বদল ঘটানো হয়। এই বিষয়ে তিনজন দালাল বা মিডিলম্যান কাজ করেছিল। তার মধ্যে কার্লো গেরোসা ও গুইডো হাস্কে’র ওপর দায়িত্ব ছিল বিমান বাহিনী প্রধান এস পি ত্যাগী’র পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করার এবং মাইকেলের দায়িত্ব ছিল প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করার।

অফসেট কোম্পানির জন্য (যা এ ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক) অগস্তাওয়েস্টল্যান্ড ৭০ মিলিয়ন ইউরো আলাদা করে সরিয়ে রেখেছিল যা এই দালালদের দ্বারা তৈরি করা কোম্পানিতে পাঠানো হয়। মাইকেল দুবাইয়ে তৈরি করে ‘গ্লোবাল সার্ভিস’, হাস্কে তৈরি করে আইডিএস তিউনিশিয়া, আডিএস মরিশাস এবং এরোমেট্রিক্স। সিবিআই–এর দাবি অনুযায়ী মাইকেল ৪২ মিলিয়ন ও হাস্কে ২৮ মিলিয়ন ইউরো পেয়েছিল। এই অর্থের মাত্র ৩০ শতাংশ অফসেট কাজের জন্য ব্যবহৃত হয় এবং বাকি পুরোটাই ঘুষ দেওয়ার কাজে লাগানো হয়। চপার কেনার বরাত বাতিল হওয়ার আগেই মাইকেল ২৪ মিলিয়ন ইউরো সরিয়ে দিয়েছিল বলে দাবি সিবিআই–এর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here