bengali news

 

মহানগর ডেস্ক: পরবর্তী ৭২ ঘণ্টা বা আগামী তিনদিন কোচবিহারে যেতে পারবে না কোনও রাজনৈতিক দলের নেতানেত্রী৷ আজ চতুর্থদফা ভোটে উত্তরবঙ্গের এই জেলার মাথাভাঙা মহকুমার অধীন শীতলকুচি বিধানসভা কেন্দ্রের ১২৬ নম্বর বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে ৪জন মারা যান৷ এই মর্মান্তিক ও স্পর্শকাতর ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য তথা গোটা দেশ তোলপাড় হচ্ছে৷ তৃণমূলনেত্রী মমতা ব্যানার্জি ইতিমধ্যেই তাঁর ভোট প্রচার স্থগিত রেখে শিলিগুড়ি পৌঁছে গিয়েছেন৷ কাল তিনি শীতলকুচির ওই দুর্ঘটনা কবলিত গ্রামে যাবেন বলে ঘোষণা করেছেন৷ কিন্তু সন্ধ্যার পর নির্বাচন কমিশন আচমকাই ঘোষণা কর কঠোর সিদ্ধান্ত৷

নির্বাচন পরিচালনার নিরঙ্কুশ দায়িত্বে থাকা  এই স্বশাসিত সংস্থার তরফে জানিয়ে দেওয়া হল, ৭২ ঘণ্টা কোচবিহারে কোনা রাজনৈতিক দলের নেতানেত্রী প্রবেশ করতে পারবেন না৷ ফলে আগামীকাল মমতার শীতলকুচি যাওয়ার যে কর্মসূচি ঠিক হয়েছিল, তা একেবারেই অনিশ্চিত হয়ে গেল৷ কমিশনের বক্তব্য, কোচবিহার জেলার শীতলকুচি এলাকায় নেতানেত্রীরা গেলে সেখানকার পরিস্থিতি আরও অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠতে পারে৷ পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে৷ তাই পূর্ব সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবেই এই পদক্ষেপ করতে বাধ্য হল কমিশন৷ উল্লেখ্য, এর আগে কোনও নির্বাচনে এমন কঠোরতম পদক্ষেপ করেনি কমিশন৷

অন্যদিকে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস শিবিরের বক্তব্য হল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও রাজ্যের নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী৷ নির্বাচন চললেও তিনি এখনও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান৷ রাজ্য সরকারের মেয়াদ এখনও শেষ হয়নি৷ তাই মুখ্যমন্ত্রীকে এভাবে তাঁর নিজের রাজ্যের একটা নির্দিষ্ট অঞ্চলে যেতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে না কমিশন বা অন্য কোনও সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান৷ তৃণমূল নেতা সৌগত রায় বলেছেন, নির্বাচন কমিশন বরাবরই অমিত শাহ, নরেন্দ্র মোদির পরামর্শ মেনে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে৷ মমতাকে আটকাতেই তারা এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে৷ আবার আগামী পঞ্চমদফা ভোটের প্রচারেও লাগাম টানল কমিশন৷ এবার থেকে ভোট প্রচার শেষ করতে হবে ৭২ ঘণ্টা আগে৷ অর্থাৎ ভোটের তিনদিন আগে প্রচার সমাপ্ত করতে হবে৷ এতদিন এই সময়সীমা ছিল ৪৮ ঘণ্টা৷ এবার তা আরও ২৪ ঘণ্টা বাড়ানো হল৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here