news bengali kolkata

মহানগর ওয়েবডেস্ক: গোটা দুনিয়ায় যত ধরনের বিয়ের অনুষ্ঠানই হোক না কেন, আড়ম্বর সহ জীবনসঙ্গিনীর সঙ্গে সম্পর্কে বাঁধা পড়ার এই অনুষ্ঠান সব থেকে জাঁকজমক করে পালন হয় ভারতেই। দীর্ঘ তিন থেকে চারদিন ধরে চলে অনুষ্ঠান। থাকে নাচা-গানা, খাওয়া-দাওয়া, আরও কত কী! ইদানীং বিয়ের আগে আবার প্রি ওয়েডিং ফটোশ্যুটের মতো জিনিসও বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তবে বিয়ের আগের মুহূর্ত স্মরণীয় করে রাখা হোক, বা নাচা-গানা। কোনওটাই পছন্দ নয় জৈন, গুজরাটি ও সিন্ধ্রি সম্প্রদায়ের। তাই মধ্যপ্রদেশের রাজধানী ভোপালে এই ফতোয়া জারি করেছে জৈন, গুজরাটি ও সিন্ধ্রি সংগঠন।

এই সিদ্ধান্ত কিছুটা হলেও চমকে দিয়েছে সকলকে। যেখানে বলা হয়েছে, বিয়ের আগে কোনও রকমের ফটোগ্রাফি করতে পারবেন না যুগলরা। এমনকী বিয়ের অনুষ্ঠানে ছবি তোলা বা ভিডিও রেকর্ডিং করাও ব্যান করা হয়েছে। এই ফতোয়া তিন জাতির সংগঠনকেই পালন করতে বলা হয়েছে। জৈন সংগঠন তো আবার এককাঠি ওপরে। তারা নিজেদের বিয়ের অনুষ্ঠানে পুরুষ কোরিওপ্রাফারকে ব্যান করে দিয়েছে! এই ফতোয়া জারির মূল কাণ্ডারি হলেন সঞ্জয় প্যাটেল। তিনি ভোপাল গুজরাট কমিউনিটির সভাপতি। তাঁর নির্দেশেই এই নির্দেশিকা জারি হয়েছে, যেখানে মহিলাদের ‘সঙ্গীত’ অনুষ্ঠানে পুরুষ কোনও নৃত্যশিল্পীদের ওপর জারি হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। এই সিদ্ধান্তের হোতা সঞ্জয় প্যাটেল জানান, ‘আমাদের কোথাও গিয়ে মনে হয়েছে বিয়ে শুরু হওয়ার আগেই তা ভেঙে যাচ্ছে। তাই সবাই মিলে সম্মিলিতভাবে এই সিদ্ধান্ত আমরা নিয়ে। যারা এর পালন করবে না তাদের আমাদের কমিউনিটি বহিষ্কার করবে।’ ভোপাল সিন্ধ্রি সম্প্রদায়ের নেতা ভগবান দাস ইসরানিরও একই বক্তব্য এই ব্যান নিয়ে।

গুজরাটি ও সিন্ধ্রি সমাজের এই ফতোয়াকে দু’হাত তুলে সমর্থন জানিয়েছে ভোপালের জৈন সম্প্রদায়। তাদেরও মত, এই নতুন আমদানি করা অভ্যাসে দেশের সংস্কৃতি লোপ পাচ্ছে। সামাজিক বন্ধনের ওপরও নাকি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এই ধরনে ফটোশ্যুট ও নাচ। জৈন সম্প্রদায়ের মুখ হিমাংশু জৈনের কথায়, তাদের এক ধর্মগুরু এই সংস্কৃতি নিয়ে প্রথমবার প্রশ্ন তুলেছিলেন। তারপরই নাকি তাদের চোখ খুলে গিয়েছে। হিমাংশু বলেন, ‘আমাদের ধর্মগুরু একদিন প্রশ্ন তোলেন, বিয়েতে নাচের অনুষ্ঠানে পুরুষ কোরিওগ্রাফার কেন থাকবে। কেনই বা বিয়ের আগে ছবি তোলার মতো আদিখ্যেতা করতে হবে? তারপরই এই ধরনের একটা কড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল।’

গত বছর মে মাসে একই ভাবে উজ্জয়নের সিন্ধ্রি পঞ্চায়েতও প্রি-ওয়েডিং ফটোশ্যুটের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে দিয়েছিল। এবার একটা সম্প্রদায় নয়, এক সঙ্গে তিন সম্প্রদায়ের মধ্যে দেখতে পাওয়া গেল এই ধরনের ঘটনার নজির।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here