পূর্ব পাকিস্তান ছেড়ে ভারতবাসী হয়ে থাকতেই দুর্গাপুজোর প্রচলন করেন দিনাজপুরের বাসিন্দারা

0
1222
kolkata bengali news

নিজস্ব প্রতিবেদক, উত্তর দিনাজপুর: পূর্ব পাকিস্তান নয়, ভারতেই থাকুক তাদের এলাকা। ভারতবাসী হয়েই থাকুক বাসিন্দারা। এমনটাই মনে প্রাণে চেয়েছিলেন ততকালীন দিনাজপুরের (বর্তমান উত্তর দিনাজপুর) জনগণ। তাই এখানে প্রচলন হয় দেবী দুর্গার আরাধনা।

সালটা উনিশশো সাতচল্লিশ। তখন পরাধীন ভারতবর্ষের ব্রিটিশ শাসন থেকে সবে মুক্তি পেয়েছে ভারতবর্ষ কিন্তু মুক্তির স্বাদ পেলেও তৎকালীন দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জের মানুষের মনে সেই মুক্তির আনন্দ ছিল না। কারণ তখনও কালিয়াগঞ্জ ব্লক পূর্ব পাকিস্তানের অর্থাৎ বর্তমান বাংলাদেশের মধ্যে অন্তর্ভুক্তি হবে এমনই আশংকা। ঘন জঙ্গলে ঘেরা উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জে তখন বাঘের উৎপাতও ছিল প্রচুর। একদিকে বাঘের উৎপাত, অপরদিকে কালিয়াগঞ্জকে আজকে পূর্ব পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্তি হবার আশঙ্কায় যখন এখানকার মানুষদের মন ওষ্ঠাগত, সেই সময় কালিয়াগঞ্জের তরঙ্গপুরের সতীশ চন্দ্র ঘোষের উদ্যোগে মাতৃভূমিকে ভারতে অন্তর্ভুক্তিকরণের আশায় ও বাঘের উৎপাত থেকে রেহাই পেতে দেবী দুর্গার কাছে প্রার্থনা জানিয়ে এই পুজোর প্রচলন শুরু হয়, যা আজ তরঙ্গপুরের ঘোষ বাড়ির দুর্গা পুজো নামে খ্যাত।

সতীশ চন্দ্র ঘোষ মা দুর্গার কাছে প্রার্থনা করেন, যাতে কালিয়াগঞ্জ পূর্ব পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত না হয়। তাঁর ঠাকুরদা স্বাধীনতা সংগ্রামী ছিলেন। তাঁর প্রচেষ্টায় কালিয়াগঞ্জ ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়। তখন থেকেই এখানে এই দেবী দুর্গার পুজোর প্রচলন। যখন মন্দির প্রতিষ্ঠা হয়েছিল সেই সময় এলাকা ছিল গভীর জঙ্গল। ভয় ছিল, বাঘ সহ হিংস্র পশুদের। গ্রামের মানুষরা তখন একত্রিত হয়ে জঙ্গল পরিষ্কার করে ও টিন বাজিয়ে হিংস্র পশুদের তাড়িয়ে তবে পুজো করত। সেই থেকে আজও রয়েছে এই রেওয়াজ। টিন বাজিয়ে এই পুজো আরম্ভ হয় ষষ্ঠীর দিনে। পুজোকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধর্মের মানুষরা প্রতি বছরই একত্রিত হয়। পুজো রূপ নেয় মিলন মেলার। ধর্মীয় আচার মেনে এখানে দেবী পুজো শেষে হাজার হাজার মানুষ অন্নভোগ গ্রহণ করেন। তাই ঘোষ বাড়ির পারিবারিক হয়েও এই পুজো যেন ‘বারোয়ারি’।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here