bengali news

মহানগর ওয়েবডেস্ক: শুরুটা হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ থেকে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, সদ্য পাশ হওয়া নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন এই রাজ্যে মানা হবে না। এবার মমতার সুরে সুর মিলিয়ে একে একে ক্যাব বিরোধী হয়ে উঠল দিল্লি, পঞ্জাব, ছত্তিসগড়, কেরল। এবং সবশেষে মধ্যপ্রদেশ। এই ৬ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে মোদী সরকারের নতুন আইন প্রয়োগ করতে দেওয়া হবে না তাঁদের রাজ্যে। শুধু তাই নয়, সুরে সুর মিলিয়ে একই পথে হয়ত হাঁটতে পারে মহারাষ্ট্র সরকারও।

সোমবার লোকসভা বুধবার রাজ্যসভা এবং ওইদিনই রাত ১২ টার সময় রাষ্ট্রপতির সাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গে আইনের রূপ পেয়েছে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল। এদিকে এই বিলকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে অশান্তি। কার্ফু জারি হয়েছে অসম, ত্রিপুরা, মেঘালয়ের মতো রাজ্যগুলিতে। যার আঁচ শুক্রবার এসে পড়েছে এই রাজ্যেও। সন্ধ্যায় রীতিমতো অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে হাওড়া, মালদা, দক্ষিণ ২৪ পরগণা, মেদিনীপুরের মতো জেলাগুলি। এই সব কিছুর মাঝে মমতা স্পষ্ট জানিয়ে দেন বাংলায় এনআরসি বা সিএবি কোনওটাই লাগু হতে দেব না। মমতার ধাঁচেই বাক্লি আরও ৫ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী একই সুর তোলে । পরিস্থিতির জেরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানায়, এটি একটি কেন্দ্রীয় আইন। তাই ওই আইন সব রাজ্যেই প্রযোজ্য হবে। কোনও রাজ্য সরকারের তা আটকানোর অধিকার নেই। একই কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর দফতরের প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। তাঁর কথায়, কেন্দ্রীয় আইন লাগু করতে দেব না এমন কোনও অধিকার কোনও রাজ্যসরকারকে দেওয়া হয়নি। দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা ক্কন রাজ্যকে এই ক্ষমতা দেয় না।

তবে নীতিগত ভাবে এই আইন আটকানো যে অসম্ভব তা এককথায় স্বীকার করে নিচ্ছে তৃণমূল। তাদের এই আইনকে রোখার উপায় একটাই জনমত তৈরি করে এই আইনের বিরুদ্ধে দেশের মানুষের পথে নামা। প্রবল প্রতিবাদই একে আটকানোর একমাত্র রাস্তা। যদিও কেন্দ্রের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। রাজ্য যদি এই আইন লাগু করতে না চায় তবে সেটা দেশের সংবিধানের বিরোধিতা করার সামিল হবে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে সংবিধানের ৩৫৫ ও পরে ৩৫৬ ধারা পর্যন্ত প্রয়োগ করতে পারে কেন্দ্র।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here