ডেস্ক: বিজেপি কর্মী দুলাল কুমারের দেহ উদ্ধার করতে গিয়ে তদন্তের আগেই পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার জয় বিশ্বাস সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, ‘আত্মহত্যা করেছে দুলাল।’ পরপর মৃত্যুর ঘটনার পর পুলিশদ সুপারের এহেন মন্তব্য আগুনে ঘি ঢালে। ওই দিনই নবান্নে বিশেষ বৈঠক ডেকে পুরুলিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় জয় বিশ্বাসকে। তাঁর পরিবর্তে সেখানে পাঠানো হয় নতুন পুলিস সুপার আকাশ মেঘারিয়াকে। দুলালমৃত্যুর প্রাথমিক রিপোর্ট হাতে আসার পর নতুন পুলিশ সুপার স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ‘খুন নয়! আত্মহত্যাই করেছেন বিজেপি কর্মী দুলাল কুমার।’

পুরুলিয়ায় দুই বিজেপি কর্মীর মৃত্যুর পর প্রতিবাদ মুখর হয়েছে রাজ্য তথা গোটা দেশ। ঘটনার তদন্তভার হাতে নিয়েছে সিআইডি। একইসঙ্গে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে একের পর এক তোপ দাগতে শুরু করেছে রাজ্য তথা কেন্দ্রীয় বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। যদিও নতুন পুলিশ সুপারের সেই দাবি মানতে নারাজ রাজ্য বিজেপি ও দুলালের পরিবার। বিজেপির তরফে স্পষ্ট অভিযোগ তোলা হয়েছে, তৃণমূলের দুষ্কৃতীরাই ত্রিলোচনের পর খুন করে ঝুলিয়ে দিয়েছে দুলালকে। বিজেপির তোলা সেই অভিযোগ কোনওভাবেই মানতে নারাজ পুরুলিয়ার তৃণমূল সংগঠন। তাদের হয় মাওবাদী নাহলে বিজেপির কর্মীরা নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে এই ধরনের কাজ করেছে।

উল্লেখ্য, শনিবার ভোরে পুরুলিয়ার বলরামপুর থানা এলাকার ডাভা গ্রামের হাইটেনশন লাইনের পোলে ঝুলতে দেখা যায় দুলাল কুমার (৩২) নামে এক বিজেপি কর্মীর মৃতদেহ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার একদিন আগে বিজেপির থানা ঘেরাও কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিল দুলাল। সেখান থেকে বাড়ি ফেরার পর বাবা মহাদেব কুমারকে বলরামপুরের দোকানে পৌঁছাতে যান দুলাল। বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে দোকান থেকে বেরিয়ে এলেও বাড়ি এসে পৌঁছাননি দুলাল। পরপর দুজন বিজেপি কর্মী খুন হওয়ার পর ব্যাপক উত্তেজনা শুরু হয়েছে পুরুলিয়ার ওই এলাকায়।