news bengali kolkata

নিজস্ব প্রতিনিধি, নবান্ন: নভেল করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে রাজ্যে এখনও পর্যন্ত তিন জনের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাকিরা কিডনি সমস্যা ও নিউমোনিয়ার মত রোগে মারা গেছেন বলে দাবি করেছেন তিনি। ভুল তথ্য পরিবেশনের জন্য সংবাদমাধ্যমকেও এদিন তোপ দাগেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। এদিকে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যে করোনায় মত্যুর সংখ্যা একধাক্কায় অর্ধেক করে দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। তথ্য চেপে দিয়ে সরকার পরিস্থিতি লঘু করে দিতে চাইছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

মুখ্যমন্ত্রী এদিন নবান্নে সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, বুধবার বিকাল ৪টে পর্যন্ত রাজ্যে তিনজনের করোনা ভাইরাসে মৃত্যু হয়েছে। বাকি দুই জনের মধ্যে একজনের নিউমোনিয়া ও একজন কিডনি সমস্যায় ভুগে মারা গিয়েছেন। তাঁর দাবি, রাজ্যে এখনো পর্যন্ত যে ৩৭ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন তারমধ্যে তিনজন সুস্থ হয়ে গিয়েছেন।সংবাদ মাধ্যম করোনা আক্রান্ত হয়ে রাজ্যে এখনো পর্যন্ত ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করায়, তিনি এই পরিসংখ্যান তুলে ধরছেন বলে জানান মমতা।

যদিও তথ্য বলছে, গত ১৫ মার্চের পর থেকে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন হাসপাতালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত অবস্থায় এখনো পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৬ জনের। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত অবস্থায় মৃত্যু হলেও তাঁদের মৃত্যুর জন্য সংক্রমণই দায়ী এমনটা মানতে নারাজ মুখ্যমন্ত্রী। স্বাস্থ্য দফতরের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, রাজ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের। এব্যাপারে সংবাদমাধ্যমকে দায়িত্বশীল হয়ে সংবাদ পরিবেশনের উপদেশও দিয়েছেন তিনি। সঙ্গে মনে করিয়ে দিয়েছেন, জারি রয়েছে মহামারি আইন। মানে যে কোনও গ্রেফতার করা যেতে পারে যে কাউকে। একই সঙ্গে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল প্রচার পাওয়ার জন্য করোনা রোগী ভর্তি রয়েছে বলে দাবি করছে বলে অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাদের সাবধান করে দেন মমতা। বলেন, লড়াইয়ের এই সময়ে এমন প্রচার চালাবেন না।

হাসপাতালগুলি থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে পশ্চিমবঙ্গে করোনায় মৃত ৬ জনের প্রথম জনের মৃত্যু হয় যুবভারতী স্টেডিয়ামের পিছনে একটি বেসরকারি হাসপাতালে। দ্বিতীয় জনের মৃত্যু হয় উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। মঙ্গলবার ভোরে তৃতীয় জন মারা যান হাওড়া জেলা হাসপাতালে। মঙ্গলবার চতুর্থ ও পঞ্চম জনের মৃত্যু হয় যথাক্রমে হাওড়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ও এনআরএস মেডিক্যাল কলেজে। বুধবার সকালে ষষ্ঠ জনের মৃত্যু হয়েছে রথতলার একটি নার্সিংহোমে।

এর আগে রাজ্যে ডেঙ্গিতে সংখ্যা কম করে দেখানোর অভিযোগ উঠেছিল সরকারের বিরুদ্ধে। এমনকী ডেঙ্গি রোগীর সংখ্যা কমাতে রাজ্যে ডেঙ্গির র্যাপিড টেস্ট পর্যন্ত বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। এবার করোনায় মৃতের সংখ্যা নিয়েও শুরু হল একই বিতর্ক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here