দিলীপ একটা ‘গবেট’, এনআরসি ও রাজীব আসলে বাজার গরম রাখার ছক, বললেন সুজন

0
1221
kolkata bengali news

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাঁকুড়া: এনআরসির প্রতিবাদে বাঁকুড়ায় মহা মিছিল, বিক্ষোভ সমাবেশ ও জেলাশাসককে ডেপুটেশন দেওয়ার কর্মসূচী পালন করল বামেরা। এনআরসির প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি এদিন ধর্মীয় বিভাজনের বদলে সব হাতে কাজ এবং পুরসভা ও পঞ্চায়েত গুলিতে দুর্নীতির প্রতিবাদ জানানো হয়। এদিন নিজেদের দাবির সমর্থনে সিপিএম কর্মী সমর্থকরা বাঁকুড়ার হিন্দু হাইস্কুল ময়দান থেকে মিছিল শুরু করে। মিছিল করে মাচানতলা ট্যাক্সি স্ট্যান্ডে যায় সিপিএম কর্মীরা। সেখানে একটি বিক্ষোভ সমাবেশ করে সিপিএম। এদিনের বিক্ষোভ সমাবেশে সুজন চক্রবর্তী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সিপিএম এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অমিয় পাত্র, ডিওয়াইএফআই সর্বভারতীয় সম্পাদক অভয় মুখার্জী সহ জেলা, রাজ্য ও কেন্দ্রীয় স্তরের নেতারা।

কর্মসূচীর পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সিপিআইএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, এখনো পর্যন্ত এনআরসির কারণে আমাদের রাজ্যে আট জন মারা গেছেন বলে সংবাদ। রাজ্য শুদ্ধ মানুষ আতঙ্কে ভুগছেন। যে কোন কারণে বিডিও কিংবা বিএলআরও অফিসে গেলেই সেটা বুঝতে পারবেন। এই আতঙ্কের এনআরসির কথাই বলছেন বিজেপি নেতারা আর তার কাউন্টারে মুখ্যমন্ত্রী দিল্লিতে গেলেন কিন্তু এনআরসি নিয়ে একটা কথাও উচ্চারণ করলেন না। ভয় পেলেন নাকি, সেটা উনি বলতে পারবেন। ফলে রাজ্যের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছে। এটা হিন্দু- মুসলমান নয় এপার বাংলা ওপার বাংলার বিষয় নয়। কাগজ যদি ভিত্তি হয় তাহলে গরীব মানুষের কাছে কাগজ কম থাকে। তিনি বলেন, এখন আতঙ্কের সময় মানুষের কাছে প্রয়োজন, লাল ঝান্ডা। দেশভাগ বা সাম্প্রদায়িক বিপদের সময় মানুষ ভরসা করেছেন লাল ঝান্ডাকে। এই অরাজকতা, দুর্নীতি বামপন্থীরা রুখবে। ঐক্যবদ্ধ মানুষের লাল ঝান্ডা রুখবে অপশাসন। তিনি আরও বলেন, লাশের উপরে এনআরসি করতে হবে যদি ওরা এনআরসি করতে চায়।

বিজেপি রাজ্য সভাপতিকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, দিলীপ ঘোষ একটা গবেট মাথার লোক। দু’কোটি মানুষকে গলাধাক্কা দিয়ে বের করে দেবে। সে মানুষ নাকি রাজনৈতিক নেতা ? স্কাউন্ড্রেল ভয়েস, অসভ্যের মতো কথা বলার ধরণ বলে আক্রমণ করে তিনি প্রশ্ন করেন, সমগ্র মানুষকে কাগজ দিতে জমা দিতে হবে কেন? সমগ্র মানুষ কী সন্দেহের মধ্যে নাকি? রাজীব কুমার ইস্যুতে বলেন, “নাটক কী নাটক নয় বলতে পারবো না কিন্তু দশ দিন হয়ে গেল তিনি কোথায়? বাড়িতে, কাস্টডিতে? তিনি কোথায়? কোথায় আছেন তিনি রাজ্য সরকার তা নিশ্চিত করে বলতে না পারেন তাহলে রাজ্যের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা থাকবে তো? বাংলার মানুষের নিরাপত্তা নেই রাজীব কুমার ঘটনায় তা আরেকবার স্পষ্ট হয়ে গেলো। নাটক তো বটেই। মুখ্যমন্ত্রী জানেন, রাজীব কোথায় আছে। বিজেপিরও জানা আছে। আসলে বিজেপি ও তৃণমূলের এই প্ল্যান বাজার গরম রেখে সব ধামাচাপা দেওয়ার।” দিদি- মোদী আঁতাত প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, দিদির সাথে আঁতাত আছেই, নাহলে মোদীর দল বাংলায় শক্তি বাড়ালো কী করে? বাম আমলে কোন দিন শক্তি পায়নি এরা । দিদির আঁতাত তো আগে থেকেই আছে। তা না হলে সব গর্তে ঢুকে থাকার কথা। বলে কটাক্ষ করেন। মুকুল রায় তৃণমূল কংগ্রেসের ফিরছেন কিনা জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, হতেই পারে। জ্যোতিষ বিদ্যা জানা নেই। মুকুল রায় ফিরবে কি না, ফেরার পর দিদি নেবেন কিনা তাও জানা নেই। আবার নিতে পারেন দরকার হলে। আসল কথা মানুষের রায়ে কেউ পার পাবেনা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here