kolkata news

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে গোটা দেশ জুড়ে তীব্র উত্তেজনার মাঝেই আতঙ্কে পূর্ব বর্ধমানের জৌগ্রামের তেলেগ্রামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন বলে পরিবার দাবি করেছে। আর এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। আত্মঘাতী গৃহবধূর নাম শিপ্রা শিকদার(৩৬)। তাঁর ছেলে কমল শিকদার জানিয়েছেন, বেশ কিছুদিন ধরেই জন্মের সার্টিফিকেট খুঁজে পাচ্ছিলেন না মা শিপ্রা শিকদার। এজন্য বারবার পঞ্চায়েত অফিস, বিডিও অফিস যাতায়াত করছিলেন।সম্প্রতি এনআরসি নিয়ে গোটা দেশ জুড়ে যে হইচই হচ্ছে, তা থেকেই তাঁর মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়।

আর তার জেরেই শনিবার ভোরে রান্নাঘরে গলায় দড়ির ফাঁস লাগিয়ে তিনি আত্মঘাতি হন। এনআরসি আতঙ্কে শিপ্রাদেবীর আত্মহত্যার বিষয়ে একই কথা জানিয়েছেন তাঁর প্রতিবেশী মৃদুলকান্তি মণ্ডল। তিনি জানিয়েছেন, শিপ্রাদেবীর ছেলের জন্য আধার কার্ড করিয়েছেন। কিন্তু তার জন্ম সার্টিফিকেট তিনি খুঁজে পাচ্ছিলেন না। তা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই তিনি মনমরা হয়েছিলেন। তার ওপর এনআরসি আতঙ্কও তাঁর মধ্যে ঢুকেছিল। তার জেরেই তিনি আত্মঘাতী হয়েছেন।

জামালপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মেহেমুদ খান জানিয়েছেন, তিনিও ওই পরিবার সূত্রে জেনেছেন এনআরসি আতঙ্কেই ওই গৃহবধূ আত্মঘাতী হয়েছেন। যদিও এব্যাপারে স্থানীয় বিজেপি নেতা তথা বিজেপির জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য সুধাময় ব্যানার্জ্জী জানিয়েছেন, এনআরসি আতঙ্কে ওই গৃহবধু আত্মঘাতী হননি। আর্থিক অসচ্ছলতা নিয়ে পরিবারে সমস্যা চলছিল। মৃতার স্বামী সুভাষ শিকদার ভ্যান চালক। তাই আয় খুব কম। শিপ্রাদেবীর ছেলে কমল শিকদার বাবার সঙ্গেই কাজ করে। তাঁদের একটি মেয়েও রয়েছে। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে এবং পারিবারিক বিবাদের জেরেই তিনি আত্মঘাতী হয়েছেন বলে সুধাময়বাবু দাবি করেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here