এনআরসির জন্য দেশজুড়ে ডিটেনশন ক্যাম্প হবে বললেন অমিত, চটলেন মমতা

0
kolkata bengali news

মহানগর ওয়েবডেস্ক: দেশজুড়ে নাগরিকপঞ্জিকরণ থেকে একচুলোও সরবে না কেন্দ্র৷ সাফ কথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর৷ আরও একধাপ এগিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান অবৈধদের ধরতে দেশজুড়ে বহু খাঁচা(জেলখানা) তৈরি করছে মোদী সরকার৷ একটি সর্ববারতীয় চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমনটাই দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানালেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী৷ তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় তৃণমূল৷ বাংলার শাসকদলের পক্ষে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিভিন্ন চ্যানেলে সাফ জানিয়েছেন রাজ্য সরকার এই রাজ্যে নাগরিকপঞ্জি কোনো মতেই হতে দেবে না৷ তাঁর সোজা কথা, রাজ্য না চাইলে এখানে কেন্দ্র জোর করে এনআরসি চালু করতে পারবে না৷ তবে রাজন্যতিক মহলের মতে কেন্দ্র নাগরিকপঞ্জি করতে চাইলে রাজ্য সরকার তা আটকাতে পারবে না৷ এদিকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে নাগরিকত্ব খারিজ করার প্রক্রিয়াটা সম্পন্ন করার দায়িত্ব ফরেনার’স ট্রাইবুনালের— সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন অমিত শাহ। কিন্তু তার পরের পর্বটার জন্য সরকারকে আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘প্রক্রিয়াটা সবে শুরু হয়েছে।’

অমিত শাহের সাক্ষাৎকারটিতে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে, সারা দেশের জন্যই এনআরসি চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজেপি। সরকার সেই পথেই এগোবে। সেই প্রক্রিয়ার গতি যে এ বার বাড়ানো হচ্ছে, তা-ও বুঝিয়ে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।অন্যদিকে তৃণমূল ও রাজ্যের বিজেপি ছাড়া অন্যবিরোধীদল কংগ্রেস ও সিপিএম নাগরিকপঞ্জির তীব্র বিরোধিতা শুরু থেকেই করে আসছে৷ এরসঙ্গে বাংলাপক্ষর মতো অরাজনৈতিক সংগঠনও নাগরিকপঞ্জির বিরোধিতা করে রাজ্য প্রতিটা প্রান্তে প্রতিদিন সচেতনতা অভিযান করছে৷ অন্যদিকে নাগরিকপঞ্জির পক্ষে পাল্টা প্রচার চালাচ্ছে বিজেপি৷

এর আগে ১ অক্টোবর কলকাতার নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে সভা করেন বিজেপি সভাপতি। সে সভায় অমিত শাহ বলেন, ‘‘পাকিস্তান, আফগানিস্তান বা বাংলাদেশ থেকে যে হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, খ্রিস্টানরা ভারতে চলে এসেছেন, তাঁদের সকলকেই শরণার্থী হিসেবে ধরা হবে এবং নাগরিকত্ব দিয়ে দেওয়া হবে। তার জন্য নগরিকত্ব সংশোধন বিল সংসদে পাশ করানো হবে।’’ সুতরাং এনআরসি নিয়ে অ-মুসলিমদের ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই— বার্তা ছিল শাহের। সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারটিতে তিনি আরও স্পষ্ট ভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন, এনআরসি নিয়ে বিজেপি এগোবেই।

অমিত শাহের মন্তব্যে বাংলার মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল। সে আতঙ্ক ক্রমশ আরও বেড়েছে। অনুপ্রবেশকারী মুসলিমদের নাগরিকত্ব না হয় কেড়ে নেওয়া হবে, যে মুসলিমরা অনুপ্রবেশকারী নন, তাঁদের কী হবে? দেশভাগের আগে থেকেই বংশপরম্পরায় এ দেশে রয়েছেন, সেই মুসলিমদের নাগরিকত্ব সরকার সুনিশ্চিত করবে তো? নাকি নথিপত্র দেখাতে না পারলে তাঁদেরও ‘অনুপ্রবেশকারী’ তকমা দেওয়া হবে? প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন অনেকেই। এরই মধ্যে নভেম্বরের মাঝামাঝি সংসদের শীতকালীন  অধিবেশন শুরু হবে৷ সেখানে এনআরসি ও নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল(ক্যাব) নিয়ে বিজেপি ও বিরোধীরা উত্তাল হবে বলে মনে করা হচ্ছে৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here