NRC

কৌশিক মাইতি: অসমে এনআরসি তালিকায় নাম ওঠেনি, নাম সমীর চক্রবর্তী। ১৯৫১-র সব ডকুমেন্ট আছে, কিন্তু অপরাধ একটাই, বাঙালি ঘরে জন্মেছিলেন। তিনি আত্মহত্যা করেছেন, স্থানীয় দুর্গাপুজো কমিটি পুজোর কাজ স্থগিত করে দিয়েছে ক্ষোভে ও দুঃখে। অসমে এনআরসি এবং ডি-ভোটারের কারণে বাঙালি (হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে) আত্মহত্যা করছে, বাঙালিকে ডিটেনশন ক্যাম্পে পুরে দেওয়া হচ্ছে। শারোদৎসবেও বাঙালির মনে আনন্দ নেই, শুধু আতঙ্ক আছে।

আরও পড়ুন… অসমে ধর্ম দেখে নয়, ভাষা দেখে আক্রান্ত বাঙালি

এদিকে, বাংলায় এনআরসি গুজবে বাঙালি আতঙ্কে ভুগছে। একের পর এক আত্মহত্যার খবর আসছে। যে মানুষটা লোকসভা ভোটের প্রচারে রানাঘাটের বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ সরকারের সঙ্গে হনুমান সেজে ভোটপ্রচার করেছিলেন– তিনিও আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি দীর্ঘদিনের আরএসএস-বিজেপি কর্মী, নাম নিবাস সরকার, বাড়ি নদীয়া জেলার বগুলায়। তিনিই একসময় এনআরসির পক্ষে প্রচার করেছেন। ক’দিন আগে এনআরসি আতঙ্কে, কাগজপত্র খুঁজে না পেয়ে আত্মহত্যা করেছেন। এটাই আসলে বাস্তবতার কথা তুলে ধরে৷

আরও পড়ুন… বাঙালিকে কেন বারবার রাষ্ট্রপ্রেম ও নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হবে

অসমে দুর্গাপুজোর সংখ্যা কমে গিয়েছে। বাঙালি বিপদে দিন কাটাচ্ছে। অসমে উত্তরবঙ্গ থেকে প্রতিমা ও ঢাকিরা যেতেন। এসব প্রায় বন্ধ৷ এবার বাংলাতেও পুজোর জৌলুস কমেছে। মানুষ আর্থিক মন্দার শিকার, অন্যদিকে এনআরসি আতঙ্ক। আবার দূষণের কারণে গঙ্গায় প্রতিমা নিরঞ্জন নিষিদ্ধ করেছে কেন্দ্র সরকার, এটা রাজ্য সরকার করলে কী হত ভাবতে পারছেন? দূষণ কমাতে হবে, কিন্তু ছট পুজো বা গণেশ পুজোয় নিয়ম কোথায় থাকে? যত নিয়ম বাঙালির পুজোয়। পুজো কমিটিগুলোর বিরুদ্ধে আয়কর নোটিশ দেওয়া হচ্ছে, হেনস্থা করা হচ্ছে। গণেশ পুজোয় কেউ এসব ভাবতে পারে?

আরও পড়ুন… ব্রিটিশ প্রভুদের পদলেহনকারীরাই আজ নিয়ন্ত্রণ করছে রাষ্ট্রকে

বাঙালি বিদ্বেষ যে কেন্দ্রের বর্তমান শাসকদলের মজ্জায় মজ্জায়, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এই পুজোতেই ত্রিপুরায় দুর্গাপুজোয় ভাঙচুর করেছে বিজেপির লোকজন, সে তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে৷ গতবছর উত্তরপ্রদেশের কানপুরে বাঙালির ৭৩ বছরের দুর্গামন্দির ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে বিজেপির ক্যাবিনেট মিনিস্টারের ছেলে। গুজরাতের আমেদাবাদে আমিষ খাওয়ার জন্য দুর্গাপুজো বন্ধের মুখে, নয়ডাতেও সমস্যা হচ্ছে। বাঙালি দুর্গাপুজোয় আমিষ খাওয়ায় বাঙালির পিছনে পড়েছে আরএসএস-বিজেপি।

আরও পড়ুন… বাঙালি জাতির অস্তিত্ব বজায় রাখতে প্রতিরোধই একমাত্র পথ

বাংলায় ‘নভ্রাত্রি’ আমদানি হচ্ছে। ৫ বছর আগেও বাংলায় নভ্রাত্রির নাম শোনা যেত না। বিজেপি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নভ্রাত্রির দাপট বাড়ছে, নানা জায়গায় নভ্রাত্রির মাইকের ভলিউম বাড়ছে৷ বিজেপির রাজ্য সভাপতি মহালয়ার দিন নভ্রাত্রির শুরু বলে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন৷ অমিত শাহ বাংলায় এসে নভ্রাত্রি নিয়ে লাফালাফি করেছেন৷ মেদিনীপুরে বিজেপির পক্ষ থেকে বড় করে নভ্রাত্রির শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে, এককোনায় ছোট করে লেখা দুর্গাপুজোর কথা। বুঝুন বাস্তবতা কী!

আরও পড়ুন… রিজার্ভ ব্যাংকের নিয়ম মেনে পশ্চিমবঙ্গে ব্যাংকের লেনদেনে চাই বাংলা

এভাবেই বাঙালির দুর্গোৎসবকে ধ্বংস করতে চায় বিজেপি। হিন্দু বাঙালিকে বুঝতে হবে, আসল শত্রু কে! কে বা কারা বাংলার কৃষ্টি-সংস্কৃতি-পুজো-পার্বণ ধ্বংস করতে চাইছে– তা দিনের আলোর মতো স্পষ্ট৷ তাই আসল শত্রুর বিরুদ্ধে এক্ষুনি রুখে না দাঁড়ালে বাঙালি ধ্বংস হয়ে যাবে। তাই বাঙালির শত্রুদের প্রতিরোধ করাই একমাত্র কাজ।।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here