Parul

মহানগর ডেস্ক: বন্ধুই যখন শত্রু হয়ে ওঠে। সল্টলেকের বাসিন্দা পুলিশ কর্তার মেয়ে অভিযোগ এনেছে যে, তার প্রাক্তন সহপাঠী অর্কদীপ কুন্ডু অন্য মহিলার ছবির সঙ্গে তার মোবাইল নম্বর জুড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপত্তিকর পোস্ট করেছেন। প্রথম এই বিষয়টিতে গুরুত্ব দেননি পুলিশকর্তা মেয়ে। পরে গ্রুপ থেকে বেরিয়ে আসার পরও এই ধরনের ঘৃণ্যতম ঘটনা ঘটে চলেছিল।

ads

বিভিন্ন জায়গা থেকে তাঁর কাছে ফোন আসতো। এমনকি ফোন আসতো বিদেশ থেকেও। বিভিন্ন ধরনের প্রস্তাব পুলিশ কর্তার মেয়েকে দেওয়া হতো। চূড়ান্ত মানসিক অবসাদের সীমায় পৌঁছে গিয়েছিল সেই মেয়েটি। আর অভিযুক্ত ছিল বহাল তবিয়তে। প্রসঙ্গত, পুলিশ কর্তার মেয়ে আগে থেকে জানত না যে অর্কদীপ কুন্ডু তৃণমূল নেতার ছেলে।

এরপরে ১২ জুন মামলা দায়ের করা হয় অর্কদীপ কুন্ডুর বিরুদ্ধে। কিন্তু এখান থেকেই শুরু হয় প্রশ্ন। পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি আইনের কোনও ধারা প্রয়োগ না করে তিনটি জামিনঅযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করে। কিন্তু কেন? অভিযোগকারিণীর পরিবারের দাবি, নম্বর ছড়িয়ে দেওয়ায় বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন আসতে থাকে। রাতে ভিডিও কলেও ফোন আসতো। অভিযুক্ত, পুলিশকর্তা আর মেয়ের ফোন নম্বর বিভিন্ন গ্রুপে ছড়িয়ে দিয়েছিল। এছাড়াও অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা ছেলে হওয়ায় পুলিশ বিশেষ পদক্ষেপ নিচ্ছিল না বলেও অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগকারিণীর মায়ের দাবি ছিল, তৃণমূল নেতার ছেলে বলেই কি পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা! তৃণমূল নেতার পাঠানো লোক আক্রমণ করলেও কি পুলিশ চুপ থাকবে? আর এরপরে নড়েচড়ে বসে পুলিশ। সূত্রের খবর অনুযায়ী জানা গিয়েছে, যে শনিবার এই মামলায় তথ্যপ্রযুক্তি ধারায় ৬৬ সি আইডেন্টিটি থ্রেট, ৬৬ ই আপত্তিকর ছবি তোলা, ৬৭ এ আপত্তিকর ছবি তুলে তা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করার ধারা যোগ করা হয়েছে। এর সঙ্গেই ৩৫৪ ডি আপত্তিকর ছবি, মোবাইল নম্বর সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিয়ে সম্মান হানির ধারায় যুক্ত করা হয়েছে।

আর তারপরেই উত্তরপাড়া কোতরং পৌরসভা ১০ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কো-অর্ডিনেটর দীপক কুন্ডু এর ছেলে অভিযুক্ত অর্কদীপ কুন্ডুকে বারাসাত নবপল্লী এলাকায় এক আত্মীয়র বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশের দাবি, এক মাস ধরে সে আত্মগোপন করেছিল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here