kolkata bengali news, malda news

নিজস্ব প্রতিবেদক, মালদা: ইংরেজবাজারের পর এবার পুরাতন মালদা। তৃণমূল পরিচালিত পুরাতন মালদা পুরসভার চেয়ারম্যান কার্তিক ঘোষের বিরুদ্ধেও অনাস্থা এনেছেন ১৪ জন দলীয় কাউন্সিলার। শুক্রবার বিকালে মহকুমা শাসকের কাছে তাঁরা অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেন। এই ঘটনার পিছনে অবশ্য বিজেপিরই হাত দেখছেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা মালদা জেলা তৃণমূল পরির্দশক গোলাম রাব্বানি। তাঁর কথায়, ‘বিজেপি ষড়যন্ত্র করে আমাদের কাউন্সিলারদের ভড়কাচ্ছে। তবে তাঁদের ওপর আমাদের ভরসা আছে। তাঁদের সঙ্গে কথা বলে রাজ্য নের্তৃত্বকে রির্পোট দেব।’ প্রত্যেক কাউন্সিলারের সঙ্গে পৃথকভাবে কথা বলে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলা তৃনমূল কংগ্রেস সভাপতি মৌসম বেনজির নূর।

জেলা তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরাতন মালদায় মোট ওয়ার্ডের সংখ্যা ২০। এর মধ্যে ১৮টি ওয়ার্ডই রয়েছে তৃণমূলের দখলে। গত বুধবারই তৃণমূল পরিচালিত ইংরেজবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান নীহার রঞ্জন ঘোষের বিরুদ্ধে ১৫ জন কাউন্সিলরের অনাস্থা প্রস্তাব আনাকে ঘিরে জেলার রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। তার পরদিনই অর্থাৎ বৃহস্পতিবার মালদা জেলা পরিষদের মেন্টর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় জেলা তৃণমূলের অন্যতম নেতা তথা প্রাক্তন মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরিকে। যদিও কৃষ্ণেন্দু নারায়ণের দাবি, তিনি নিজে ইস্তফা দিয়েছেন। তবে যাই হোক না কেন, এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে ফের বিদ্রোহ দেখা দিল জেলা তৃনমূলে। এবার পুরাতন মালদা পুরসভাতেও তৃনমুল চ্যেয়ারম্যন কার্তিক ঘোষের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে অনাস্থা ডাকলেন ১৪ জন কাউন্সিলার। এভাবে একের পর এক পুরসভায় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দলীয় কাউন্সিলারদের বিদ্রোহ ঘোষণায় নাজেহাল অবস্থা জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের। যদিও সঙ্কট মোকাবিলায় ইতিমধ্যে কলকাতা থেকে ছুটে এসেছেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা জেলা পরির্দশক গোলাম রাব্বানি। শুক্রবার সন্ধ্যায় ইংরেজবাজারের বিক্ষুব্ধ কাউন্সিলারদের নিয়ে বৈঠকও করেন গোলাম রাব্বানি এবং মৌসম বেনজির নূর। যদিও কোনও সুরাহা হয়নি।

সূত্রের খবর, পুরাতন মালদা পুরসভার কাউন্সিলারদের বিদ্রোহের খবর আগেই পেয়েছিলেন মৌসম বেনজির নূর। খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার থেকেই তিনি বিক্ষুব্ধ কাউন্সিলারদের ক্ষোভ প্রশমনে সচেষ্ট হন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। যদিও এই ঘটনার পিছনে বিজেপির হাত রয়েছে বলে সরব হয়েছেন মন্ত্রী গোলাম রাব্বানি। তবে কাউন্সিলারদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাবে বলেও আশাবাদী তিনি। পুরসভার ভাঙন ঠেকাতে মরিয়া মৌসমও। প্রত্যেক কাউন্সিলরের সঙ্গে পৃথকভাবে কথা বলে তাঁদের সমস্যা জানার চেষ্টা করছেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here