তরুণ বিপ্লবী খুঁজতেই শুরু হয়েছিল মেদিনীপুরের সর্বজনীন দুর্গোৎসব

0
170

নিজস্ব প্রতিবেদক, মেদিনীপুর: আসল লক্ষ্য ছিল তরুণ বিপ্লবী খোঁজা। অত্যাচারী ইংরেজ সাম্রাজ্যে প্রকাশ্যে তা করা সম্ভব নয়। তাই, শুরু হয়েছিল সর্বজনীন দুর্গোৎসবের।অবিভক্ত জেলার প্রাচীনতম সর্বজনীন পুজো কর্নেলগোলা্র দুর্গোৎসব। দেশ প্রেমিকরা ঠিক করেন বাঙালীর শ্রেষ্ঠ উৎসবের আড়ালে চলবে বৈপ্লবিক শিবির। সময়টা ১৯৩৪। ইংরেজ অত্যাচার তখন তীব্র থেকে তীব্রতর। বার্জ, পেডি, ডগলাসের মৃত্যু হয়েছে বিপ্লবীদের হাতে। ইংরেজরা রাজশক্তি হারাবার ভয়ে জারি করেছে সান্ধ্য আইন। তল্লাশি ছিল নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা। চালানো হচ্ছিল নৃশংস অত্যাচার, ধরপাকড়। ইংরেজ সরকার তৎকালীন অবিভক্ত মেদিনীপুরের ওপর প্রায় ৬৮ হাজার টাকা করের বোঝা চাপিয়েছে। নিষিদ্ধ হয়েছে উৎসব অনুষ্ঠান।
যতই স্বাধীনতা আন্দোলন দমানোর চেষ্টা হোক, থেমে থাকলে চলবেনা তাই নতুন কোন মোড়কে চালাতে হবে কার্যকলাপ। শুরু হল ছক কষা।

অতুল চন্দ্র বোস, বিমল দাশগুপ্ত, বীরেন্দ্র শাসমল, খান রাজ বংশের দেবেন্দ্রলাল খান আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিলেন স্বাধীনতার জন্য বৈপ্লবিক কার্যকলাপ সুচারু ভাবে করতে হবে। বাঙালীর সবচেয়ে বড় মিলনের উৎসবে ইংরেজরা বাধা দিলে ধর্মপ্রাণ মানুষেরাও আর উদাসীন থাকবেনা। তারাও চাইবে ইংরেজ সাম্রাজ্য পতনের। তাতে বিপ্লবীদের সুবিধা হবে। এই ভেবে ইংরেজরা দুর্গা পুজোয় বাধা দিতে পারবেনা। আর পুজোর আড়ালে চলবে বৈপ্লবিক কাজ। পুঁজি খুব সামান্যই। ঠিক হল মেদিনীপুর শহরের কর্ণেলগোলায়, ব্রাম্ভ সমাজের ফাঁকা জায়গায় দেবীর আরাধনা করা হবে । নিমরাজি হয়েই মত দিল ইংরেজ সরকার। এখানে দেবীর আরাধনা আসলে ভারতমাতার মুক্তির সাধনা। তাই সাজপোষাকে বয়কট করা হল বিদেশীপণ্য। দেবীর শড়ি, গয়না সবই তৈরি হল মাটি দিয়ে। সূচনা হল পুজোর। সেই সঙ্গে আনুষঙ্গিক অনুষ্ঠান হিসেবে থাকত যুবকদের দেহ-কসরতের আসর। গোপনে সেই কসরতের ফাঁকেই স্বাধীনতা আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ ও দিক্ষিত করা হয়েছে যুবকদের। নতুন গতি পেয়েছিল স্বাধীন্তা আন্দোলন।

সেই থেকে আজও হয় এই পুজো। অবিভক্ত জেলার প্রথম সর্বজনীন পুজো। কর্ণেলগোলা আদি সর্বজনীন দুর্গোৎসব নামে পরিচিত এই পুজো।এবছর পা দিল ৮৫ তম বর্ষে। প্রথা মেনে আজও দেবীকে মাটির কাপড় ও গয়নায় সাজানো হয়। এখনও হয় দেহ সৌষ্ঠব আসর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here