ডেস্ক: নোট বাতিলের বর্ষপূর্তিতে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সঙ্গে কেন্দ্র সরকারের মতবিরোধের কাহিনী আরও একবার প্রকাশ্যে এল। ২০১৬ সালের ৮ নভেম্বর কেন্দ্রের নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করার ঘণ্টা চারেক আগেই রিজার্ভ ব্যাঙ্কের তরফে সাবধান বার্তা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও তার ছায়াসঙ্গীরা সেই সাবধানতা অমান্য করেই এরকম একটা হটকারী সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের তরফে বলা হয়েছিল, এই নোটবন্দিতে তাদের আপত্তি নেই কিন্তু যে উদ্দেশ্য নিয়ে এই সিদ্ধন্ত নেওয়া হল তা আদৌ কার্যকর হবে না। কারণ কোনও মতেই এই নোট বাতিলের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কালোটাকা উদ্ধার করা যাবে না। শুধ তাই নয় জাল নোটের বাড়বাড়ন্তও রোখা যাবে না। এই গোটা বিষয়টা লিখিত আকারে কেন্দ্রের কাছে পাঠানোও হয়েছিল রিজার্ভ ব্যাঙ্কের তরফে। সেই বাধা-নিষেধ না শুনে নোট বাতিলের এক বছর পার করতেই যা হওয়ার তাই হল। দেশবাসী চরম সমস্যায় দিন গুজরান করলেও সেই কালো টাকা কোনও মতেই উদ্ধার করা গেল না।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই বৈঠকে কেন্দ্রের ওই উদ্যোগকে প্রশংসার যোগ্য বলা হলেও সাফ জানিয়ে দেওয়া হয় দেশের জিডিপির ওপরে নেতিবাচাক প্রভাব ফেলবে নোট বাতিল। বৈঠকের ৫ সাপ্তাহ পর আলোচ্যসূচিতে সাক্ষর করেন তৎকালীন গভর্নর উর্জিত প্যাটেল। সেখানে ৬টি আপত্তির কথা উল্লেখ করা হয়। সেখানেই বলা হয়েছিল যে এই নোট বাতিলের ফলে কোনোভাবেই কালো টাকা উদ্ধার করা যাবে না। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের তরফে বলা হয়েছিল রিয়েল এস্টেট বা সোনার আকারেই দেশে সমস্ত কালো টাকা গচ্ছিত রয়েছে। তাই এই দুর্নীতির হদিশ পাওয়া সম্ভব নয়। আর নোট বাতিলের প্রভাব এর উপর পড়বে না। এই ইস্যুতে কেন্দ্রের সঙ্গে রিজার্ভ কর্তার মতবিরোধ ক্রমশ প্রকাশ্যে চলে আসছে। উল্লেখ্য, মঙ্গলবারই রিজার্ভ ব্যাঙ্ক গভর্নর উর্জিত প্যাটেলের সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে বৈঠকে বসেছিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্র অরুন জেটলি। ঠিক তারপরেই বিশেষ সূত্রে জানা যাচ্ছে, শীঘ্রই হয়ত ইস্তফা দিতে পারেন রিজার্ভ ব্যাঙ্ক গভর্নর উর্জিত প্যাটেল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here