kokata news

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, দুর্গাপুর: করোনাভাইরাস মোকাবিলায় গোটা দেশজুড়ে চলছে লকডাউন। আর সেই কারণে বহু মানুষ আজ রুটি-রুজিহীন। খেতে পাচ্ছেন না অনেকে। আস্তানাহারা হয়েছে বহু মানুষ। ভিনরাজ্যে কাজ করতে যাওয়া বহু মানুষ প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে বাড়ি ফেরার চেষ্টা করে হয়েছেন ব্যর্থ। শেষে তাদের অনেকেরই প্রশাসনের উদ্যোগে যেতে হচ্ছে কোয়ারান্টিনে। এমনই দু’জন হলেন মহসিন আর রহমান। বছর কয়েক আগে পেটের টানে পরিবার-পরিজন ছেড়ে এই দু’জন মালদা টাউন থেকে ওড়িশা গিয়েছিলেন। সেখানে কসমেটিক্স সামগ্রী ফেরি করে তারা অন্ন সংস্থান করতেন।

কিন্তু করোনা সতর্কতায় লকডাউনের জেরে সব ওলোট-পালোট হয়ে গিয়েছে।এমন অবস্থায় সেখানে না থাকে বাড়ি ফেরাই শ্রেয় মনে করেন ওই দুই যুবক। আর বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে ওড়িশা থেকে অনেক বিপদ মাথায় নিয়ে তারা পথচলা শুরু করেন আরও কয়েকজন সঙ্গীর সঙ্গে। কিছুটা আসার পর বাংলা সীমান্তে পুলিশ আটকায় তাদের। ফের তাদের ওড়িশা ফিরে যাওয়ার কথা বলা হয়। কী করবে ভেবে উঠতে না পেরে শেষে ওই যুবকরা দুর্গাপুরের মুচিপাড়ার কাছে একটি জঙ্গলে আশ্রয় নেন। সেখানেই তিনদিন ধরে না খেয়ে ওই যুবকরা লুকিয়ে ছিলেন পুলিশের ভয়ে।

অবশেষে এই খবর পৌঁছয় দুর্গাপুর নগর নিগমের চার নম্বর বোরোর চেয়ারম্যান চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে। বিষয়টি জানতে পেরে অভুক্ত থাকা ওই যুবকদের জঙ্গল থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন তিনি। এরপর তিনি বিষয়টি জানান দুর্গাপুর মহকুমাশাসককে। অবশেষে প্রশাসনের উদ্যোগে তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই হয়। ঠিক হয়েছে, আপাতত ওই যুবকরা কোকওভেন থানার পাশে একটি একটি লজে থাকবেন তারা। সেখানে তাদের খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে প্রশাসনের উদ্যোগে। পাশাপাশি তাদের জন্য করোনা সতর্কতায় সমস্ত রকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে প্রশাসনের তরফে। বাড়ি না ফেরা হলেও আপাতত নিশ্চিত আশ্রয় পাওয়ায় খুশি ওই যুবকরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here