মধ্যপ্রদেশ থেকে এনআইএর হাতে গ্রেফতার খাগড়াগড় বিস্ফোরণের আরও এক চক্রী

0
31

নিজস্ব প্রতিনিধি: বর্ধমানের খাগড়াগড় বিস্ফোরণ কাণ্ডে জড়িত আরও এক চক্রীকে গ্রেফতার করল এনআইএ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মধ্যপ্রদেশে এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। এনআইএ সূত্রে খবর, ধৃত ব্যক্তি জাহিরুল শেখ নদিয়া জেলার থানারপাড়া এলাকার করিমপুরের বাসিন্দা। ২০১৪ সালে বিস্ফোরণের পর থেকেই এলাকা থেকে গা ঢাকা দেয় জহিরুল। তাঁর সন্ধানে গত পাঁচ বছর ধরে বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালায় ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি। যদিও প্রতিবারই গোয়েন্দাদের নজরের ফাঁকগুলি পালাতে সক্ষম হয়েছিল এই কুখ্যাত জেএমবি জঙ্গি। তবে এবার আর শেষ রক্ষা হল না, মধ্যপ্রদেশ থেকে তাঁকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করলেন এনআইএর গোয়েন্দারা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ধৃতকে মধ্যপ্রদেশ থেকে কলকাতায় নিয়ে আসা হয়।

২০১৪ সালের অক্টোবর মাসে বর্ধমান জেলার খাগড়াগড়ে ঘটে যায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ। পুলিশি তদন্তে জানা যায়, সেখানে বিশাল পরিমাণ বিস্ফোরক এনে মজুত করা হয়েছিল নাশকতার উদ্দেশে ব্যবহারের জন্য। এই ঘটনায় নাম জড়ায় বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠন জেএমবির। গুরুত্ব বুঝে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশে এই ঘটনার তদন্তের ভার হাতে নেয় ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি। তদন্ত যত এগিয়েছে এনআইএর গোয়েন্দাদের জালে ধরা পড়েছে বাংলাদেশের জামাতুল মুজাহিদিন জঙ্গি সংগঠনের একের পর এক সদস্য। বেশ কয়েকজন জঙ্গিকে গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সও। দীর্ঘ তদন্তের পর ২০১৫ সালের মার্চ মাসে এই ঘটনায় প্রথম চার্জশিট পেশ করে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। পরবর্তীকালে আরও চারটি সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট পেশ করে তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। যদিও এখনও পর্যন্ত অধরা বেশ কয়েক জন জঙ্গি ও সন্দেহভাজন। এই ঘটনার তদন্ত চলাকালীন জাহিরুল শেখের সন্ধান পায় এনআইএ।

খাগড়াগড় বিস্ফোরণ কাণ্ডের সঙ্গে তাঁর যোগ সম্পর্কে নিশ্চিত হতেই তাঁর নদিয়ার বাড়িতে তল্লাশি চালান গোয়েন্দারা। বছর একত্রিশের জাহিরুল নদিয়ার থানারপাড়া থানা এলাকার করিমপুরের বাসিন্দা। তাঁর বাড়িতে গোয়েন্দারা অভিযান চালালেও ধরা যায়নি জাহিরুলকে। পরিবারের সদস্য এবং প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায় এই বিস্ফোরণের পর থেকেই এলাকা থেকে পালিয়ে গিয়েছিল জাহিরুল শেখ। তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে প্রচুর পরিমাণ জেল এক্সক্লুসিভ বা তরল বিস্ফোরক পদার্থ বাজেয়াপ্ত করা হয়। এরপর থেকেই গোয়েন্দাদের খাতায় মোস্ট ওয়ান্টেড হয়ে ওঠে জাহিরুল।

গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সোমবার মধ্যপ্রদেশে অভিযান চালায় এনআইএর একটি বিশেষ তদন্তকারী দল। সেখান থেকেই তাঁকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। গোয়েন্দা সূত্রের খবর, নদিয়ার শিমুরালিতে একটি মাদ্রাসায় থাকত জহিরুল। সেই মাদ্রাসায় দীর্ঘদিন ধরেই অস্ত্র প্রশিক্ষণ চলত বলে জানা যায় তদন্তে। এই প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিল জাহিরুল শেখ। তার নিজের একটি ন্যানো গাড়ি ছিল, গাড়িটি নিজেই চালাত জহিরুল। এনআইএর তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, ওই মাদ্রাসায় অস্ত্র প্রশিক্ষণ নিতে আসা জঙ্গিদের যাতায়াতের ব্যবস্থার ভার ছিল জাহিদুলের ওপর। ওই মাদ্রাসায় যে সব জঙ্গিরা অস্ত্র প্রশিক্ষণ নিত, তাদের নিজের গাড়িতেই নিরাপদে পৌঁছে দিয়ে আসত ধৃত জাহিরুল। এ দিন তাঁর ন্যানো গাড়িটিও বাজেয়াপ্ত করে এনআইএ। তাকে মঙ্গলবার ট্রানজিট রিমান্ডে কলকাতায় আনা হয়। নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার পর তাঁকে জেরা করে এই তদন্তে আরও অগ্রগতি হবে বলে মনে করছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here