আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম সহ শহরে গ্রেপ্তার এক, জিজ্ঞাসাবাদ করতেই খোঁজ মিলল কারখানার

0
248
kolkata bengali news

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গত সোমবার থেকে একের পর এক তল্লাশি অভিযানে শহর কলকাতা থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েই চলেছে। আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছে বেশ কয়েকজন দাগী দুষ্কৃতীকে। ধরা পড়েছে একটি উঠতি গ্যাংয়ের নেতাও। এর পরেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বুধবারও আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম সহ তারাতলা থেকে এক দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করল কলকাতা পুলিশ। ধৃত সফিকুল গাজী ওরফে মির্জা উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার হাবড়ার বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে।

গত শুক্রবার এন্টালি থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলার সূত্র ধরে তদন্তকারী আধিকারিকেরা খবর পান, এক আগ্নেয়াস্ত্র কারবারির খুব শীঘ্রই শহরে আসতে পারে। আগ্নেয়াস্ত্রের হাত বদলের জন্য গুগল সূত্রে পাওয়া সেই খবর সম্পর্কে নিশ্চিত হতেই বুধবার তারাতলায় সাদা পোশাকে মোতায়েন হয় এন্টালি থানার পুলিশ। এর পরেই বেশ কিছুক্ষণ নজরদারি চালানোর পর পুলিশের ফাঁদে পা দেয় শফিকুল। তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে উদ্ধার হয় বেশ কিছু আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম। বোঝা যায়, শুধু পাচার নয় আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির আঁতুড়ঘরের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এই দুষ্কৃতী। ধৃতকে হেফাজতে নিয়ে শুরু হয় লাগাতার জেরা। এরপর পুলিশি জেরায় নিজের অপরাধ কবুল করে একের পর এক তথ্য জানাতে শুরু করে ধৃত দুষ্কৃতী।

জেরায় পুলিশ জানতে পারে, উত্তর চব্বিশ পরগনার মিনাখাঁ থানার অন্তর্গত একটি গ্রামে আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির কারখানা চালাত সে। দেশীয় পদ্ধতিতে সেই কারখানায় তৈরি হত একের পর এক পিস্তল। এর পরেই হাত বদল হয়ে সেগুলি পৌঁছে যেত দুষ্কৃতীদের কাছে। ধৃতকে জেরা করে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী বিশেষ দল গঠন করে উত্তর চব্বিশ পরগনার উদ্দেশে রওনা দেয় এন্টালি থানার পুলিশ। এর পর স্থানীয় পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে মিনাখাঁ থানার অন্তর্গত চোয়াল গ্রামে হানা দেয় এন্টালি থানার পুলিশ। খোঁজ মেলে বিপুল আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির কারখানার।

দেখা যায় একটি ফেরির ভেতর ছোট্ট কুঁড়ে ঘরের মধ্যেই চলছিল বিপুল আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির কাজ কারবার। সেখানে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয় আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির অসংখ্য সরঞ্জাম। বাজেয়াপ্ত হয় দু’টি সিঙ্গল শট রিভলবার ও সাতটি অসম্পূর্ণ অবস্থায় থাকা সিঙ্গল শট রিভলবার। ঘটনাস্থল থেকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয় আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির দুই কারিগরকে। ধৃতদের নাম মহম্মদ শামসের আলম ও মোহাম্মদ ফিরোজ।

দু’জনেই বিহারের মুঙ্গেরের বাসিন্দা বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। ধৃতদের আজ আদালতে তোলা হবে। প্রত্যেকেই নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন জানাবে পুলিশ। ধৃতদের জেরা করে অস্ত্র কারবারের সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য মিলতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here