নিজস্ব প্রতিবেদক, ঝাড়গ্রাম: ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় একই দিনে পৃথক দু জায়গায় হাতির হানায় এক মহিলা সহ দুজন ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনার পর ফের পনেরো দিনের মাথায় হাতির হানায় মৃত্যু হল এক মহিলার। রবিবার ভোরে ঘটনাটি ঘটেছে ঝাড়গ্রাম জেলার নয়াগ্রাম ব্লকের চাঁদাবিলা রেঞ্জের পাতিনা গ্রামে। বনফতর জানিয়েছে মৃত ওই মহিলার নাম রাধারানী ঘোষ(৫৮)। বাড়ী ওই গ্রামেই। বনদফতর সূত্রে জানা গিয়েছে এদিন রাধারানী ভোর বেলায় প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গ্রাম লাগোয়া জঙ্গলে গিয়েছিলেন। ওই জঙ্গলে দলমা পাহাড় থেকে আসা এগারোটি হাতি ছিল। হাতি গুলি সেই সময় জঙ্গলের একটি রাস্তা ধরে পারাপার করছিল। আর তখনই রাধারানী ওই হাতি গুলির সামনে পড়ে যান। ওই দলের মধ্য থেকে একটি হাতি রাধারানীকে শুঁড়ে জড়িয়ে ধরে মাটিতে আছাড় মারে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ওই তার। গ্রামের লোকের ভয়ার্ত চিৎকার শুনে জঙ্গলে পৌছালে ততক্ষনে হাতির দল কিছুটা দূরে চলে গিয়েছিল। গ্রামবাসীরাই পুলিশ ও বনদফতরকে খবর দিলে মহিলাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেল চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষনা করেন।

বনদফতর সূত্রে জানা গিয়েছে দলমা পাহাড়ের জঙ্গল থেকে আসা এই এগারোটি হাতির দল নয়াগ্রাম, গোপীবল্লভপুর এবং কলাইকুন্ডা রেঞ্জে ঘোরাঘুরি করছে। কিছুদিন আগে কলাইকুন্ডা রেঞ্জ থেকে ঝাড়গ্রামের মানিকপাড়া এলাকায় ঢুকে এরা পড়েছিল। কিন্তু আবারও দলটি নয়াগ্রামে ফেরৎ চলে আসে। বর্তমানে দলটি নয়াগ্রামের বিভিন্ন রেঞ্জের জঙ্গলে ঘোরাফেরা করছে। উল্লেখ্য গত ৯ জুন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ভুরকুন্ডীশোল গ্রামের বাসিন্দা বাসনা মাহাত খাওয়াদাওয়া করে বাড়ীর উঠোনে ঘুমিয়েছিলেন। সেই সময় একটি রেসিডেন্সিয়াল হাতি বাসনা দেবীকে শুঁড়ে তুলে আছাড় মারলে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছিল তার। অন্যদিকে পরের দিন ভোরে ৫ টা নাগাদ লালগড়ের দোলকুন্ডী গ্রামের বাসিন্দা ঈশ্বর মান্ডী কচড়া, মহুল কুড়োতে গ্রামের পাশের জঙ্গলে গিয়েছিলেন। ওই সময় জঙ্গলে থাকা একটি রেসিডেন্সিয়াল হাতির হামলায় মৃত্যু হয়েছিল তার। এছাড়াও বনদফতর সূত্রে জানা গিয়েছে গত তিন মাসের মধ্যে কেবল নয়াগ্রামেই হাতির হানায় মারা গিয়েছে এ পর্যন্ত দুই জন। এছাড়া গত দেড় মাস ঝাড়গ্রাম, সাঁকারাইল,লালগড় এবং বেলপাহিড়িতে হাতির হানায় মারা গিয়েছে পাঁচ জন।

এদিকে একের পর হাতির হানায় মৃত্যুর ঘটনা বাড়তে থাকায় উদ্বেগ বাড়ছে বনদফতরের। দীর্ঘ কয়েক বছর আগে ওড়িশা ও ঝাড়খন্ড সরকার দলমা থেকে আসা দাঁতালদের ফিরে যাওয়ার বেশ কিছু পথ বন্ধ করে দিয়েছে। যার ফলে ওড়িশা ও ঝাড়খন্ডের দলমা পাহাড় থেকে দাঁতালের দল এরাজ্যে কোনও ভাবে চলে আসলেও অতি সহজে তাঁরা ফিরে যেতে পারে না। যার জন্য রাজ্যের ওড়িশা ও ঝাড়খন্ড সীমান্তবর্তী এলাকার ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বিভিন্ন জঙ্গল গুলিতে রেসিডেন্সিয়াল হাতির সংখ্যা দিনের পর দিন বেড়ে চলেছে। এছাড়াও ওই দুই জেলার জঙ্গলের পরিধি বেড়েছে, জঙ্গলের মধ্যে জল, পর্যাপ্ত পরিমানে খাবার পাওয়ায় দাঁতালের দলকে দলমায় ফেরত পাঠানো হলেও আবার পুনরায় তারা এরাজ্যের সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে ফিরে আসছে। যার ফলে হাতির সংখ্যাও বেড়েছে। এরজন্য মৃত্যু সংখ্যা বাড়ছে বলে বনদফতরের একটি থেকে জানা গিয়েছে। তবে হাতির হানায় মৃত্যু ঘটনা এড়াতে, হাতির আগাম গতিবিধি জানাতে বনদফতর হাতির গলায় রেডিও কলার পরানোর কাজ শুরু করেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here