নিজস্ব প্রতিবেদক, রায়গঞ্জ: সাত বছরের এক শিশুকে খুন করে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল দুস্কৃতীদের বিরুদ্ধে। নৃশংস এই হত্যাকান্ডটি ঘটেছে উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ সদর মহকুমার কর্নজোড়া পুলিশ ফাঁড়ির অন্তর্গত পশ্চিম বোগ্রাম গ্রামে। মৃত শিশুর নাম দেবু রায়। ঘটনাস্থলে কর্নজোড়া ফাঁড়ির পুলিশ পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রায়গঞ্জ জেলা হাসপাতালে পাঠিয়েছে। শিশু হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে গর্জে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনাস্থল থেকে একটি দশ টাকার নোট ও একটি আধা খাওয়া আপেল উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রায়গঞ্জের পশ্চিম বোগ্রামের বাসিন্দা বাদল রায়ের সাত বছরের ছেলে দ্বিতীয় শ্রেনীর ছাত্র দেবু গতকাল বিকেলে বাড়ি থেকে বের হয়। পরিবারের লোকেরা জানে দেবু খেলতে বেড়িয়েছে। এরপর রাত আটটা বাজলেও দেবু বাড়িতে না আসায় তাকে খুঁজতে বের হয় পরিবারের লোকেরা। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও দেবুকে পাওয়া না গেলে স্থানীয় কর্নজোড়া পুলিশ ফাঁড়িতে নিখোঁজের ডায়েরি করে ছোট্ট শিশু দেবুর পরিবার। শনিবার সকালে দেবুর বাড়ি থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে একটি জঙ্গলাকীর্ণ এলাকায় গলায় দড়ি বাঁধা উলঙ্গ অবস্থা একটি গাছের সঙ্গে গলায় কাপড় দিয়ে বাধা একটি শিশুকে দেখেন স্থানীয় এক মহিলা। ভয়াবহ এই দৃশ্য দেখে সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন ওই মহিলা। সেসময় আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তা দেখেন এবং শনাক্ত করেন গতকাল থেকে নিখোঁজ থাকা শিশু দেবুকে।

এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। মৃতদেহের পাশে একটি আধা খাওয়া আপেল ও একটি দশ টাকার নোট দেখতে পান এলাকার বাসিন্দারা। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনুমান গতকাল মনসা পুজো ছিল, কোনও তন্ত্রকার্য সিদ্ধ করতেই ওই শিশুকে হত্যা করা হয়েছে, নয়তো বা কোনও অপরাধমূলক কাজ করতে শিশুটি দেখে ফেলায় তাকে নৃশংসভাবে খুন করে মেরে ফেলা হয়েছে। দুস্কৃতীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে চরমতম শাস্তির দাবি তুলেছেন পশ্চিম বোগ্রামের বাসিন্দারা। তবে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান শিশুটি টাকা ও আপেলের লোভ দেখিয়ে এই নির্জন জায়গায় এনে খুন করা হতে পারে। শিশুর মৃতদেহ ময়নাতদন্তের পাশাপাশি ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here