ডেস্ক: গত কয়েকদিন ধরে মহানাগরিক শোভন চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। কাজে অবহেলা সহ নানান কারণে গুজব চলছিল তাঁর দল ছাড়া নিয়েও। এদিকে চলছে পুরসভার বাজেট অধিবেশন। সেখানে মহানাগরিক শোভনবাবুকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করল বিরোধীরা। যা নিয়ে সকাল থেকে একচোট হইচই চলল পুরনিগমের অধিবেশন কক্ষে।

এদিন সকালে পুরসভার বাজেট অধিবেশন চলাকালীন শোভন চট্টোপাধ্যায়কে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আক্রমণ করেন বিরোধী কংগ্রেস ও সিপিএম। সেই সময় অধিবেশন কক্ষে উপস্থিত খোদ শোভনবাবুও। বিরোধীরা তাঁকে নিয়ে কটাক্ষ করে বলেন, ‘ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বিপর্যস্ত শোভন চট্টোপাধ্যায়। কাজে মন নেই তাঁর। বিভিন্ন এলাকায় ১০০ দিনের কাজে কোনও হেলদোল নেই মেয়রের। ওনার ব্যক্তিগত জীবনের প্রভাব এসে পড়ছে সাধারণ মানুষের উপর। এটা তো হতে পারে না।’ বিরোধীদের এই বক্তব্যকে পাল্টা দিতে এরপরই মাঠে নামেন মেয়র পরিষদ দেবাশিস কুমার। নিজের চেয়ার ছেড়ে ওয়েলে নেমে আসেন তৃণমূলের কাউন্সিলররা। এরপর সিপিএম কাউন্সিলরদের সঙ্গে বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন তাঁরা। দেবাশিস কুমারকে থামাতে মাঠে নামেন সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র। পুরসভার চেয়ারপার্সন মালা রায় বারে বারে তাঁকে থামতে বলেন। দীর্ঘ বাদানুবাদের পর অবশেষে নিজের চেয়ারে ফিরে যান দেবাশিসবাবু।

উল্লেখ্য, স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে আইনি লড়াই, শ্বাশুড়ি কস্তুরি দাসের শেষকৃত্যে গড়হাজির থাকার পর তৈরি হয়েছিল জল্পনা৷ রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা রাজনীতি বর্হিভূত ঘটনায় নিজেকে জড়িয়ে ফেলায় দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর প্রিয় কাননের থেকে দূরত্ব বাড়িয়েছেন৷ সেই জল্পনা আরও জোরাল হয় যখন ঘরের ধারে নজরুল মঞ্চে কোর কমিটির মিটিয়ে তাঁর অনুপস্থিতি৷ দলকল মন্ত্রী হয়েও নজিরবিহীনভাবে রবিবার ধাপায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড নিয়ে কোনও বক্তব্য ছিল না৷ পুরসভার অধিবেশনে শোক প্রস্তাবের পর যোগদান, সব মিলিয়ে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের তৃণমূল ত্যাগ নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে আলোচনা চলছিলই৷ শোনা যাচ্ছিল বাজেটের পরই নাকি মেয়রপদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছেন শোভনবাবু। সেইসঙ্গে মন্ত্রীত্ব ছাড়ছেন৷ ছাড়বেন তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য পদ ও সংগঠনের সমস্ত পদ৷

তবে সমস্ত জল্পনাকে ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়েছেন শোভন চট্টোপাধ্যায়৷ তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে৷ এমনকী, কোনও কিছুর জন্যই নাকি দলনেত্রী তাঁকে সতর্ক করেননি৷ একইসঙ্গে তাঁর জীবন নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগত ও দাম্পত্য জীবনে যা হয়েছে, তা যেন আমার চরম শত্রুও না হয়৷ তবে স্ত্রীর সঙ্গে আইনি লড়াই চললেও ছেলের প্রতি তিনি দায়িত্ব পালন করে যাবেন৷’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here