news bengali

মহানগর ওয়েবডেস্ক: করোনা সংক্রমণ রুখতে রাজ্যে লকডাউনের মেয়াদ আরও দুসপ্তাহ বাড়ানোর কথা ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। এদিকে অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার করতে ৮ ই জুন থেকে সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ কর্মী নিয়ে সরকারি বেসরকারি দপ্তরের কাজকর্ম চালু হতে চলেছে। কিন্তু বন্ধই থাকছে শহরতলির ট্রেন ও মেট্রো চলাচল। বেসরকারি বাস চলাচলও আপাতত প্রায় বন্ধই থাকছে এমত অবস্থায় কিভাবে অফিসে হাজিরা দেবেন নিত্য যাত্রীরা? সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে উঠেছে। পরিবহণের ব্যবস্থা না করে সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের কাজ শুরু করার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে বিজেপি। একই সুর সিপিএম এবং কংগ্রেসেরও। বর্তমান অবস্থায় সরকারের বাস ভাড়া বাড়ানোর বিষয়টি ভাবনা চিন্তা করা উচিত বলে মত প্রদেশ কংগ্রেসের।

অফিস টাইমের ব্যস্ততা, ভিড়, যানজটের ছবিটা অনেকদিন দেখেনি কলকাতা। শিয়ালদা, হাওড়া স্টেশনে বা মেট্রোর ভিড়ে ঠাসা প্লাটফর্মে অফিস যাত্রীদের তৎপরতা অনেকদিন চোখে পড়ছে না। তবে এই ছবিটা অনেকটাই বদলে যেতে পারে দিন দশেক বাদে। কারণ সিংহভাগ কর্মীকে নিয়ে আবার চালু হতে চলেছে সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন অফিস। কিন্তু সরকারের এই ঘোষণায় নতুন করে সমস্যায় পড়েছেন নিত্যযাত্রীরা। কারণ অফিস চালু হলেও মেট্রেো বা শহরতলির ট্রেন চালানো নিয়ে কোন ঘোষণা করেনি সরকার। বরং এখনই লোকাল ট্রেন ও মেট্রো চলাচল নিয়ে রাজ্য সরকার কেন্দ্রের কাছে আপত্তি জানিয়েছে। সরকারি হোক বা বেসরকারি, শহরের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মীদের একটি বড় অংশ শহরতলির বাসিন্দা। এমত অবস্থায় অফিস শুরু হলেও কিভাবে সেখানে পৌঁছাবেন ভেবেই আকুল তারা।

শনিবার কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে যেসব ছাড়ের কথা ঘোষণা করা হয়েছে তার মধ্যে লোকাল ট্রেনের কোনও উল্লেখ নেই। এর আগে যদিও রেলবোর্ড আলাদা করে নির্দেশ জারি করেছিল। সেই নির্দেশ অনুসারে রবিবার পর্যন্ত লোকাল ট্রেন বন্ধ থাকার কথা। কিন্তু সোমবার থেকে কি হতে চলেছে, তা রেলের আঞ্চলিক কর্তারা জানাতে পারেননি। রেলের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী আগামী জুন পর্যন্ত বন্ধ থাকবে মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেন। এদিকে শিয়ালদাহ এবং হাওড়া ডিভিশনের রেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের সবকিছুই প্রস্তুত রয়েছে। শুধুমাত্র দিল্লির সবুজ সিগনালের অপেক্ষা। তাই আগামী সপ্তাহে যদি কোনও নতুন ঘোষণা থাকে লোকাল ট্রেন চালানোর ক্ষেত্রে, এখন সেদিকেই সবাই তাকিয়ে রয়েছেন। পাশাপাশি স্বস্তিতে নেই শহরের বাসিন্দারাও কারণ মেট্রো না থাকায় তাদের একমাত্র ভরসার স্থল এখন বাস।

যদিও রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজ্যে বেসরাকরি বাস চলাচল নিয়ে অচলাবস্থা অব্যাহত রয়েছে। এদিন নিজেদের অবস্থান ঠিক করতে বৈঠকে বসে শহরের বিভিন্ন বাসমালিক সংগঠন। সেখানে বেসরকারি বাসের ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। জয়েন্ট কাউন্সিল অফ বাস সিন্ডিকেট, মিনিবাস অপারেটার্স কো-অর্ডিনেশন কমিটি, ওয়েস্ট বেঙ্গল বাস মিনিবাস ওনার্স অ্যাসোশিয়েশনের মত সহ বেশ কয়েকটি বাস মালিক সংগঠন নিজেদের সিদ্ধাান্তের বিষয়ে একমত। জয়েন্ট কাউন্সিল অফ বাস সিন্ডিকেট-এর সাধারণ সম্পাদক তপন বন্দোপাধ্যায় বলেন, বেসরকারি বাসের ভাড়া নির্ধারণ করার জন্য নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়ে একটি রেগুলেটরি কমিটি গঠনের জন্য রাজ্য সরকারের কাছে দাবি জানান হবে। তবে বাস ভাড়া বৃদ্ধি না হলে বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনোভাবেই গাড়ি চালানো সম্ভব নয়। পাশাপাশি গাড়ির চালক ও কন্ডাক্টরদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যবস্থা রাজ্য সরকার নেওয়ার একটি প্রস্তাবও এদিনের বৈঠকে গৃহীত হয়। সমস্ত বিষয় নিয়ে আগামী মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী পরিবহণ মন্ত্রী ও পরিবহণ সচিব কে স্মারকলিপি দেওয়া হবে বলে ও তপন বাবু জানিয়েছেন।

যদিও অল বেঙ্গল মিনিবাস সমন্বয় সমিতি নামে মিনিবাস মালিকদের এক সংগঠন জানিয়েছে, সোমবার থেকে হাওড়া, কলকাতা ও রাজ্যের আরও কিছু জেলায় তারা বাস নামাবেন। পাশাপাশি বেঙ্গল বাস সিন্ডিকেট এর সহ সভাপতি সুরজিৎ সহা আগামী সপ্তাহেই রাস্তায় বাস নামবে বলে জানিয়েছেন। যদিও বাস ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে ওই দুই সংগঠন সহমত পোষণ করেছে। সব বেসরকারি বাসের চাকা না গড়ালে হাতে গোণা সরকারি বাস কিভাবে নিত্য যাত্রীর ভিড় সামাল দেবে তা নিয়ে আশঙ্কায় শহরের বাসিন্দারা।

এদিকে হাওড়া ও কলকাতার মধ্যে সোমবার থেকে জলপথে ফেরি চলাচল শুরু হচ্ছে। পরিবহন দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৮টা থেকে সন্ধে ৬টা পর্যন্ত চালু থাকবে এই পরিষেবা এবং এক ঘণ্টা অন্তর ফেরি চলবে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে ৪০শতাংশ যাত্রী নিয়ে প্রতিটি ফেরি চালানো হবে। হাওড়া এবং কলকাতার মধ্যে ৯টি রুটে এই পরিষেবা শুরু হচ্ছে। হাওড়া থেকে যথাক্রমে ফেয়ারলি, বাবুঘাট, বাগবাজার, শোভাবাজার ও আহিরিটোলা রুটে ফেরিগুলি চলাচল করবে। এছাড়া হাওড়ার রামকৃষ্ণঘাট থেকে চাঁদপাল রুটেও ফেরি চালানো হবে বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে গণ পরিবহণের অপ্রতুলতার মধ্যেই রাজ্য সরকারে ৮ই জুন থেকে সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের কাজকর্ম চালু করার ঘোষণা করায় সুর চড়িয়েছে বিজেপি। দলের জাতীয় সম্পাদক রাহুল সিনহা অভিযোগ করেন, পরিবহনের ব্যবস্থা না করেই সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মেট্রো ও ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। বেসরকারি বাস চলাচল আপাতত বন্ধ থাকছে এবং সরকারি বাসও চাহিদা অনুযায়ী সংখ্যায় অনেক কম। তাই কাজে বেরিয়ে মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হবে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র বলেন, মানুষের কর্মস্থলে যেতে হলে বেসরকারি বাসের উপর নিৰ্ভর করতেই হবে। অথচ সেই ব্যবস্থা বর্তমানে নেই। লোকাল ট্রেন চালু না হওয়ার ফলে, যারা দূরে থাকেন তারা কি করে কর্মস্থলে গিয়ে ডিউটিতে যোগ দেবেন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here