kolkata bengali news, BJP.

নিজস্ব প্রতিবেদক, উলুবেড়িয়া: বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে হাওড়া জেলার উলুবেড়িয়া মহকুমার বাগনান থানার ওড়ফুলি গ্রাম পঞ্চায়েত সংলগ্ন এলাকা গত পাঁচ দিন ধরে কার্যত রনক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে। কয়েক দিন আগে ঘটনার সূত্রপাত হলেও সোমবার রাতে তা চরম পর্যায়ে পৌছায়। এই ঘটনার জেরে সোমবার রাতে ছ’নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিজেপির এক গোষ্ঠীর সমর্থকেরা। বুধবার পর্যন্ত এই ঘটনার জেরে পুলিশ মোট নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে। উদ্ধার করা হয়েছে সত্তরটিরও বেশি বাইক। রবিবার বিকেলে এই ঘটনার সূত্রপাত ঘটলেও বুধবার পর্যন্ত এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ বজায় রয়েছে। এতটাই আতঙ্ক যে ঘটনার বিবরণ দিলেও কেউ নামপ্রকাশে রাজি নয়। যদিও বিজেপি নেতৃত্ব গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কথা স্বীকার করেনি। বিজেপির পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে তৃণমূলের এক নেতার  বিরুদ্ধে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত বিক্ষোভ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্রের খবর, তৃণমূল থেকে নির্বাচিত ওড়ফুলি গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য তৈমুর মোল্লা ওরফে বাপি মোল্লা কিছু দিন আগে বিজেপিতে যোগ দেন। তার কিছুদিনের পর এলাকার এককালের সিপিএমের নেতা ও পরবর্তী কালে তৃণমূলের নেতা প্রদ্যুৎ ঘোষও বিজেপিতে যোগ দেন। এলাকার লোকজনের বক্তব্য, ওই এলাকার বিজেপি কার নেতৃত্বে থাকবে তা নিয়েই দুই নেতার গন্ডগোল বাধে। ঘটনার সূত্রপাত রবিবার দুপুরে। ওড়ফুলি গ্রামের রানা গ্রামে সদ্যপ্রয়াত প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী অরুন জেটলির স্মরণ সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সেই সভায় বাপি মোল্লা ও তার সমর্থকরা অরুন জেটলির স্মরণসভা করে চলে যান।  পরে ওই এলাকায় বিজেপি নেতা প্রদ্যুৎ ঘোষের লোকজন অরুন জেটলির স্মরণসভায় যোগ দিতে যান। স্থানীয় মানুষজন বলেন, এই সভা সেরে ফেরার পথে বাপি মোল্লার সমর্থকদের সঙ্গে প্রদ্যুৎ ঘোষের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। গন্ডগোলের সময় যথেচ্ছ বোমা পড়ে বলে অভিযোগ। তার জেরে বাইক ছেড়ে পালিয়ে যান অনেকে। এই গডগোলের ফলে দেউলটি থেকে রানাপাড়া যাওয়ার রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বাজারের দোকানও বন্ধ করে দেন মালিকরা।

সংঘর্ষের খবর পেয়ে রবিবার রাত্রে বাগনান থানার এক বিরাট পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। রবিবার রাতে তারা সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়। যদিও যারা বাইক ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন তারা কেউই গ্রামে ঢুকে তাদের বাইক উদ্ধার করতে পারেনি। তার জেরে সোমবার বাগনান থানার পুলিশ ফের রানা গ্রামে গিয়ে সত্তরটির বেশি বাইক উদ্ধার করে বাগনান থানায় নিয়ে আসে। এদিকে বাপি মোল্লার অনুগামীদের অভিযোগক্রমে বাগনান থানার পুলিশ প্রথমে চারজনকে গ্রেপ্তার করে। ধৃতরা প্রদ্যুৎ ঘোষের অনুগামী বলে জানা গেছে। এদিকে সোমবার সন্ধ্যায় রটে যায় প্রদ্যুৎ ঘোষ গ্রেফতার হয়েছে। এই খবর রটে যাওয়ার পরে প্রদ্যুৎ ঘোষের অনুগামীরা সোমবার রাতে ছ’নম্বর জাতীয় সড়কের দেউলটিতে অবরোধ করে। এদিকে এই অবরোধের খবর পেয়ে বাগনান থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। পুলিশ অবরোধ তুলতে লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ। সেখান থেকে দুজনকে, পরে আরও তিনজনকে গ্রেফতার করে। ধৃতদের মঙ্গলবার উলুবেড়িয়া মহকুমা আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় তারা বাপি মোল্লার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। তারা প্রদ্যুৎ ঘোষের অনুগামী দাবি করে অভিযোগ করেন, বাপি মোল্লা বিজেপিতে থাকলেও সে আদতে তৃনমূলের লোক।

ঘটনার জেরে বিজেপির হাওড়া গ্রামীন জেলার সভাপতি অনুপম মল্লিক বলেন, ‘এই ঘটনার সঙ্গে তাদের দলের কোনও যোগ নেই। বাপি মল্লিক ও প্রদ্যুৎ ঘোষ দুজনেই আমাদের দলের স্থানীয় নেতা। তারা দুজনেই তৃণমূল থেকে এসেছে। তাদের অনুগামীরা এসেছেন কিনা তার জানা নেই। স্বাভাবিক ভাবেই এই গন্ডগোলের সঙ্গে দলের কেউ জড়িত নয় বলেই আমার বিশ্বাস। এই ঘটনার জন্য আদতে তৃণমূল দায়ী।’ অন্যদিকে তৃণমূল নেতা ও বাগনানের বিধায়ক অরুনাভ সেন (রাজা) বলেন, ‘বাগনানে বিজেপির নেতা কে হবে, তা নিয়েই বাপির সঙ্গে প্রদ্যুৎ ঘোষের লড়াই হচ্ছে। ওই দুই নেতার সঙ্গে বিজেপির হাওড়া গ্রামীন জেলার সভাপতি অনুপম মল্লিকের ছবি মানুষ দেখেছে। ওড়ফুলিতে গন্ডগোলের সঙ্গে তৃণমূলের কোন কর্মীর থাকার প্রশ্নই নেই। ওরা নিজেদের মধ্যে মারামারি করবে, করুক। কিন্তু তার জন্য পথ অবরোধ করে অ্যাম্বুলেন্সও কেন আটকাবে? পুলিশের গাড়ির ওপর কেন চড়াও হবে। এ ব্যাপারে আইন আইনের পথেই চলবে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here