হাসপাতাল সুপারের আশ্বাসের পরেও বন্ধ আউটডোর, জরুরী বিভাগেই চলল রোগীদের চিকিৎসা

0
67

নিজস্ব প্রতিবেদক, বর্ধমান: জুনিয়র ডাক্তারদের কর্মবিরতি  দ্বিতীয় দিনে পা দিল। মুখ্যমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারীকে পাত্তা না দিয়েই নিজেদের দাবিদাওয়ার সমর্থনে অনড় জুনিয়র ডাক্তার, ইন্টার্ণ সহ সরকারী হাসপাতালের সিনিয়র ও অন্যান্য চিকিৎসকরা৷ তাঁদের আন্দোলনে যোগ দেওয়ায় ক্রমশই পরিস্থিতি হাতের বাইরে যেতে শুরু করেছে। কলকাতার এনআরএস কাণ্ডের জেরে গত মঙ্গলবার থেকেই বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালেও দেখা গিয়েছে একই চিত্র। শুধু তাই নয়, আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েই হাসপাতালের ভেতর মাইক বাজিয়ে চলছে শ্লোগান, পিকেটিংও। বৃহস্পতিবারই মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে বর্ধমান হাসপাতালের জুনিয়র ডাক্তারদের দেওয়া তালা ভেঙে জরুরী বিভাগ চালু করে হাসপাতাল সুপার ডা. উত্পল দাঁ জানিয়েছিলেন,শুক্রবার থেকেই খুলে দেওয়া হবে আউটডোরও। তিনি জানিয়েছেন, সিনিয়র ডাক্তার, ফ্যাকাল্টি মেম্বার সকলের সঙ্গেই এ ব‌্যাপারে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু শুক্রবার সকাল থেকে পরিস্থিতির বিন্দুমাত্র উন্নতি ঘটেনি। ফলে চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েন রোগীরা।

এদিনও আউটডোর খোলেনি। হাসপাতাল সুপার ডা. উত্পল দাঁ জানিয়েছেন, এদিন তাঁরা চেষ্টা করেও আউটডোর চালু করতে পারেননি। তবে পুরনো রোগীদের এদিন জরুরী বিভাগ লাগোয়া ঘরে চিকিৎসা করানো হয়েছে। প্রায় ১৫০০ রোগীর এদিন চিকিৎসা করানো হয়েছে। যদিও নতুন টিকিট করা হয়নি।  গত কয়েকদিনের মতই এদিনও বহু রোগী এসে ফিরে যান। উল্লেখ্য, এনআরএস কাণ্ডের জেরে জুনিয়র ডাক্তারদের মূল যে দাবি তাঁদের নিরাপত্তা, সেই বিষয় নিয়ে বৃহস্পতিবারই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে কলকাতায়।

এরপর শুক্রবারই সেই বৈঠকের নির্যাস পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে রাজ্যের সমস্ত জেলায় জেলায় সরকারী হাসপাতালগুলিতে। একইসঙ্গে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দ্রুততার সঙ্গে এই নির্দেশ কার্য্যকরী করতে হবে। জানা গিয়েছে, মোট ১০ দফা নির্দেশিকায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট জেলার স্বাস্থ্য দফতরের প্রতিনিধি, পুলিশ অফিসার এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নিয়ে হাসপাতালের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ব্যবস্থার বিষয়। হাসপাতালের প্রতিটি জায়গায় সিসিটিভি লাগানো, পর্যাপ্ত পেশাদারী নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ করার বিষয়। প্রতি সপ্তাহে নিরাপত্তার বিষয়টি রিভিউ করা এবং সেই অনুযায়ী পরবর্তী নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা।

হাসপাতালের জরুরী প্রয়োজনে অ্যালার্ম এবং হটলাইন ব্যবহার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ দেওয়া হয়েছেসএকটি কেন্দ্র থেকেই গোটা নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে পরিচালনা করার। হাসপাতালে অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটলে দ্রুত পুলিশকে তা দেখার পাশাপাশি রোগীপক্ষের কোনেও অভিযোগ থাকলে তা পুলিশকে দেখতে বলা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here