বধূ নির্যাতনে কাঠগড়ায় প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি, মারধরের ভিডিও দেখলে আঁতকে উঠবেন আপনি

0
249
kolkata bengali news

মহানগর ওয়েবডেস্ক: দরজা খুলে পালানোর চেষ্টা করছেন গৃহবধূ৷ তবে স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ি দরজা থেকে হিড়হিড় করে টানতে টানতে তাকে আছড়ে ফেলে সোফায়৷ দুহাত চেপে চলছে বেধড়ক মার৷ চড় থাপ্পর চালাচ্ছেন শ্বশুর৷ এতদিন বধূ নির্যাতনের বিচার করতে গিয়ে যার কলম বিদ্রোহ করত, যিনি গর্জে উঠতেন রায় দিতে গিয়ে, আজ সেই প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি বধূ নির্যাতনের অভিযোগে কাঠগড়ায়৷ হায়দরাবাদ ও মাদ্রাজ হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি রামমোহন রাও৷ সেই রায়দাতার এমন নৃশংস রূপ দেখে আঁতকে উঠছে দেশ৷

এমবি করা মেধাবী ছাত্রী সিন্ধু শর্মার সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি রামমোহন রাওয়ের ছেলে নুটি বশিষ্টের৷ তবে বিয়ে সুখকর ছিল না৷ বিয়ের পরদিন থেকেই শুরু হয়ে যায় অত্যাচার৷ মারধর করার তালিকায় স্বামী, শ্বশুর বাদ ছিল না কেউই৷ নেপথ্যে সিন্ধুর পরিবারের পণ হিসেবে মোটা টাকা দিতে না পারা৷ বাধ্য হয়ে শ্বশুরবাড়ি থেকে পালিয়ে আসেন সিন্ধু৷ গত এপ্রিল মাসে নিজের শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে বধূ নির্যাতনের মামলা দায়ের করেছিলেন গৃহবধূ সিন্ধু শর্মা৷ তবে সেই সময় নির্যাতনের যথেষ্ট প্রমাণ তিনি তুলে দিতে পারেননি পুলিশের হাতে৷ সম্প্রতি ওই বধূর ওপর অমানবিক নির্যাতনের ভিডিও সামনে এসেছে৷

এপ্রিল মাসে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয় সিন্ধু শর্মাকে৷ হাসপাতালের বিছানাতেই শুয়ে কোনরকমে বয়ান দেন সিন্ধুদেবী৷ তাঁর বয়ানের ভিত্তিতেই সিন্ধুর স্বামী বশিষ্ট, শ্বশুর রামমোহন রাও ও শাশুড়ি দুর্গা জয়লক্ষ্মীর বিরুদ্ধে ৪৯৮এ সহ ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক মামলা রুজু করা হয়েছে৷ সিন্ধু দেবীর বয়ানে উঠে আসে বিস্ফোরক তথ্য৷ তিনি বলেন, প্রথমে তিনি অভিযোগ জানাতে চাইনি। তাঁর চার বছর ও দু’বছরের দুটো মেয়ে রয়েছে। তিনি চেয়েছিলেন ওরা বাবার ভালোবাসা পাক, সবকিছু মিটে যাক। কিন্তু তা হয়নি। তিনি আরও জানান, তাঁর মেয়ে দুটোকেও আটকে রেখেছে ওরা ৷ এমনকি সিন্ধুকে মারধর করার সময় তাঁর জামাকাপড় ছিঁড়ে দিত সিন্ধুর শাশুড়ি৷ গা ঢাকতে দেওয়া হত বিছানার চাদর৷

পুলিশ জানিয়েছে, রামমোহন রাও হায়দরাবাদ হাইকোর্ট ও মাদ্রাজ হাইকোর্টের বিচারপতি ছিলেন। তাঁর বাড়িতেই এমন ঘটনা ঘটে চলেছিল তা কেউ টের পায়নি এতটুকুও। শুধু আইনেই নয়,মানবিকতার চোখে এ অত্যন্ত নক্ক্যারজনক ঘটনা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here