weather news

মহানগর ওয়েবডেস্ক: বিশ্বজুড়ে দাপট দেখাচ্ছে করোনা। চতুর্দিকে ভয়ের পরিবেশ। সংবাদেও সবসময় করোনায় আক্রান্ত বা মৃতের পরিসংখ্যান। দমবন্ধ করা এই পরিস্থিতির মাঝেও একটা রুপালি আলো দেখালেন বিজ্ঞানিরা। ধীর গতিতে হলেও অ্যান্টার্কটিকায় সেরে উঠছে ওজোন স্তরের ক্ষত। কারণ অবশ্যই দূষণের মাত্রা কমা।

করোনা আতঙ্কের জেরে লক ডাউন প্রায় অর্ধেক বিশ্ব। গৃহবন্দি প্রায় ৩৫০ কোটি মানুষ। যেসব দেশে দূষণের মাত্রা সবচেয়ে বেশি, সেখানেও করোনার থাবায় সবকিছু বন্ধ। রাস্তা শুনশান, চলছে না গাড়ি, উড়ছে না বিমান। বন্ধ অনেক কল কারাখানাও। ফলে শেষ কয়েকদিনে অনেকটাই দূষণমুক্ত ধরিত্রী। এমনকি ভেনিসের জলপথগুলিতে ফিরে এসেছে রাজহাঁস, ডলফিন। কোথাও আবার রাস্তায় অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে ময়ূর, হরিণ।

করোনার জেরে দূষণ কমলেও, সেই দূষণের কারণেই যে রাতারাতি ওজোন স্তরের ক্ষত সারছে, এমনটা মনে করছেন না বিজ্ঞানিরা। তাৎক্ষনিক নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী দূষণ কমার ফলেই সুফল মিলেছে বলে তাদের অভিমত। সেক্ষেত্রে বিজ্ঞানিরা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন ১৯৮৭ সালে স্বাক্ষরিত মন্ট্রিয়াল চুক্তির দিকে। ওই চুক্তিতেই ওজোন স্তরকে ক্ষতি করে এমন পদার্থ বা গ্যাসের উৎপাদনে হ্রাস টানতে বলা হয়েছিল।

weather news

সম্প্রতি একদল বিজ্ঞানির এই পর্যবেক্ষণ নিয়ে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। সেই বিজ্ঞানি দলের অন্যতম অন্তরা ব্যানার্জি জানান, ‘গত শতাব্দীর শেষ দশকে জেট স্ট্রিম (বায়ু মণ্ডলের উপরিভাগের ঝোড়ো হাওয়া) ক্রমশ দক্ষিন মেরুর দিকে সরে যাচ্ছিল। কিন্তু সম্প্রতি আমরা দেখছি যে সেই সরে যাওয়া অনেকটাই কমে গিয়েছে। এই জেট স্ট্রিমের গতিপথ পরিবর্তন লক্ষ্য করেই ওজোন স্তরের ক্ষত নির্ণয় করা যায়।’

প্রসঙ্গত, বায়ুমণ্ডলে ট্রপোস্ফিয়ার ও স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের মাঝে ভূপৃষ্ঠ থেকে ২০ থেকে ৩০ কিমি ওপর ওজোন গ্যাসের স্তর। এই স্তর সূর্য থেকে আগত ক্ষতিকারক অতিবেগুনী রশ্মি আটকায়। কিন্তু ক্লোরোফ্লুরো কার্বন বা ওইজাতীয় কিছু ক্ষতিকারক গ্যাস এই ওজোন স্তরে ফুটো করে দেয়। গোটা বিশ্বে দূষণের ফলে কুমেরুর ওপর ওজোন স্তরের একটা বড় অংশ ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here