সন্ত্রাসবিরোধী আন্তর্জাতিক মঞ্চে একঘরে ইমরানের দেশ

0
ftaf kolkata bengali news

মহানগর ওয়েবডেস্ক:পাকিস্তান আর নিজের ‘জঙ্গিস্তান’ হওয়ার কলঙ্ক মুছতে পারল না৷ সন্ত্রাসদমনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না করায় ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স(এফএটিএফ)-এর রোষের মুখে পড়তে পারে ইমরানের দেশ৷এফটিএফ এর জঙ্গি দমন সংক্রান্ত ২৭ টি পদক্ষেপের মধ্যে মাত্র ৬টি করেছে ভারতের এই পড়শি রাষ্ট্র৷১৮ অক্টোবর পাকিস্তানের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে এফটিএফ৷ জঙ্গিদের অর্থ জোগানো রুখতে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কড়া নজর রাখা এফএটিএফ পাকিস্তানকে পদক্ষেপ করার জন্যে সময়সীমা দিলেও তা করতে অনেকটাই ব্যর্থ পাকিস্তান। এর ফলে ওই দেশকে সন্ত্রাসবাদ রুখতে শেষ সতর্কতা দিয়ে “ডার্ক গ্রে” বা “গাঢ় ধূসর” তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। এটাই ওই দেশকে কালো তালিকাভুক্ত করার আগে শেষ সতর্কবার্তা।

ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স (এফএটিএফ) এর পূর্ণাঙ্গ বৈঠকে উপস্থিত কর্মকর্তারা বলেন যে, যা ইঙ্গিত মিলছে সেই মতো, পাকিস্তানের সন্ত্রাস দমনে পর্যাপ্ত কাজ না করার কারণে অন্য সব সদস্য বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার সম্ভাবনা। কেননা ওই দেশটি সন্ত্রাসদমনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না করায় এফএটিএফ-এর রোষের মুখে পড়তে পারে৷

এফএটিএফের নিয়ম অনুসারে, ”গ্রে” এবং ”ব্ল্যাক” অর্থাৎ “ধূসর” এবং “কালো” তালিকার মধ্যবর্তী যে পর্যায় রয়েছে তা ”ডার্ক গ্রে” বা “গাঢ় ধূসর” হিসাবে পরিচিত।”ডার্ক গ্রে” বা “গাঢ় ধূসর”-এর অর্থ হল ওই দেশটির প্রতি একটি কড়া সতর্কতা জারি করা, যাতে সংশ্লিষ্ট দেশটি উন্নতির শেষ সুযোগ পায়, জানিয়েছেন এক আধিকারিক।১৯৮৯ সালে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে নজর রাখার জন্যে এই সংস্থা এফএটিএফ প্রতিষ্ঠা করা হয়। এটি আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদে মদত দিয়ে অর্থ জোগানো এবং সন্ত্রাস সংক্রান্ত অন্যান্য আশঙ্কার বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়।

ইতিমধ্যেই এফএটিএফ-এর এশিয়া প্যাসিফিক বিভাগের কালো তালিকায় পাক সন্ত্রাসবাদ৷ গত বছরের জুনে প্যারিসের এই নজরদারি সংস্থাটি পাকিস্তানকে গ্রে তালিকা অর্থাৎ ধূসর তালিকায় রাখে এবং ২০১৯ সালের অক্টোবরের মধ্যে সন্ত্রাসবাদ রুখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার জন্যে ওই দেশকে সময় দেয়। সেইসঙ্গে এই সতর্কবার্তাও দেওয়া হয় যে পাকিস্তান প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না করতে পারলে তারও ইরান এবং উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে কালো তালিকাভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে।যদি প্রকৃতঅর্থেই “ধূসর তালিকা” থেকে “গাঢ় ধূসর তালিকা”-র অন্তর্ভুক্ত হয় পাকিস্তান তাহলে ওই দেশের পক্ষে আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে আর্থিক সহায়তা পাওয়া খুবই কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। ফলে পাকিস্তানের বর্তমান আর্থিক অবস্থা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here