মহানগর ওয়েবডেস্ক: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে সবকটি জঙ্গি শিবির এবং ১৫টি লঞ্চ প্যাড আপাতত সম্পূর্ণ ভরতি হয়ে রয়েছে। কাশ্মীরে খতম হওয়া জঙ্গিদের শূন্যস্থান পূরণ করার জন্য সীমান্ত টপকানোর অপেক্ষায় রয়েছে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিরা এমনটাই জানালেন সেনা বাহিনীর কম্যান্ডার লেফটেন্ট জেনারেল বি এস রাজু। সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, কাশ্মীরের আইন শৃঙ্খলার উন্নতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় পাকিস্তান মানসিক ভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে এবং বিষয়টা কিছুতেই হজম করতে পারছে না।

লেফট্যান্ট জেনারেল রাজু ১ মার্চ শ্রীনগরের পঞ্চদশ বাহিনীর দায়িত্ব নেন। একটি ই–মেল মারফত দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ”জঙ্গিদের মেরুদণ্ড ভেঙে পড়েছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে থাকা জঙ্গিদের খতম করে দেওয়ায় আমাদের মনে হচ্ছে এই গরমে সীমান্তের ওপার থেকে জঙ্গি অনুপ্রবেশ বাড়বে। আমার মনে হয় সংখ্যায় ক্রমাগত কমতে থাকা জঙ্গিদের শূন্যস্থান পূরণ করতে গ্রীষ্মেই অনুপ্রবেশ বাড়ানোর চেষ্টা হবে।”

পাক অধিকৃত কাশ্মীরের সবকটি জঙ্গি শিবির ও অন্তত ১৫টি লঞ্চ প্যাড এখন জঙ্গিদের দ্বারা পূর্ণ হয়ে রয়েছে জানিয়ে লেফট্যানেন্ট জেনারেল জানান এই জঙ্গিরা পাক সেনাবাহিনীর সহায়তায় ভারতে ঢুকতে মরিয়া হয়ে রয়েছে। বিগত ৩০ বছর ধরে পাকিস্তান ক্রমাগত সংঘর্ষ বিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে জঙ্গিদের অনুপ্রবেশ করানোর জন্য। কিন্তু ভারতীয় সেনাবাহিনীর দিক থেকে দ্রুত ও কঠিন জবাব পাওয়ার পর থেকে এখন সেই পরিকল্পনা আর কর্যকরী হচ্ছে না, সেই কারণেই পাকিস্তানের হতাশা বাড়ছে বলে মনে করেন রাজু।

ভারতের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে কোনও অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে হাতে যারা অস্ত্র তুলে নেবে তাদের আরও কঠিন শাস্তির মুখে পড়তে হবে বলে জানান লেফট্যানেন্ট জেনারেল। সেনাবাহিনী সহ অন্যান্যরা এই ধরনের উদ্দেশ্যকারীদের কোনও ভাবেই ছাড়বে না জানিয়ে রাজু বলেন, যখন সারা পৃথিবী কোভিড–১৯ অতিমারীর বিরুদ্ধে একসঙ্গে লড়াই করছে সেই সময়ও পাকিস্তান নিয়ন্ত্রণ রেখা দিয়ে জঙ্গি অনুপ্রবেশের ঘৃণ্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও সেনাবাহিনী এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনী সহ দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য সম্পূর্ণ তৈরি বলে জানান লেফট্যানেন্ট জেনারেল।

সম্প্রতি হিজাবুল মুজাহিদিন জঙ্গি নেতা রিয়াজ নাইকু এবং জুনেইদ আশরাফ শেরাই–এর খতম প্রসঙ্গে সাক্ষাৎকারে বি এস রাজু বলেন, বিগত এক বছর ধরে সমস্ত জঙ্গি গোষ্ঠীকে চিহ্নিত করে তাদের নেতাদের খতম করে দেওয়ায় জঙ্গিদের নেতৃত্বে এক শূন্যতা তৈরি হয়েছে। এখন জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির মধ্যে অস্তিত্বের সংকট বা প্রাধান্য পাওয়ার কারণে নেতৃত্বের লড়াই শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে পাকিস্তানের লাগাতার জঙ্গি ঢুকিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হচ্ছে। এই সব মিলিয়েই পাকিস্তানের পক্ষে গোটা পরিস্থিতি হতাশব্যঞ্জক হয়ে উঠেছে বলে জানান রাজু।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here