Home Featured Photo Gallery: ‘যৌন প্রশিক্ষক’ পল্লবী, লজ্জা কাটিয়ে সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে তিনি প্রস্তুত

Photo Gallery: ‘যৌন প্রশিক্ষক’ পল্লবী, লজ্জা কাটিয়ে সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে তিনি প্রস্তুত

0
Photo Gallery: ‘যৌন প্রশিক্ষক’ পল্লবী, লজ্জা কাটিয়ে সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে তিনি প্রস্তুত
Parul

শারীরিক চাহিদা বা যৌনতার মধ্যে কোনও বিষয় নিয়েই ভারতীয় সমাজে কথা বলা যায় না। কারণ নিষিদ্ধ রয়েছে। অথচ আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যান বলছে ভারতে পর্নোগ্রাফির দর্শক সবথেকে বেশি। যার কারণে কেন্দ্রীয় আইন করে এই ধরনের প্রাপ্তবয়স্ক ওয়েবসাইট গুলি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

যৌনতার প্রশিক্ষণ দেন পল্লবী বার্নওয়াল। অন্য কারোর কাছে শারীরিক চাহিদা বা যৌনতা নিয়ে আলোচনা করতে গেলে যতটা দ্বিধা বোধ হয়, তার কাছে অনায়াসে জানতে চাওয়া যায় সমস্ত কিছু। অত্যন্ত সহজ ভাবেই জবাব দেন তিনি। যৌনতা নিয়ে ভারতে যে অপরাধমূলক কাজ হয়ে থাকে, সেই ভারতীয়দেরই এই অপরাধবোধের অন্ধকার থেকে টেনে বার করতে চান পল্লবী। তিনি মনে করেন শারীরিক চাহিদা নিয়ে ভারতীয়দের মধ্যে যে সীমিত জ্ঞান রয়েছে সেটাই অপরাধের জন্ম দেয়।

যৌন অপরাধে বিশ্বের সবচেয়ে খারাপ দেশগুলোর মধ্যে ভারত হলো অন্যতম। অথচ এই দেশে যৌনতা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করা যায় না। বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলিতে যৌন শিক্ষা নিয়ে সাত বছর বয়স থেকেই শিশুদের শিক্ষা দেওয়া হয়। সেখানে ভারতের স্কুলগুলিতে এখনো যৌনতার পাঠক্রম নিয়ে আসা হয়নি।

পল্লবী নিজের পরিচয় দেন সেক্স কোচ বা যৌন প্রশিক্ষক হিসেবে। তিনি মনে করেন যৌনতাকে অপরাধের পর্যায়ে নিয়ে যায় আমাদের অজ্ঞানতাই। আর দেশে ক্রমাগত যৌন অপরাধ বেড়ে চলার এটাই একটা বড় কারণ।

পল্লবী জানিয়েছেন তাঁর অতীতের কিছু কথা। ছোটবেলা থেকেই তিনি দেখেছেন তার বাবা-মায়ের জটিল সম্পর্ক। তার বাবা-মায়ের মধ্যে কোনও এক তৃতীয় ব্যক্তি না থেকেও ছিলেন তাদের মাঝে। যে কোনও অনুষ্ঠানে গেলে তাকে ঘিরে ধরত আত্মীয়-পরিজনরা। প্রশ্ন তুলত বাবা-মায়ের সম্পর্ক নিয়ে।

পল্লবী আরও জানিয়েছেন, বিষয়টি তিনি জানতে পারেন যখন তার নিজের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। তার মা তাকে জানিয়েছিলেন যে, পল্লবী এবং তার ভাইয়ের জন্মের আগে এবং তার মা-বাবা এর বিয়ের পর তার মায়ের জীবনে একজন ব্যক্তি এসেছিলেন। পল্লবীর মাকে এই প্রশ্ন করতে তার বাবার ১০ বছর সময় লেগেছিল। কিন্তু তার আগে থেকেই তার বাবা কানাঘুষো শুনতেন।

পল্লবী জানিয়েছে যে, সেদিন তিনি বুঝতে পেরেছিলেন শারীরিক ইচ্ছে নিয়ে খোলাখুলি আর সহজে কথা বলতে না পারায় পরিবার ভেঙে দেয়। পল্লবীর নিজের বিয়েতেও ঠিক সেরকমই ঘটনা ঘটেছিল। বিবাহ বিচ্ছেদের পর পল্লবী একের পর যৌন সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। হঠাৎ করেই বেশ হালকা বোধ করছিলেন তিনি। নিজেকে মেলে দিয়েছিলেন সবরকম অভিজ্ঞতার জন্য। বিবাহিত পুরুষের থেকে বয়সে অনেক বড় পুরুষের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন পল্লবী।

ধীরে ধীরে যৌনতা নিয়ে তার মধ্যে ধারণা বদলাতে শুরু করে। তার কথাবার্তা তার আলোচনা যেকোনো বিষয়ে এটা প্রকাশ পাচ্ছিল। এমনকি তার বিবাহিত বন্ধুরা তার থেকে পরামর্শ নিত। এই বিষয়ে ২০১২ সালে দিল্লির নির্ভয়া কান্ড তাকে এবং তার ধারণাকে পুরোপুরি বদলে দেয়। সেই সময় পল্লবীর মনে হয়েছিল এই খোলামেলা সহজ বিষয়টি পিছনে একটি উপ আলোচনাও রয়েছে। যৌনতা’ থেকে যে আনন্দ নেওয়া যায়, আর তাতে একজন মহিলার সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ থাকতে পারে সেটা কখনোই ভুলে গেলে চলবে না।

এই ভাবনা থেকেই যৌন প্রশিক্ষক হওয়ার ভাবনা আসে পল্লবীর। তার মনে হয়েছিল যে দেশে একটা মুক্তমঞ্চ থাকা দরকার। যেখানে মানুষ তাদের শারীরিক চাহিদা ও যৌনতা নিয়ে নানান সংশয় কথা বলতে পারবে, আলোচনা করতে পারবে, পরামর্শ দিতে বা নিতে পারবে।

যৌনতা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করতে গেলে পদে পদে বাধা আসবে সেটা পল্লবী খুব ভালো করেই জানতেন। তাই তিনি ইনস্টাগ্রাম পেজ তৈরি করে সেখানে তাকে প্রশ্ন করতে বলেন। সেখানে নিজের ভাবনা অভিজ্ঞতা তিনি তুলে ধরেন। দু’বছর আগে টেড টকে কথা বলার জন্য তাকে ডাকা হয়েছিল। আর তারপর থেকেই বহু মানুষ যোগাযোগ করেন পল্লবীর সঙ্গে। দিনে ৩০ টি করে প্রশিক্ষণের অনুরোধ আসে তার কাছে। আজ পর্যন্ত এখনো পল্লবীকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

আরেকটা বিষয়ও চোখ রাখা দরকার যে বছর তিনেক আগে কেন্দ্রীয় সরকার যৌন শিক্ষার স্কুল পাঠ্য অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে নির্দেশিকা জারি করেছিল। সেই নির্দেশ এখনো পালন করেননি দেশের বেশিরভাগ রাজ্য। আমাদের দেশ এখনো যৌন শিক্ষা নিয়ে অন্ধকারের গভীরে রয়েছে। সেই মনোভাব বদলানোর চেষ্টা করতে চান পল্লবী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here