পঞ্চসায়র গণধর্ষণকাণ্ডে নয়া মোড়, ৫ দিন পর গ্রেফতার ১ ট্যাক্সিচালক

0
kolkata bengali news

রাজেশ সাহা, কলকাতা: অবশেষে ঘটনার পাঁচদিন পর পঞ্চসায়র গণধর্ষণকাণ্ডে একজনকে গ্রেফতার করল কলকাতা পুলিশ। ধৃতের নাম উত্তম রাম, পেশায় ট্যাক্সিচালক। বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখেই উত্তমের সন্ধান পায় পুলিশ। লাগাতার তল্লাশি চালিয়ে শনিবার সন্ধ্যায় গড়িয়া থেকে তাকে প্রথমে আটিক করেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। এরপর পঞ্চসায়র থানায় নিয়ে গিয়ে চলে জিজ্ঞাসাবাদ। দ্রুত থানায় চলে আসেন কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান মুরলিধর শর্মা, উপস্থিত ছিলেন ইস্ট ডিভিশনের ডেপুটি কমিশনার রুপেশ কুমার ও পঞ্চসায়র থানার তদন্তকারী আধিকারিকরা। প্রাথমিক জেরায় ধৃতের এই অপরাধের সঙ্গে যুক্ত থাকার প্রমাণ মিলেছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। জিজ্ঞাসাবাদে তার কথায় একাধিক অসঙ্গতি উঠে আসে। এরপরই তাকে গ্রেপ্তার করে পঞ্চাসায়র থানার পুলিশ। ধৃতকে জেরা করে আরও এক অপরাধীর সন্ধান পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ

গত মঙ্গলবার পঞ্চসায়রের সেবা ওল্ডেজ হোম এর এক মহিলা আবাসিকে গণধর্ষণ করা হয় বলে থানায় অভিযোগ দায়ের করে তার পরিবার। অভিযোগের বয়ানে বলা হয়, সোমবার ঘুম না আসায় মধ্য রাতে হোমের তালা ভেঙে বেরিয়ে গিয়েছিলেন ওই আবাসিক। এরপরেই হোমের সামনের রাস্তা থেকে তাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ করে দুষ্কৃতীরা। যদিও তদন্তে নেমে অভিযোগের বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি খুঁজে পান তদন্তকারী আধিকারিকরা। খতিয়ে দেখা হয় অন্তত শতাধিক সিসিটিভি ফুটেজ। পুলিশ সূত্রের খবর, জেরায় উত্তম জানিয়েছে ঘটনার দিন হোমের সামনে থেকে নয়, অভিযোগকারিনীকে ইএম বাইপাসের ধারে হাইল্যান্ড পার্কের সামনে থেকে গাড়িতে তুলেছিল সে। অভিযোগকারিনী মহিলা নিজেই হাত দেখিয়ে ট্যাক্সি থামিয়ে ছিলেন বলে দেখা গিয়েছে সিসিটিভি ফুটেজেও। জানা গিয়েছে, উত্তম নীল-সাদা রঙের ট্যাক্সি চালায় বহু বছর ধরে। গত সোমবার অভিযোগকারিণী বিগ বাজারের সামনে দাঁড়িয়ে হাত দেখিয়ে ট্যাক্সি দাঁড় করালে, তাকে গাড়িতে তুলে নেয় উত্তম। এরপরই তাকে পঞ্চসায়রের বৃদ্ধাশ্রমের পৌঁছে দেয়ার কথা বলেন নির্যাতিতা মহিলা। সূত্রের খবর জেরায় উত্তম পুলিশকে জানিয়েছে, সেই রাতে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালাচ্ছিল সে। ট্যাক্সিতে উঠে ওই মহিলা বৃদ্ধাশ্রমে নিয়ে যেতে বললে,সে পঞ্চসায়রের বদলে গাড়ি ঘুরিয়ে নরেন্দ্রপুরের রাস্তায় ছুটতে থাকে। অন্য রাস্তায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ঠাওর করতে পেরে মাঝ রাস্তাতেই ট্যাক্সি চালক উত্তমের সঙ্গে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তি শুরু হয়ে যায় নির্যাতিতা মহিলার। সূত্রের খবর, পুলিশি জেরায় উত্তম তদন্তকারীদের জানিয়েছে, দীর্ঘ ধস্তাধস্তির পর নরেন্দ্রপুর থানা এলাকার গোপালনগর কাটিপোতা এলাকায় গাড়ি থেকে মহিলাকে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায় সে। রক্তাক্ত অবস্থায় সেখানেই দীর্ঘক্ষণ পড়েছিলেন নির্যাতিতা।।

গ্রামবাসীরাই তাঁকে প্রথম দেখতে পেয়ে উদ্ধার করে সোনারপুর থানায় পৌঁছে দেন। যদিও সোনারপুর থানার পুলিশের কাছে সেদিন গোটা ঘটনার কথা নির্যাতিতা খুলে বলেননি বলেই জানা গিয়েছে। সূত্রের খবর, সোনারপুর থানার পুলিশ তার পোশাক পরিবর্তন করিয়ে নির্যাতিতাকে স্থানীয় একটি হোমে রেখে আসে। জানা গিয়েছে পরদিন মঙ্গলবার বিকেল চারটে নাগাদ সোনারপুরের হোম থেকে পুনরায় পোশাক পরিবর্তন করে পালিয়ে যান নির্যাতিতা। এরপরই সোনারপুর স্টেশন থেকে ট্রেন ধরে বালিগঞ্জে এসে পৌঁছান তিনি। তারপরই পঞ্চসায়র থানায় গণধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেন নির্যাতিতার পরিবার। এক তদন্তকারী আধিকারিক জানান, সেদিন ঘটনার সময় ট্যাক্সিতে উত্তম একাই ছিল। ফলে অভিযোগকারিনীকে আদৌ গণধর্ষণ করা হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে রয়েছে বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন। প্রসঙ্গত, শুক্রবার হোমে গিয়ে নির্যাতিতার সঙ্গে কথা বলার পর, রাজ্য মহিলা কমিশনও ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে। কমিশনের এক সদস্য দাবি করেন, ধর্ষণ নয় সম্ভবত যৌন হেনস্তা হয়ে থাকতে পারে অভিযোগকারিনীর সঙ্গে। যদিও এই বিষয়ে এখনই মুখ খুলতে চাইছে না পুলিশ। প্রশ্ন করা হলে “তদন্তের স্বার্থে এখন বলা সম্ভব নয়” বলে সরাসরি উত্তর এড়িয়ে যান লালবাজারের শীর্ষ আধিকারিকরাও। তবে ধৃত উত্তম যে সেদিন অভিযোগকারিনীকে গাড়িতে তুলে নরেন্দ্রপুর নিয়ে গিয়েছিল সেই বিষয়ে নিশ্চিত তদন্তকারীরা। গোটা ঘটনাটি সিসিটিভি ফুটেজও ধরা পড়েছে, যা থেকেই গতি পায় তদন্ত। উত্তমের সঙ্গে এই অপরাধে আরও কেউ যুক্ত আছে কিনা, তাকে জেরা করে তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। তবে সূত্রের খবর, এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আরও একজনকে খুঁজছে পুলিশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here