ডেস্ক: হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের রায়ে খুশি রাজ্য নির্বাচন কমিশন ও রাজ্য সরকার৷ মূলত, এদিন দুই আদালতের রায়ে জট কাটল পঞ্চায়েত নির্বাচনের৷ এবং পঞ্চায়েত ভোটের ভবিষ্যত নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যে আইনি জটিলতা ও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল, তাকে পাস কাটিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে নির্বাচন কমিশন৷ বৃহস্পতিবার বিকেলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল রাজ্যবাসীকে বার্তা দিতে কমিশন সাংবাদিক বৈঠক করে৷ সেখানে জানিয়ে দেওয়া হয়, নির্ধারিত সূচি মেনেই ১৪ মে পঞ্চায়েত ভোট অনুষ্ঠিত হবে৷

১৪ মে বুথে বুথে সকাল ৭টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ত্রিস্তর পঞ্চায়েতে ভোট গ্রহণ চলবে৷ ১৭ মে সকাল ৮টা থেকে ভোট গণনা৷ এবার ৩৩০টি ব্লকে গণনা হবে৷ বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বীতায় জয় আসনগুলিকে বাদ রেখে এবার গ্রাম সভায় ৩১, ৮৩৬টি আসনে ভোট গ্রহণ করা হবে৷ পঞ্চায়েত সমিতির আসন সংখ্যা- ৬,১৫৮৷ জেলা পরিষদে লড়াই হবে ৬২২টি আসনে৷ অর্থাৎ মোট আসনে ৩৪ শতাংশো ভোট হচ্ছে না৷ বাকি ৬৬ শতাংশো আসনে ভোট হবে৷

পঞ্চায়েত নির্বাচন নিয়ে দুই আদালতের রায়কে স্বাগত জানিয়েছে রাজ্য সরকার৷ ভোটের প্রস্তুতি নিয়ে নবান্নে শুরু যায় তৎপরতা। পঞ্চায়েতে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা করতে বৃহ্স্পতিবার বিকালে বৈঠকে বসেন রাজ্য পুলিশের ডিজি সুরজিৎ করপুরকায়স্থ। বৈঠকে ছিলেন মুখ্য সচিব মলয় দে, স্বরাষ্ট সচিব অত্রি ভট্টাচার্য, এবং পঞ্চায়েত সচিব৷ এছাড়াও ছিলেন আরও কিছু উচ্চপদস্থ আধিকারিক। মূলত, নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বৈঠক হয়।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের রায়ে পঞ্চায়েত নির্বাচন নিয়ে যাবতীয় জটিলতা কাটে। নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করে নির্বাচন কমিশন যে কোনও দিন ভোট করতে পারে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেয় হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ। আর সেক্ষেত্রে ১৪ মে রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচন করার পথে কোনও বাধা রইল না কমিশনের। কারণ, রাজ্যের নিরাপত্তায় যে কমিশন খুশি, তা আদালতকে জানিয়েছিলেন কমিশনের আইনজীবী। আর নির্বাচন ঘোষণা হওয়ার পর তার সূচি নিয়ে সাধারণত হস্তক্ষেপ করে না আদালত৷ তবে একটি বিষয় স্পষ্ট করে দিয়েছে, নির্বাচনে অশান্তি হলে তার দায় বর্তাবে স্টেট অফিসারের ওপর। অর্থাৎ, ভোট গ্রহণকে কেন্দ্র করে কোনও সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি কিংবা প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটলে ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এবং এই ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে যে আধিকারিকরা পঞ্চায়েত ভোটের নিরাপত্তা নিয়ে আদালতকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করেছে৷ এরক কিছু ঘটলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিদের বেতন, সম্পত্তি কিংবা রাজ্য সরকারকে ক্ষতিপূরণ বহন করতে হবে বলেও নির্দেশ দেয় প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ৷ তারপরই সাংবাদিক বৈঠক করে কমিশন আরও একবার জানিয়ে দেয়, ভোট হবে ১৪ মে৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here