ডেস্ক:জট কেটেও কাটল না পঞ্চায়েত ভোটের৷ নির্বাচন কমিশনের সূচি মেনে ১৪ মে একদফায় ভোট হবে কিনা, তা নিয়ে যথেষ্ট ধোঁয়াশা রয়ে গেছে৷ প্রধান বিচারপতি জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, কমিশন যে কোনও দিন নির্বাচন করতে পারে, তবে তা অবাধ ও সুষ্ঠ হতে হবে৷ এদিন শুনানির পর হাইকোর্ট জানিয়ে দেয়, নির্বাচনের দিনক্ষণ নিয়ে আদালত হস্তক্ষেপ করবে না৷ তবে এদিন হাইকোর্ট একটি নজির বিহীন নির্দেশ দিয়েছে৷ নির্বাচনে গোলমাল হলে কিংবা সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটলে নিরাপত্তা সংক্রান্ত রিপোর্ট যে অফিসাররা জমা দিয়েছেন, তাঁরা দায়ী থাকবেন। প্রয়োজনে তাঁদের বেতন বা সম্পত্তি থেকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

যেহেতু রাজ্য সরকারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সন্তুষ্ট রাজ্য নির্বাচন কমিশন, তাই সূচি মেনেই ১৪ মে ভোট করার মধ্যে কোনও অসুবিধা নেই৷ যদিও হাইকোর্ট ১৪ মে দিনটি নিয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি৷ বলা হয়েছে, যেদিনই ভোট গ্রহণ হোক সেটা যেন সুষ্ঠ, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ হয়৷ সুতরাং, বল এখন কমিশনের কোর্টে৷ কমিশন যদি মনে করে, ১৪ মে ভোট করবে তাতে হাইকোর্ট হস্তক্ষেপ করবে না৷

এদিন আদালত কমিশনকে জানতে চেয়েছিল রাজ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কী সন্তুষ্ট কমিশন? তার উত্তরে কমিশনের আইনজীবী জানিয়ে দেন, তাঁরা রাজ্যের ৬১ হাজার সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে সন্তুষ্ট৷ এরপরই হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ সূচি মেনে ১৪ মে ভোট করার বিষয়টি কমিশনের উপর ছেড়ে দেয়৷

তবে পর্যান্ত বাহিনী দিয়ে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে৷ যখনই নির্বাচন হোক না কেন, কমিশনকে ‘ফ্রি অান্ড ফেয়ার’ অর্থাৎ সুষ্ঠ ও অবাধ নির্বাচন করতে হবে৷ আর ভোটকে কেন্দ্র করে কোনওরকম ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির ঘটনা ঘটলে ক্ষতিপূরণের দায়িত্ব নিতে হবে রাজ্য সরকার ও কমিশনকেই৷

এদিকে, সুপ্রিম কোর্ট পঞ্চায়েত ভোটে ই-মনোনয়নের উপর স্থগিতাদেশ দিল৷ হাইকোর্টে ডিভিশন বেঞ্চ ই-মনোনয়নকে মান্যতা দিতে বলায়, সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল রাজ্য নির্বাচন কমিশন৷ সর্বোচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশে স্বস্তি পেল কমিশন৷ এবং কমিশন সূত্রে খবর, নির্ধারিত সূচি মেনে ১৪ মে ভোট গ্রহণ হবে৷

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here