ডেস্ক: আদৌ পঞ্চায়েত নির্বাচন ১ মে হবে কিনা তা নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়। নির্বাচন নিয়ে বাম-কংগ্রেস-বিজেপির মামলা দায়ের হওয়ার পর পঞ্চায়েত ভাগ্য এখন সম্পুর্ণরুপে নির্ভর করছে আদালতের উপর। মঙ্গলবারের পর বুধবারও সকাল সাড়ে ১০ টা থেকে হাইকোর্টে শুরু হয়েছে এই মামলার সাওয়াল জবাব পর্ব।

এদিন সকাল থেকেই হাইকোর্টে সাওয়াল করেন তৃণমূলের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন তিনি বলেন, বিজেপি তৃণমূলের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছে শাসক দল তাঁদের মনোনয়ন জমা দিতে দিচ্ছে না। ঠিক আবার পাল্টা মুকুল রায় বলছেন, মনোনয়ন প্রত্যাহারের জন্য একের পর এক হুমকি দিয়ে চলেছে শাসক দল। এটা কিভাবে সম্ভব। একইসঙ্গে গতকালের সওয়াল অনুযায়ী পঞ্চায়েত নির্বাচন পক্রিয়ার উপর অন্তরবর্তীকালীন স্থগিতাদেশের নির্দেশ প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি। এর পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের বিচারপতি সুব্রত তালুকদার জানান, ১৪১ ধারা অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মানতে বাধ্য হাইকোর্ট। এরপর পাল্টা কল্যাণবাবু বলেন, ‘সুপ্রিমকোর্ট হাইকোর্টকে সংবিধান উপেক্ষা করতে বলেনি।’ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক বলেন, ‘নির্বাচন ক্মিস্নন যদি ভোট পক্রিয়া থেকে বড় হয়ে ওঠে তবে কে তা সংশোধন করবে? একইসঙ্গে কমিশনকে সব অভিযোগ খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন তিনি। সেইসঙ্গে প্রত্যেকটি প্রশ্নের উত্তর খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয় কমিশনকে। একইসঙ্গে, এদিন কল্যাণবাবুর পাল্টা দিয়ে সিপিএমের আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্য্য জানান, ‘নির্বাচন কমিশন যদি মনোনয়নের দিন বাড়াতে চায় তাতে টিএমসির সমস্যা কি? কমিশনকে গান পয়েন্টে রেখে দিন বাতিল করেছে কমিশন। তৃণমূলের হাতের পুতুলে পরিণত হয়েছে কমিশন। তৃণমূল কেন চাপ দিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার করল?’ ৩১ মার্চ যখন সর্বদলীয় বৈঠক হয় তখন কমিশন কাউকে কিছুই জানায়নি কবে রাজ্যে ভোট হবে? এখানেই বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হয়েছে কমিশনে।’ গতকাল কল্যাণবাবু জানিয়েছিলে, সিপিএমের মামলার কোনও গ্রহণ যোগ্যতা নেই। কারন তাঁরা নির্বাচন কমিশনারকে বাতিল করা হোক এই অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে। এই প্রেখিতে বিকাশবাবু বলেন, ‘সুপ্রিমকোর্ট জানিয়ে দিয়েছে সব পক্ষের বক্তব্য শুনুক আদালত। এই মামলার গ্রহণযোগ্যতা এখানেই রয়েছে। গত দেড় দিন ধরে আদালতের সময় নষ্ট করেছেন কল্যাণবাবু।’

উল্লেখ্য, পঞ্চায়েত নির্বাচন উপলক্ষ্যে মনোনয়ন জমাকে ঘিরে ক্রমাগত হিংসা এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে নির্বাচন কমিশনের মনোনয়নের দিন বাড়ানো পরে আবার তা প্রত্যাহার করে নেওয়া সবমিলিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয় বিরোধী দল। পুরো পরিস্থিতি বিচার করে পঞ্চায়েত নির্বাচন প্রক্রিয়ায়র উপর স্থগিতাদেশ জারি করেছে আদালত। গতকালের পর আজও আদালতে চলছে পঞ্চায়েত নির্বাচনের সাওয়াল জবাব পর্ব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here