নিজস্ব প্রতিবেদক, সিউড়ি: অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী কালিদাস দে সরকার। বাড়ি সিউড়ি থানার অন্তর্গত শ্রীভূমি পল্লীতে। ছেলে ভাস্কর দে সরকার। বাবা এবং মা দুজনেই সরকারি চাকরি করতেন, তাই পয়সার অভাব হয়নি কোনদিন। সে কারণে চাকরি করতে হবে, নিজে ইনকাম করতে হবে এই ধারণা নেই ভাস্করের। অথচ দিন দিন বেড়েই চলেছে তার টাকা পয়সার আশা-আকাঙ্ক্ষা। বাবা-মায়ের কাছ থেকে রোজ চাপ দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করতে চাইছে ছেলে। টাকা না পেলেই বেধড়ক চালাচ্ছে সে বাবা-মাকে। বাঁশ, লাঠি, ইট এমনকি রড। কোন কিছুই বাদ যাচ্ছে না।

মঙ্গলবারও রড দিয়ে কালিদাসবাবুকে মারধর করে ভাস্কর। এদিন সকাল ন’টা নাগাদ বাবাকে বেধড়ক ভাবে মারধর করে গুণধর ছেলে। মারের পরিমাণ এতটাই বেশি যে কালিদাসবাবুর সারা শরীরে তৈরি হয়েছে ক্ষত চিহ্ন। এদিন সকালে কালিদাসবাবু বাধ্য হয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। পরনে তার শুধুই গামছা। ওই অবস্থায় হাঁটতে হাঁটতে সোজা চলে আসেন সিউড়ি সদর হাসপাতালে। সেখানে প্রথমে প্রাথমিক চিকিৎসা করিয়ে চলে আসেন সিউড়ি থানায়। কর্তব্যরত পুলিশ আধিকারিকেদের সব কিছু জানিয়ে সেখানেই একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ছেলের বিরুদ্ধে। তার অভিযোগ পাওয়ার পরই ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করতে আসে পুলিশ, কিন্তু সেখানেও বিপত্তি। বাড়ি ভেতর থেকে দরজা আটকে ঘাপটি মেরে বসে থাকে ভাস্কর। বাইরে অগত্যা অপেক্ষা ছাড়া কোনো পথ ছিল না পুলিশের কাছে। কখন বেরোবে ছেলে তারপর ছেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হবে থানায়। এদিকে দুদিন ধরে না খেয়ে অবস্থা খারাপ কালিদাসবাবুর। অগ্যতা নিজের বাড়ির সামনে সবুজ ঘাসের ওপর চুপ করে বসে থাকতে হয় তাকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here