বর্ষাকালেও খোলা আকাশের নিচে বসিয়ে মিড-ডে মিল ছাত্রছাত্রীদের, প্রতিবাদে বিক্ষোভ অভিভাবকদের

0
78

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঘাটাল: খোলা আকাশের নীচেই ছাত্রছাত্রীদের খেতে দেওয়া হচ্ছে স্কুলের মিড-ডে মিল। ফলে কখনও ঠা-ঠা রোদে বসে, আবার কখনও ঝিরঝিরে বৃষ্টিতে ভিজতে-ভিজতেই মিড-ডে মিলের খাবার খেতে হয় স্কুলের খুদে পড়ুয়াদের। আর জোরে বৃষ্টি হলে তো খেতে বসা-ই যায় না। খাবার না খেয়েই বাড়ি চলে যেতে হয় পড়ুয়াদের। শুধু তাই নয়, রান্নাঘরেরও চাল ভাঙা। ফলে বর্ষাকালে বৃষ্টির জল এসে পড়ে রান্নার মধ্যে। শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও এমনই বেহাল অবস্থা পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ক্ষীরপাই হাটতলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মিড-ডে মিল ব্যবস্থার। অথচ নির্বিকার স্কুল কর্তৃপক্ষ। এরই প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিদ্যালয়ে এসে বিক্ষোভ দেখান ছাত্রছাত্রীর অভিভাবক-অভিভাবকরা। তাদের এই বিক্ষোভ অবশ্য বিফলে যায়নি। দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ জানিয়েও যে কাজ হচ্ছিল না, একদিনের বিক্ষোভেই মিড-ডে মিলের জন্য শেড তৈরি করে বিশেষ ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছেন স্কুল পরিদর্শক কৌশিক দে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা থানার ১ নম্বর ব্লকে অবস্থিত ক্ষীরপাই হাটতলা প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। ঝাঁ চকচকে দোতলা এই স্কুলে মোট পড়ুয়ার সংখ্যা দুই শতাধিক। শ্রেণিকক্ষ থেকে শুরু করে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বসার ঘর, ছাত্রছাত্রীদের খেলার মাঠ- সমস্ত কিছুই রয়েছে স্কুলটিতে। অথচ মিড-ডে মিল ব্যবস্থা একেবারে বেহাল। ছাত্রছাত্রীদের মিড-ডে মিল তৈরির জন্য যে ঘরটি বরাদ্দ হয়েছে, সেটির চাল ভাঙা। আয়তনেও বেশ ছোট। এছাড়া ছাত্রছাত্রীরা যেখানে বসে মিড-ডে মিল খায়, সেখানে কোনও শেড নেই। ফলে রোদ-বৃষ্টির মধ্যে বসেই তাদের খাবার খেতে হয়। ছাত্রছাত্রীদের অভিভাবকেরা এই বিষয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে বহুবার অভিযোগ জানিয়েছিলেন। খুদেরা যেখানে বসে খায়, সেখানে শেড তৈরি করে দেওয়ারও দাবি জানিয়েছিলেন। কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষ এব্যাপারে কর্ণপাত করেনি বলে অভিযোগ। তাই বাধ্য হয়ে এদিন দুপুর বারোটার পর থেকে স্কুলে গিয়ে বিক্ষোভ দেখান ছাত্রছাত্রীর অভিভাবক-অভিভাবিকারা। তারপর সময় যত এগোয়, ততই স্কুল চত্বরে উত্তেজনা বাড়ে। শিকেয় ওঠে স্কুলের পঠনপাঠন। সান্ত্বনা বাক্য, আশ্বাস দিয়েও অভিভাবকদের শান্ত করতে পারেননি স্কুলের প্রধান শিক্ষক নিত্যগোপাল পাত্র। পরিস্থিতি এমন পর্যায় পৌঁছয় যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় বিডিওকে খবর পাঠান তিনি। তারপর তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়।

ক্ষীরপাই হাটতলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুল পরিদর্শক কৌশিক দে অবশ্য অভিভাবকদের দাবি অগ্রাহ্য করেনি। স্কুলের মিড-ডে মিলের অব্যবস্থার কথা সত্যতা স্বীকার করে ছাত্রছাত্রীদের দুর্ভোগের জন্য দুঃখ প্রকাশও করেন তিনি। পাশাপাশি অবিলম্বে স্কুলের মিড-ডে মিল ব্যবস্থা ঠিক করার আশ্বাস দিয়ে কৌশিক দে বলেন, ‘আমরা স্কুলের মিড ডে মিল খাওয়ার স্থানের শেডটি কীভাবে অবিলম্বে তৈরি করা যায়, তা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছি। এছাড়া রান্নার স্থানের শেডটি পুনরায় তৈরি করানোর উদ্যোগ নিচ্ছি।’ স্কুল পরিদর্শকের কাছে শেড তৈরির এই আশ্বাস পেয়েই শান্ত হয় বিক্ষোভকারীরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here