প্রশান্ত কিশোরের পরামর্শ নিতে কত কোটি টাকা খরচ মমতার! ফাঁস করলেন সব্যসাচী

0
2109

মহানগর ওয়েবডেস্ক: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দিয়েছিলেন, কোনও রকম অর্থ নয়, মানবিকভাবে তৃণমূলের পাশে দাঁড়িয়ে পরামর্শ দিতে এসেছেন প্রশান্ত কিশোর। যদিও চূড়ান্ত পেশাদার প্রশান্ত কিশোর তৃণমূলকে বিনামূল্যে পরামর্শ দিচ্ছে এটা বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠেনি অনেকেরই। এরইমাঝে কার্যত মমতার বিরুদ্ধেই ফোঁস করে উঠলেন দলে কোণঠাসা বিধাননগরের মেয়র সব্যসাচী দত্ত।

তৃণমূল সরকারকে বিপাকে ফেলে বিদ্যুৎ ভবনে গিয়ে বিক্ষোভের জেরে ডানা ছাঁটা গিয়েছে বিধাননগরের মেয়রের সব্যসাচী দত্তর। বিধাননগরে মেয়রের কাজ সামলানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ডেপুটি মেয়র তাপস চট্টোপাধ্যায়কে। তবে সে সবকে পিছনে ফেলে রবিবার মুকুলের সঙ্গে নৈশভোজ সেরে ফের জল্পনা উস্কান সব্য। যা নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে চলছে জলঘোলা। মুকুলের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও পরামর্শ নেওয়ার জন্য তাঁকে তৃণমূল ছাড়ার বার্তা দিয়েছেন ফিরহাদ। এরই মাঝে সোমবার সাংবাদিকদের সামনে জ্বলে ওঠেন সব্যসাচী।

সাংবাদিকদের সামনে মুকুলের সঙ্গে সাক্ষাৎ ইস্যুতে তৃণমূলের পরামর্শদাতা প্রশান্ত কিশোরের প্রসঙ্গ টেনে আনেন সব্যসাচী। তাঁর কথায়, ‘প্রশান্ত কিশোরের থেকে পরামর্শ নেওয়া সৎ, আর মুকুল রায়ের থেকে পরামর্শ নিলে সেটা হয়ে গেল বেইমানি! বাহ!’ এরপর নাম না নিলেও প্রশান্তের পরামর্শ ইস্যুতে সরাসরি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমন শানান সব্যসাচী। তিনি বলেন, কোনও অর্থ ছাড়াই মুকুল আমার পরামর্শ দিতে এসেছেন। ওদিকে দলের টাকায় পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে প্রশান্ত কিশোরের থেকে। দলের টাকা তো মানুষের টাকা। শুনেছি ৪০০, ৫০০ কোটি টাকায় চুক্তি হয়েছে। দলের এত টাকা কোথা থেকে আসে? আর কাকেই বা পরামর্শ দেন প্রশান্ত কিশোর? আমিও তো দলের কর্মী। আমরা তো কোনও পরামর্শ পাইনি। পরামর্শ দিতে এসেছে কিন্তু পঞ্চায়েত ভোটেও জেতেননি প্রশান্ত।’ এইসব কিছুর মাঝে সব্যসাচীর বক্তব্যে ওই ৪০০, ৫০০ কোটি টাকাই প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। যদিও তাঁর দাবি, কত টাকায় চুক্তি হয়েছে তা তাঁর কাছে স্পষ্ট না হলেও ৪০০, ৫০০ কোটি টাকা তো বটেই। বিনা পয়সায় পরামর্শ কখনই নয়।

এরপরই ফিরহাদ যে তাঁকে দল থেকে স্বেচ্ছায় চলে যাওয়ার বার্তা দিয়েছে সে প্রসঙ্গে সব্যসাচী জানান, ‘দল এই বিষয়ে লিখিত আকারে আমাকে জানালে আমি নিশ্চয়ই তার জবাব দেব।’ এরপরই নাম না করে সোজা মমতাকে নিশানা করে সব্যসাচী বলেন, ‘শ্রমিকের পাশে দাঁড়ানো যদি বেইমানি হয়, তবে সেই বেইমানি আমি বারবার করব।’ প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার আইএনটিটিইউসি-র বিক্ষোভ ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সল্টলেকের বিদ্যুৎ ভবন। আর সেই বিক্ষোভ কর্মসূচীতে যোগ দেন রাজ্য বিদ্যুৎ কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি তথা বিধাননগরের মেয়র সব্যসাচী দত্ত। সরকার বিরোধী এই বিক্ষোভে একজন তৃণমূল নেতার এহেন উপস্থিতি ভালো ভাবে নেয়নি দল। তারপর থেকেই অবশ্য বঙ্গ রাজনীতির লাইমলাইটে সব্যসাচী দত্ত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here