kolkata news

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: দক্ষিণ ভারত ফেরত রোগী ও রোগীর পরিজনেরা আটকে পড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখালেন ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কের ওড়িশা সীমান্ত দাঁতনের সোনাকনিয়ায়। প্রায় ঘণ্টা তিনেক ধরে অবরোধ চলে জাতীয় সড়কের ওপর। পরে পুলিশ এসে কোনওরকমে পরিস্থিতি শান্ত করে। এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৪৬ জনের করোনা পরীক্ষা করা হয় সারা জেলায়। বেশিরভাগই খড়্গপুরের আরপিএফ ব্যারাকের কর্মী ও ঘাটালের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দার নমুনা। মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও এসএসকেএম হাসপাতালে ওই নমুনাগুলি পরীক্ষা করা হয়। কিছু রিপোর্ট এখনও আসেনি। তবে যতগুলি রিপোর্ট জেলা স্বাস্থ্য দফতরের হাতে এসেছে তাতে সবগুলিই নেগেটিভ বলে জানা গিয়েছে।

ভিনরাজ্য থেকে যারা এরাজ্যে ঢুকবেন, তাদের বাধ্যতামূলক করোনা পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। তাই সকলকেই প্রথমে সীমান্তে আটকে দেওয়া হচ্ছে। তারপর ধাপে ধাপে দেড়শো জন করে আনা হচ্ছে খড়্গপুরের আইআইটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বিশেষ কোয়ারেন্টিন সেন্টারে। দুই দফায় প্রায় তিনশো জনকে ইতিমধ্যে আইআইটিতে আনাও হয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও এদিন প্রায় শতিনেক মানুষ আটকে ছিলেন সোনাকনিয়ার ক্যাম্পে। তারাই এদিন নানান অভিযোগ তুলে অবরোধ ও বিক্ষোভে ফেটে পড়েন।

কলকাতার কাশীপুরের পীযূষ ঘোষ, মুর্শিদাবাদের কৌশিক রায়, বাঁকুড়ার সোমনাথ কুনার প্রমুখ বলেছেন, তারা সকলেই এক লাখ টাকার কাছাকাছি খরচ করে অ্যাম্বুল্যান্সে বৈধ ই-পাস নিয়ে ফিরেছেন। পথে তিন থেকে চার রাজ্য কোনও সমস্যা না করলেও নিজের রাজ্যে তাদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। স্বাস্থ্য পরীক্ষার কথা বললেও কোনও পরীক্ষা হচ্ছে না। গাদাগাদি করে হোটেলে, স্কুলঘরে ফেলে রাখা হয়েছে। মাত্র দুটি বাথরুম শতাধিক মানুষ ব্যবহার করছেন। নিম্নমানের খাবার দেওয়ারও অভিযোগ তুলেছেন তারা। দিনের পর দিন ফেলে না রেখে অবিলম্বে তাদের বাড়ি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান তারা।

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে বিক্ষোভ সামলাতে ছুটে আসে দাঁতন থানার পুলিশ। শেষমেশ পুলিশের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয় যে যারা দূরের জেলার বাসিন্দা তাদের খড়্গপুরে নিয়ে গিয়ে করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হবে। আর যারা পশ্চিম মেদিনীপুর ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলির বাসিন্দা তাদের সেখানেই নমুনা সংগ্রহ করার পর ছাড়া হবে। এ প্রসঙ্গে জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক গিরিশচন্দ্র বেরা বলেছেন, ভিনরাজ্যে চিকিৎসা করাতে যাওয়া অনেকেই একসঙ্গে এসে হাজির হওয়াতেই সমস্যা বাড়ছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রত্যেককে কোয়ারেন্টিনে সেন্টারে রেখে ধাপে ধাপে করোনা টেস্ট করে তারপর ছাড়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here