লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থান, সঙ্গে পুনর্বাসনের আশ্বাস! মমতার ঘোষণায় খুশি ডেউচা-পাঁচামি

0
987
kolkata bengali news

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিউড়ি: দীর্ঘ কয়েক বছর টালবাহানার পর ডেউচা পাঁচামি কোল ব্লকের ছাড়পত্র দিয়েছে কেন্দ্র সরকার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুধবার নবান্ন থেকে সেই কথা ঘোষণা করতেই খুশির হাওয়া দেখা দিয়েছে ডেউচা-পাঁচামিতে। এলাকার উন্নয়ন থেকে কর্মসংস্থান সব কিছুই হবে শুনে এখন আশায় বুক বাঁধছেন জেলার মানুষ। স্থানীয়দের স্বার্থরক্ষা করে এই শিল্প হবে বলে আশাবাদী সব মহলের মানুষ। ডেউচা পাঁচামি কয়লা খনির প্রস্তাবিত এলাকায় বর্তমানে জেলার এক মাত্র শিল্প এলাকায় ১৫০টি খাদান ও প্রায় ৪৫০টি পাথর ভাঙার মেশিন আছে। এই পাথর শিল্পাঞ্চলে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে জড়িত। সেখানে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা মতো কয়লা খাদান হলে লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থান হবে। এর সঙ্গে নতুন রাস্তা, সেতু, হাসপাতাল, স্কুল-কলেজ, বাজার তৈরি হবে। তাতেও হবে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কাজ। মুখ্যমন্ত্রীর ছাড়পত্র পাওয়ার ঘোষণার পর তাই এখন এলাকা জুড়ে খুশির হাওয়া দেখা দিয়েছে এলাকার আদিবাসী ও সংখ্যালঘু অধ্যুষিত পরিবারগুলির মধ্যে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়ছে, বেঙ্গল বীরভূম কোলফিল্ড লিমিটেদের এই কয়লা প্রকল্পের ভৌগলিক অবস্থান বীরভুমের সিউড়ি সদর মহকুমার মহম্মদবাজার ব্লকের ডেউচা-পাঁচামী, দেওয়ায়গঞ্জ ও হরিনসিঙ্গা কয়লা খনি প্রকল্প এরিয়াটি নিয়ে। ডেউচা, হিংলো, ভারকাটা, সেকেড্ডা ও পুরাতনগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের হাটগাছা, চান্দা, বাহাদুরগঞ্জ, সালুকা, মকদুমনগর, কবিলনগর, নিশ্চিন্তপুর, দেওয়ানঞ্জ, আলিনগর এবং হরিনসিঙ্গা মৌজা এলাকার জমিতে এই কয়লা উত্তোলন হবে। ডেউচা-পাঁচামী এলাকায় ৯.৭ বর্গ কিমি এবং দেওয়ানগঞ্জ-হরিনসিঙ্গা এলাকার ২.৬ বর্গ কিমি এরিয়াতে এই কয়লা মজুদ রয়েছে। উপরের স্তরে কালো পাথর তোলার সঙ্গে সঙ্গে কয়লা উত্তোলন করা হবে। এই প্রকল্পের উৎপাদিত কয়লা মূলত তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পে ব্যবহৃত হবে। পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বিহার, পাঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ, কর্ণাটক ও তামিলনাড়ুর সঙ্গে যৌথ অংশীদারিত্বে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও পরে ওই সমস্ত রাজ্যগুলির পিছিয়ে যায় এবং পুরোপুরি দায়িত্ব বর্তমানে আমাদের রাজ্যের হাতে আসে। দেশের সর্ববৃহৎ এই কয়লা খনিতে সরাসরি ১ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে দাবি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

এছাড়া এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত মানুষের দৈনন্দিন চাহিদা মেটানো জন্য বিভিন্ন ভাবে কয়েক লক্ষ মানুষের পরোক্ষ ভাবেও কর্মসংস্থান হবে। এর ফলে জেলার পরিকাঠামোর উন্নয়ন হবে ব্যাপক ভাবে। এই প্রকল্পে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে কয়লা উত্তোলনের কাজ শুরু হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাঁচামি মাইনস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নাজির হোসেন মল্লিক এদিন বলেন, ‘রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগকে আমরা সাধুবাদ জানাই। এর ফলে আমাদের জেলা দেশের শিল্প মানচিত্রে উল্লেখযোগ্য স্থান করে নেবে। তবে কিভাবে প্রথমে পাথর তুলে তারপরে কয়লা উত্তোলন করা হবে সে বিষয়টি পরিষ্কার এখনও হয়নি। ওই প্রক্রিয়াটি খুব জটিল। সব পক্ষেরই স্বার্থরক্ষা করেই প্রকল্প হোক।’ মহম্মদবাজার ব্লক বিজেপি সভাপতি দীনবন্ধু কর্মকার এদিন আবার জানিয়েছেন, ‘বহুদিন থেকেই মুখ্যমন্ত্রী কয়লা শিল্পের কথা বলে আসছেন কিন্তু এখনও বাস্তবায়নের কিছুই হয়নি। শিল্পকে অবশ্যই স্বাগত জানাই। কিন্তু প্রস্তাবিত এলাকায় সমস্ত মানুষের স্বার্থ সুরক্ষিত করতে হবে।’ বীরভূম জেলা আদিবাসী উন্নয়ন গাঁওতার নেতা সুনীল সোরেন এদিন বলেন, ‘ডেউচা পাঁচামি কোল ব্লকের প্রস্তাবিত এলাকাতে বহু আদিবাসী মানুষের বসবাস। কোনভাবেই তাদেরকে বঞ্চিত করে কোন কাজ করা যাবে না। তাছাড়া ওই এলাকাতেও প্রচুর জঙ্গল আছে। সে বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হবে। তবে শিল্প উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here