মহানগর ওয়েবডেস্ক: গত ৩ জুলাই গুলি করে আট পুলিশকর্মীর হত্যার পর থেকেই খোঁজ চলছিল বিকাশ দুবের। নাগাড়ে কয়েকদিন তল্লাশির পর অবশেষে ৯ জুলাই মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়নের মহাকাল মন্দির থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তবে এদিন কানপুর নিয়ে আসার আগেই খেল খতম হয় দুবের। উত্তরপ্রদেশ পুলিশের এনকাউন্টারে মৃত্যু হয় বর্তমানে দেশের অন্যতম মোস্ট ওয়ান্টেড অপরাধীর। তার মৃত্যুতে আনন্দিত গোটা দেশই। তবে বিকাশ দুবের ভিটে, অর্থাৎ বিকরু গ্রামে আজ উৎসবের মেজাজ।

স্থানীয় সূত্রে খবর, গোটা গ্রামে বিকাশ দুবের প্রভাব এতটাই ছিল যে তার আত্মীয় এবং গ্রামবাসীরাও তার ভয়ে তটস্থ হয়ে থাকত। এনকাউন্টারে বিকাশ দুবের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকেই তাই মিষ্টি বিতরণ করা হচ্ছে উত্তরপ্রদেশের কানপুরের অদূরে থাকা বিকরু গ্রামে। স্থানীয়দের দাবি, পুরো গ্রাম আজ উৎফুল্ল। মনে হচ্ছে যেন অবশেষে আমরা স্বাধীন হয়েছি। আতঙ্কের একটা যুগ শেষ হয়েছে। প্রত্যেকে আজ ভীষণ ভীষণ খুশি।

১৯৯০ সাল থেকে শুরু হওয়া বিকাশের একের পর এক কাণ্ড আজও ভোলেনি গ্রামবাসীরা। প্রথমে নিজের বাবার অপমানের বদলা নিতে সে মারপিট শুরু করেছিল। এরপর ১৯৯২ সালে ওই গ্রামে ঘটে যাওয়া এক সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাতেও সক্রিয় ভূমিকা নেয় সে। বিকাশ কয়েকজনের উপর এমন অত্যাচার চালিয়েছিল যে তারা নিজেদের স্মৃতিশক্তি পর্যন্ত হারিয়ে ফেলে। জাতে ব্রাহ্মণ হওয়ার গর্বও কম ছিল না বিকাশের। গ্রামে খাবার জলের নলকূপ ছিল না কয়েক বছর আগে পর্যন্ত। সেই সময় বিকাশের ঘরের কাছে একটি কুয়ো থেকে জল তুলে পান করতেন সকলে। কিন্ত সেই কুয়ো থেকে জল তোলার জন্যও বিকাশের অনুমতি লাগত। তার অনুমতি ব্যাতিত জল তুলে পান করলে সেই ব্যক্তির ভাগ্যে জুটত অসহনীয় অত্যাচার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here