kolkata bengali news

নিজস্ব প্রতিবেদক, শিলিগুড়ি: পাত্রপক্ষের চাহিদা মত পণ দিয়েও শেষ রক্ষা হল না গৃহবধূর। তাই অকালে বিনা কারণে প্রাণ গেল নিষ্পাপ যুবতীর। ঘটনায় পাত্রীপক্ষের তরফে মৃতার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে অত্যাচারের অভিযোগ দায়ের করা হল নিউ জলপাইগুড়ি থানায়। পুলিশ অভিযুক্ত ছেলের বাবাকে গ্রেফতার করলেও পলাতক মৃতার স্বামী। পাশাপাশি ওই গৃহবধূর মৃত্যুর বিচার চেয়ে এবার রাস্তায় নামলেন এলাকাবাসী। তার জেরেই শিলিগুড়ি শহরে ছড়ালো চাঞ্চল্য।

জানা গিয়েছে, মাস চারেক আগে সোশ্যাল সাইটে প্রেম হয়েছিল শিলিগুড়ি দেশবন্ধু পাড়ার রক্তিম বসুর সঙ্গে মাটিগাড়া তুলসী নগরের মৌমিতা কারজির। আর সেই প্রেমের সম্পর্ক ধীরে ধীরে এতটাই পূর্ণতা পায় যে শেষ পর্যন্ত তারা নিজেদের বাড়িকে উপেক্ষা করেই এক মাস আগে বিয়ে করেছিল। এ পর্যন্ত সব কিছু ঠিকঠাক চললেও সমস্যা শুরু হয় ঠিক বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই। জানা গেছে বিয়ের পর থেকেই মৌমিতার শ্বশুরবাড়ির থেকে বারে বারে ফোন করে মৌমিতার বাড়িতে টাকার জন্য জোর দেওয়া হতো। এখানেই থেমে যায়নি ছেলের বাড়ির লোভ। জানা গেছে আসবাবপত্রের জন্য বেশ কয়েকবার জোর দেওয়া হয়েছিল পাত্রীপক্ষের বাড়িতে। পাত্র পক্ষের সব দাবি মানার পরেও শুক্রবার মৌমিতার বাবার বাড়িতে তার শ্বশুর বাড়ি থেকে ফোন আসে মৌমিতা আত্মহত্যা করেছে বলে। ঘটনাস্থলে পরে মেয়ের বাড়ির লোকজন গেলে মৃত মৌমিতাকে দেখে তাদের সন্দেহ হয়। এর পরেই সমস্ত ঘটনা জানিয়ে সেদিনই নিউ জলপাইগুড়ি থানায় মৃত গৃহবধূর পরিবারের পক্ষ থেকে তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।

ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ সেদিন মৃতার শ্বশুরকে গ্রেপ্তার করলেও পলাতক গৃহবধূর স্বামী রক্তিম বসু। তবে ঘটনার বেশ কয়েক দিন কেটে গেলেও পুলিশ এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি রক্তিম বসুকে। তাই শুক্রবার মৌমিতার বাবার বাড়ির পক্ষ থেকে এলাকাবাসীরা গিয়ে অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তি দাবি তুলে থানায় বিক্ষোভ দেখায়। দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ চলার পর পুলিশের আশ্বাসে বিক্ষোভ তুলে নেয় বিক্ষোভকারীরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here