kolkata bengali news

নিজস্ব প্রতিবেদক, আসানসোল: অনেক হয়েছে। আর না। আট বছর কেটে গিয়েছে। পুনর্বাসন মেলেনি। তাই এবার আর ভোট নয়। আসানসোলের জামুড়িয়ার ছাতিমডাঙা এলাকায় অবৈধ খননের ফলে নেমেছিল ধস। মাটির নিচে চাপা পড়ে গিয়েছিল পাঁচ-পাঁচটি তাজা প্রাণ। ভেঙে পড়েছিল ঘরবাড়ি। গৃহহীন বাসিন্দাদের অস্থায়ী আস্তানা হয়েছিল শ্রীপুরের পরিত্যক্ত হাসপাতাল। পুনর্বাসনের আওতায় আনা হয়েছিল বেশ কিছু পরিবারকে। কথা দিয়েছিলেন সবাই। কিন্তু রাজনৈতিক দলের লোকজন যে কথা রাখেন না, এই আট বছরে বেশ বুঝে গিয়েছেন তারা। তাই সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আর ভোট না।

আশি বছরের বৃদ্ধ সহদেব বাউরি। সেদিনের দুর্ঘটনার স্মৃতি এখনও তাজা তার কাছে। কাঁপা গলায় তিনি বললেন, দেখলাম ভেঙে পড়ল বাড়ি। মাটির নিচে ঢুকে গেলো সব। চোখের সামনে চলে গেল পাঁচ-পাঁচটি প্রাণ। ভাই মারা গেল। কোনওমতে বাঁচলাম ভাইপোটাকে। তারপর ? তারপর পার্টিওয়ালা নিয়ে এলেন ভগ্নপ্রায় একটা ঘরে। থাকতে দিলেন। বললেন ঘর দেবেন। ক্ষতিপূরণ দেবেন। কিন্তু পেরিয়ে গেল আট-আটটা বছর। হল না কিছুই। ক্যামেরা দেখে ছুটে এসে প্রতিমা, বাদলীরা বললেন, ২০১১ সালের কথা। হঠাৎ কেঁপে উঠল ঘরবাড়ি। ভেঙে গেল সব কিছু। না, পার্টিওয়ালারা কেউ কিছু করেন নি দীর্ঘ এই সময়ে৷ সবাই নীরব দর্শক হয়েই থেকে গেছে৷ চাল দিচ্ছিল, তাও বন্ধ হল। অনেক ভোট পার হল।

 

আবার ভোট আসছে। আর নয়। ভোটের আগে হাজার এক প্রতিশ্রতি দেওয়া হলেও ভোট পেরোলেই সবাই উধাও কারও দেখা মেলেনা৷ বদলায়না আমাদের পরিস্থিতিও৷ তাই আর এই প্রতিশ্রুতিতে ভোলানো যাবে না জামুড়িয়ার ভিটেমাটি হারানো মানুষকে। সারা বছর যখন কেউ তাদের কথা ভাবেন না তখন নাই বা দিলেন ভোট এরকম সিদ্ধান্তেই অটল থাকতে চান জামুড়িয়ার ছাতিমডাঙার ঘরহারা পরিবারগুলি৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here