kolkata news

নিজস্ব প্রতিনিধি, উত্তর দিনাজপুর: বছরের এই একটা দিন কোনও বাধা মানে না, মাঝে থাকা সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়াও নয় কিংবা সীমান্তরক্ষী বাহিনীর চোখ রাঙানি। ওপার বাংলা আর এপার বাংলার মানুষ একে অপরকে শুভেচ্ছা জানায়, উপহার দেওয়া নেওয়া করে। কিন্তু মাঝখানে অবশ্যই থাকে দেশ বিভাজনের কাঁটাতারের বেড়া। এই কাঁটাতারের বেড়াকে সাক্ষী রেখেই কার্যত দুই দেশের মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয় উত্তর দিনাজপুর জেলার হেমতাবাদ ব্লকের মাকড়হাট ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত।

একবছর পরে আজকের দিনেই ওপার বাংলায় থাকা আত্মীয়-স্বজনরা দেখা করতে ভিড় জমায় কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘেরা সীমান্তে। ঠিক একই অনুভূতি এপার বাংলায় থাকা আত্মীয়-স্বজনদেরও। ঘণ্টা দু’য়েকের জন্য বিএসিএফ-এর অধীনে থাকা মাকড়হাট সীমান্তের এই রাস্তা এপার ওপার দুই বাংলার মানুষের মিলনক্ষেত্র হয়ে ওঠে। দূর থেকে সীমান্তের বেড়াজালের ভেতর অস্পষ্ট দৃষ্টিতে খুঁজে পান দেশ বিভাজনে দূরে সরে যাওয়া প্রিয়জনকে।

প্রতিবছর ১৩ ডিসেম্বর দিনটি এপার বাংলার উত্তর দিনাজপুর জেলার আর ওপার বাংলার দিনাজপুর জেলার বাসিন্দাদের পরম আকাঙ্ক্ষিত দিন। এই দিনই দুই পারে থাকা প্রিয়জনেরা একে অপরের সঙ্গে দেখা করতে পারেন, কথাও বলতে পারেন। তবে দু’জনের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করে রাখে সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া। কাঁটাতারের বেড়ার ফাঁকেও একটিবারের জন্য ওপারে থাকা প্রিয়জনকে দেখার জন্য দুই জেলার হাজার হাজার মানুষ ভিড় জমান হেমতাবাদ ব্লকের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত মাকড়হাটে। কাঁটাতারের বেড়ার ওপর দিয়ে ছুড়ে দেওয়া নেওয়া হয় উপহার সামগ্রী। যদিও তা সীমান্তে প্রহরারত বিএসএফ জওয়ানদের উপেক্ষা করেই। কিছুটা হলেও মানবিকতার খাতিরে নরম হয়ে যান জওয়ানরাও। তবে সতর্ক দৃষ্টিতে নজর রাখেন তারা।

বিএসএফ-এর কড়া নজরদারি থাকলেও কোনও বাধাই যেন মানতে চায় না তাদের মন। দূর থেকে প্রিয়জনকে দেখে চোখের কোন চিকচিক করে ওঠে তাদের। যে যার বাড়িতে ফিরে গিয়ে নিজেদের আশ্বস্ত করে এই ভেবে যে, প্রিয়জনদের একবার চোখের দেখা তো দেখতে পাওয়া গেল!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here